চেয়ার ছেড়ে একটা ব্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়ালেন কার্টিস মিকার, প্রথমে তিনি চক দিয়ে বি-টোয়েনটিনাইন ও সোসেকি দ্বীপের ছবি আঁকলেন, তারপর সাগরের তলার কয়েকটা বৈশিষ্ট্য। আমার বক্তব্য শুরু করার আগে আপনাদেরকে আমি একটা দুঃসংবাদ শোনাতে চাই, হাসিমুখে বললেন তিনি। ড্রাগন সেন্টারের ইলেকট্রিকাল নেটওয়ার্কে আপনারা যে বিস্ফোরক ব্যবহার করেছেন তাতে কোনো কাজ হয় নি।
আমার রেখে আসা বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয় নি, এমন ঘটনা কখনো ঘটে নি, জোর দিয়ে বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
আপনার চার্জ ফেটেছে ঠিকই, বললেন কার্টিস শিকার, তবে যেখানে রেখে এসেছেন সেখানে নয়। মি. জশ নগামি এখনো যদি কমান্ড কমপ্লেক্সে ডীপ কাভর এজেন্ট হিসেবে উপস্থিত থাকতেন উনি আপনাকে বলতে পারতেন যে ওটা ফেটেছে ইলেকট্রিক নেটওয়ার্ক সেন্টার থেকে পঞ্চাশ মিটার দুরে।
তা কি করে সম্ভব! বিস্ময় প্রকাশ করল স্টেসি। আমি নিজের চোখে এক বান্ডিল অপটিক ফাইবারের গায়ে বিস্ফোরক বসাতে দেখেছি ওঁকে।
ওটা সরিয়ে ফেলা হয়, চিন্তিত সুরে বলল ডাক্তার নগামি।
কীভাবে?
সম্ভবত কোনো রোবট ইন্সপেক্টর দায়ী। পাওয়ার পালস রেটে তারতম্য ঘটায় সন্দেহ হয় তার, খোঁজ নিতে গিয়ে বিস্ফোরক দেখে ফেলে। রোবোটিক কন্ট্রোলকে জিজ্ঞেস করে ওটা সরিয়ে ফেলে সে।
তার মানে ড্রাগন সেন্টারের কোনো ক্ষতিই হয় নি? চেহারা ম্লান হয়ে গেল ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোর।
ড্রাগন সেন্টার যদি অক্ষত থাকে, এরপর শুনব এখানে সেখানে ফাটতে শুরু করেছে গাড়ি-বোমাগুলো, উদ্বিগ্ন সুরে বলল স্টেসি।
ঠিক তাই, একমত হলেন কার্টিস মিকার।
টিমোথি ওয়েদারহিল হতাশায় মাথা নাড়লেন। ছি-ছি, আসল কাজটাই করতে পারি নি আমরা।
কার্টিস মিকার একটা হাত তুলে ওদেরকে থামিয়ে দিলেন, বললেন, যথেষ্ট করেছেন আপনারা। সুমাকে ধরে এনেছেন এবং তাকে ছাড়া গাড়ি-বোমা ডিটোনেট করা যাবে না।
তার মানে? বিস্মিত হলো স্টেসি।
সকৌতুকে ডাক্তার নগামির দিকে তাকাল পিট, বলল, আমার ধারণা, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন সুচিকিৎসক ড. নগামি।
সবিনয়ে মাথা ঝাঁকাল ডাক্তার। কমপিউটার টেকনিশিয়ানদের সাথে বন্ধুত্ব হবার পর কিছু কিছু ইনফরমেশন পাই আমি, বলল সে, মুখে চওড়া হাসি। ওদের সেন্টারে অবাধ যাতায়াত ছিল আমার। একবার এক প্রোগ্রামার-এর পেছনে দাঁড়িয়ে দেখি, কেইটেন প্রজেক্ট সংক্রান্ত ডাটা কমপিউটারে ঢোকাচ্ছে। এন্ট্রি কোড মুখস্ত করে নিই আমি। তারপর প্রথম সুযোগেই সিস্টেমটা পরীক্ষা করি। গাড়ি-বোমার লোকেশন জেনে ফেলি আমি, তা অবশ্য আপনারাও জেনে ফেলেছেন। কিন্তু ডিটোনেশন সিস্টেমে ভাইরাস ঢোকাতে ব্যর্থ হই। কারণ পরে জানতে পারি ডিটোনেশন কোড জানে একমাত্র সুমা।
তার মানে সুমাকে ছাড়া ওদের কেইটেন প্রজেক্ট সফল হচ্ছে না। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল স্টেসি।
ওদের জন্যে এটা একটা সমস্যা, তবে কাটিয়ে ওঠার জন্যে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে, বললেন মিকার। ওরা ওদের প্রাইম ও ডিটোনেট সিস্টেম রিপ্রোগ্রাম করার আগেই চরম আঘাত হানতে হবে আমাদের। টিম স্টাজকে ধন্যবাদ, আপনারা সুমাকে নিয়ে আসায় প্ল্যান-প্রোগ্রাম করার জন্যে হাতে খানিকটা সময় পেয়েছি আমরা।
আর প্ল্যান-প্রোগ্রামের অন্যতম উপাদান হলো ডেনিংস ডেমনস, ঠিক বলি নি? জিজ্ঞেস করল পিট।
একটা ডেস্কের পেছনে শিরদাঁড়া খাড়া করে বসলেন কার্টিস মিকার। নিজের রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করার ঝুঁকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ড্রাগন সেন্টারে পারমাণবিক আঘাত হানবেন। আপনারা পালাতে পেরেছেন, এ কথা শুনে নির্দেশটা বাতিল করে দেন তিনি। নতুন নির্দেশে বলেছেন, তিনি দেখতে চান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ড্রাগন সেন্টারের কোনো অস্তিত্ব নেই।
বি-টোয়েনটিনাইনে, একটা অ্যাটম বোমা আছে, আপনারা ওটাকে ফাটিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন, বলল পিট, ক্লান্তিতে আধবোজা হয়ে আছে ওর চোখ।
না, বললেন কার্টিস মিকার। ফাটাবার আগে খানিক দূরে সরাতে হবে ওটাকে।
কিন্তু প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে সোসেকি দ্বীপ, বোমাটা ফাটালে কি এমন ক্ষতি হবে ওটার? জানতে চাইল অ্যাল।
একদল ওশেনোগ্রাফার ও একদল জিয়োফিজিসিস্ট জানিয়েছেন, আন্ডারওয়াটার অ্যাটমিক বিস্ফোরণে ড্রাগ সেন্টার ধ্বংস হয়ে যাবে।
আমি জানতে চাই, কিভাবে? প্রশ্নটা করার সময় একটা ঝাঁকি খেল স্টেসির শরীর, যেন হঠাৎ সে তার নগ্ন হাঁটুতে মশার কামড় খেয়েছে।
চেয়ার ছেড়ে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দিয়ে দাঁড়ালেন কার্টিস মিকার। প্লেন ও সোসেকি দ্বীপের মাঝখানে, সাগরের মেঝেতে, একটা আঁকাবাঁকা রেখা আঁকলেন তিনি। এটা হলো বড় ধরনের একটা প্যাসিফিক সিসমিক ফল্ট সিস্টেমের একটা অংশ, প্রায় সরাসরি ড্রাগন সেন্টারের তলা দিয়ে এগিয়ে গেছে। প্লেন ওখানেই পড়েছে।
ইতস্তত করল ডাক্তার জশ নগামি, এদিক ওদিক মাথা নাড়ল তারপর বলল, সেন্টারটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও নিউক্লিয়ার অ্যাটাক হজম করতে পারে। এতো বছর ধরে লোনা পানিতে পড়ে থাকার পর বোমাটা আদৌ ফাটে কিনা সন্দেহ, আর যদি ফাটেও, ফল্টটা হয়তো আকারে বড় হবে, কিন্তু দ্বীপটার তেমন কোনো ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না।
