ডাক্তারের সাথে আমি একমত, বলল পিট। দ্বীপটা প্রায় নিরেট পাথর। শুধু শক ওয়েভে ওটা টলমল করবে, তারপর কাত হয়ে পড়ে যাবে বলে মনে হয় না।
এক মুহূর্ত কথা না বলে হাসলেন কার্টিস মিকার। না, অবশেষে বললেন তিনি। কাত হয়ে পড়বে না। তবে ডুবে যাবে।
.
৬৩.
শেরিডান থেকে প্রায় পঁচিশ মাইল-পুর্বে, মন্টানা সীমান্তের ঠিক দক্ষিণে, ঘোড়ার পিঠে বসে চারদিকে দৃষ্টি বুলাচ্ছে ড্যান কিগান। কিছু দিন হলো এদিকটায় অবৈধ শিকারীদের উপদ্রব বেড়ে গেছে, মাসখানেক আগে এক শিকারীর লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ায় হরিণের বদলে মারা গেছে তার একটা বাছুর। বিকেলের নাস্তার জন্যে হাত-মুখ ধোবার সময় হয়েছে, হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এল দুটো গুলির শব্দ। স্ত্রীকে অপেক্ষা করতে বলে মাউজার বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেলটা নিল সে, প্রিয় ঘোড়ার পিঠে চড়ে রওনা হয়ে গেল।
দুই পাহাড়ের মাঝখানের ট্রেইল ধরে ছুটলো ড্যান, এক সময় বেরিয়ে এলো খোলা প্রান্তরে। চারপাশে খুঁটিয়ে তাকাতেই টায়ারের ছাপ পেয়ে গেল সে। চাকার দাগ ধরে খানিক দূর যেতেই খরচ করা শেল কেসিং, বুটের ছাপ, বালুবহুল মাটিতে রক্ত দেখতে পেল। শিকারী তার ধরাশায়ী শিকার নিয়ে চলে গেছে।
দেরি হয়ে যাওয়ায় নিজের ওপর রেগে গেল ড্যান। তার রেঞ্জে কেউ গাড়ি নিয়ে ঢুকেছিল, তার মানে হয় বেড়া ভেঙেছে নয়তো গেট। গেটের সামনে প্রাইভেট রোড, চলে গেছে তাইওয়েতে। একটু পরই সন্ধ্যে হবে, কাজেই কতটা কি ক্ষতি হয়েছে দেখার জন্যে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাকে। ঘোড়ায় চড়ে বাড়ির পথ ধরল সে।
খানিক দূর এসে লাগাম টেনে ধরল ড্যান। বাতাসে ভেসে আসছে এঞ্জিনের অস্পষ্ট আওয়াজ। এক হাত দিয়ে কানের পেছনটা আড়াল করে মনোযোগ দিয়ে শুনল সে। শব্দটা বাড়ছে। একটা ঢাল বেয়ে মাথায় উঠে এলো ড্যান, নিচের সমতল প্রান্তরে চোখ বুলাল। রাস্তা ধরে দ্রুত বেগে ছুটে আসছে একটা গাড়ি, পেছনে ধুলোর মেঘ তুলে।
ট্রাক বা জীপ হবে বলে আশা করলেও, চেনার মতো কাছাকাছি আসার পর ড্যান দেখল ওটা একটা সাধারণ গাড়ি, খয়েরি রঙের ফর-ডোর সিডান, জাপানি।
একটু পরই ব্রেক করল ড্রাইভার, খোলা রাস্তায় দাঁড়াল। ধীরে ধীরে গাড়ির ছাদে ও রাস্তার পাশে ঘাসের ওপর নেমে এলো ধুলোর মেঘ। গাড়ি থেকে নামল ড্রাইভার, হুডটা খুলল, ঝুঁকে থাকল কয়েক সেকেন্ড। এরপর গাড়ির পেছনে চলে এল সে, ট্রাঙ্ক-এর ঢাকনি তুলল, বের করল সার্ভেয়ারের একটা ট্রানজিট। রাগ নয়, কৌতূহল বোধ করলো ড্যান। তেপায়ার ওপর ট্রানজিটটা বসিয়ে কয়েকটা ল্যান্ডমার্কের দিকে লেন্স তাক করল ড্রাইভার, ক্লিপবোর্ডে আটকানো কাগজে রিডিং লিখল, রাস্তার উপর মেলা জিওলজিক্যাল ম্যাপের সাথে মিলিয়ে দেখল।
ট্রানজিট ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা ড্যানের আছে, কিন্তু এভাবে কাউকে সার্ভের কাজ করতে দেখে নি কোনোদিন। বেসলাইন সম্পর্কে ধারণা পাবার বদলে লোকটা যেন নিজের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছে। হাঁ হয়ে গেল ড্যান, কারণ হাতের ক্লিপবোর্ডটা ছুঁড়ে রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভেতর ফেলে দিল ড্রাইভার।
গাড়ির সামনে হেঁটে এসে আবার এঞ্জিনের দিকে তাকিয়ে থাকল সে, ওটা যেন তাকে সম্মোহিত করে ফেলেছে।
বেশ কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে ধ্যান করার পর একটা ঝাঁকি খেয়ে সচল হলো লোটা, গাড়ির ভেতর হাত গলিয়ে বের করে আলন একটা রাইফেল।
ব্যাপারটা মেলাতে পারছে না ড্যান। টাই বিজনেস স্যুট পরা সার্ভেয়ার জীবনে কখনো দেখে নি সে। অচেনা এলাকায় সার্ভে করতে এসে অন্যায় জেনেও শিকার করবে, এ-ও বিশ্বাস্য বলে মনে হয় না।
ঘোড়া নিয়ে আরও কাছাকাছি চলে এলো সে, আগুন্তুকের পেছন দিকে থেকে এগোচ্ছে। রাইফেলে একটা শেল ঢোকাবার চেষ্টা করছে লোকটা, জানে না তার পেছনে চলে এসেছে সে। লোকটার ভাব দেখে মনে হলো, রাইফেলে শেল ঢোকানোয় অভ্যস্ত নয়। আট মিটার দূরে থাকতে লাগাম টানল ড্যান, লেদার কেস থেকে মাউজারটা বের করে হাতে নিল।
আপনি অনধিকার প্রবেশ করেছেন, জানেন কি?
লাফ দিল ড্রাইভার, দ্রুত ঘুরলো তার দিকে। হাত থেকে পড়ে গেল একটা শেল, রাইফেলের ব্যারেলটা ধাক্কা খেল গাড়ির সঙ্গে। এতোক্ষণে তাকে এশিয়ান বলে চিনতে পারল ড্যান।
কী চান আপনি? হতভম্ব লোকটা জানতে চাইল।
আপনি আমার জমিনে দাঁড়িয়ে আছেন। ঢুকলেন কীভাবে?
গেটটা ভালো ছিল।
ড্যান যা ভেবেছিল তাই। শিকারীদের কাণ্ড, যাদেরকে ধরতে পারে নি সে। সার্ভেয়ারের ট্রানজিট নিয়ে কী করছেন আপনি?
আপনি কি সরকারের লোক?
না… আমি মিয়াটা কমিউনিকেশন-এর এঞ্জিনিয়ার।
লোকটা ইংরেজিতে জবাব দিচ্ছে, তবে উচ্চারণে জাপানি প্রভাব স্পষ্ট। একটা রিলে স্টেশন বসানোর জন্যে আশপাশটা ঘুরে ফিরে দেখছি।
কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ঢোকার আগে অনুমতি লাগে, জানেন না? কী করে ধরে নিলেন রিলে স্টেশন বসানোর অনুমতি দেব আমি?
আপনার সাথে যোগাযোগ করা উচিত ছিল আসলে আমার বসের।
ছিল বৈকি, বলল ড্যান। খিদে পেয়েছে তার, দিনের আলো থাকতে ঘরে ফিরতে চায়। এবার দয়া করে বিদায় হোন। আবার যদি কখনো আসতে চান, প্রথমে আমার অনুমতি নেবেন।
আপনার অসুবিধের জন্যে সত্যি আমি দুঃখিত।
