এখানেও সময়ের প্রশ্ন এসে যায়, তাকেদা কোরোজিমা বলল। ডিটোনেশন সাইটে গাড়ি নিয়ে যাবার প্রোগ্রাম করা হয়েছে রোবটকে, তাকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে অন্য কোনো কাজে লাগবে না। আপনি জানেন, আমাদের সব কাজই জরুরি ভিত্তিতে তাড়াহুড়োর সাথে সারা হয়েছে।
একটা রোবো গার্ডকে মডিফাই করা যায় না?
সিকিউরিটি রোবটের ডিজাইন করা হয়েছে চলাফেরা ও গুলি ছোঁড়ার জন্যে ওগুলো গাড়ি চালাতে পারবে না।
কাজটা করতে পারবে এ রকম একটা রোবট তৈরি করতে অসুবিধে কী? কী রকম সময় লাগবে?
কয়েক সপ্তাহ, এক মাসের কম নয়।
পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে একটা গাড়ি-বোমা অবশ্যই ফাটাতে হবে। আমরা আঘাত হানতে পারি, এটা প্রমাণ করতে না পারলে ড্রাগন সেন্টার ধ্বংস করে দেবে আমেরিকা।
সেক্ষেত্রে, মি. ইচিরো সুবোই, একজন লোক দরকার আমাদের। একেবারে কাছ থেকে গুলি করে বোমাটা ফাটাতে হবে তাকে। সমস্যা হলো, ওটা একটা অ্যাটম বোমা।
.
৬২.
বৈঠক করছেন মেল পেনার। ইঙ্গিতে দুই ভদ্রলোককে দেখালেন তিনি, একজন বসে আছেন, অপরজন পেছনের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে।
প্রথমে আপনাদেরকে ব্রিফ করবেন কাইড ইনগ্রাম। ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির বিজ্ঞান ও কারিগরি তথ্য বিভাগের পরিচালক উনি। একটা জিনিস আবিষ্কার করেছেন, আপনাদেরকে ব্যাখ্যা করে শোনাবেন। তারপর কার্টিস মিকার বলবেন তার উর্বর মস্তিষ্কে কি সব উঁকি দিচ্ছে। অ্যাডভান্সড টেকনিক্রাল অপারেশনস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর উনি।
কাপড় ঢাকা একটা ইজেলের সামনে এসে দাঁড়ালেন কাইড ইনগ্রাম। কাপড়টা সরিয়ে ফেলতেই বড় একটা ফটোগ্রাফ দেখা গেল, দেখে মনে হলো পুরানো একটা প্লেন। এখানে আপনারা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়কার একটা বি-টোয়েনটিনাইন সুপার ফোরট্রেস দেখতে পাচ্ছেন, পড়ে আছে সোসেকি দ্বীপ থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে সাগরের তলায়, সারফেস থেকে প্রায় এক হাজার ফুট নিচে।
ছবিটা অত্যন্ত পরিষ্কার, বলল স্টেসি। নিশ্চয়ই কোন সাবমারসিবল থেকে ভোলা হয়েছে?
না। আমাদের পিরামিডর ইলেভেন রিকনিসনস স্যাটেলাইট আবিষ্কার করেছে। প্লেনটাকে, সোসেকি দ্বীপের উপর দিয়ে যাবার সময়।
একটা অরবিটিং স্যাটেলাইট সাগরের তলার ছবি এত পরিষ্কার ভোলে কিভাবে?
কিভাবে তোলে ব্যাখ্যা করতে গেলে চার-পাঁচ ঘন্টা সময় লাগবে, বললেন কাইড ইনগ্রাম। কাজেই সে ঝামেলায় আমি যাচ্ছি না।
ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো তার চেয়ারে নড়েচড়ে বসলেন। পুরানো একটা বম্বারের তাৎপর্যটুকু ব্যাখ্যা করলেই হবে। কেইটেন প্রজেক্টের সাথে ওটার সম্ভাব্য সম্পর্ক কী হতে পারে?
ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসের দিকে দিকে একবার তাকিয়ে ফটোর গায়ে পেন্সিল দিয়ে টোকা দিলেন কাইড ইনগ্রাম। এই প্লেনটা সোসেকি দ্বীপ ও ড্রাগন সেন্টার ধ্বংস করতে যাচ্ছে।
স্বভাবতই মুহূর্তের জন্যেও কেউ তার কথা বিশ্বাস করল না। নিস্তব্ধতা ভাঙল অ্যাল, ওটাকে উদ্ধারের পর মেরামত করতেই তো কয়েক মাস সময় লাগবে।
প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরানো একটা প্লেন ড্রাগ সেন্টারের গায়ে একটা আঁচড়ও কাটতে পারবে না, ডাক্তার জশ নগামি মন্তব্য করল।
ইনগ্রাম হাসলেন। প্লেনটা সোসেকি দ্বীপ ধ্বংস করবে, এ কথা বলে আমি আসলে বোঝাতে চেয়েছি পেনের ভেতর যে বোমাটা আছে ওটাকে আমরা কাজে লাগাব। একটা মাত্র বোমা, তবে একটাই যথেষ্ট, আমার ধারণা।
ধীরে ধীরে খোলা হচ্ছে রহস্যের জট, মন্তব্য করল পিট। আমি একটা ষড়যন্ত্রের গন্ধও যেন পাচ্ছি।
এড়িয়ে না গিয়ে কাইড ইনগ্রাম বললেন, এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেবেন কার্টিস মেকার।
ইনগ্রামের দিকে থেকে কার্টিসের দিকে তাকাল পিট, চোখে বাঁকা দৃষ্টি। এই ষড়যন্ত্রে আপনরা দুজন বাদে রেইমন্ড জর্ডান ও ডোনাল্ড কার্নও আছেন বলে আমার ধারনা।
ইজেলে নতুন একটা ফটোগ্রাফ আটকালেন কাইড ইনগ্রাম। প্লেনটার বো-র একপাশে আঁকা খুদে শয়তানের ক্লোজ আপ। ডেনিংস ডেমনস বললেন তিনি, শয়তানের নিচে ঝাপসা হরফগুলোর ওপর পেন্সিল ঠুকলেন। প্লেনটার কমান্ডার ছিলেন মেজর চার্লস ডেনিংস। বর্তমানে এটার অস্তিত্ব সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না, বেমালুম ভুলে যাওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে আমি আর কার্টিস মিকার ল্যাংলির গোপন ফাইল থেকে কিছু তথ্য উদ্ধার করেছি। ডেনিংস ডেমনস বলা হতো মেজর ডেনিংস ও তার ক্রুদের। জাপানের ওপর বোমা ফেলার দায়িত্ব ছিল ওদের ওপর।
হোয়াই! অবিশ্বাসে চিৎকার করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, বাকি সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকল।
ইতিহাসের বই থেকে আমরা জানি জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে একটা করে অ্যাটম বোমা ফেলি আমরা, বললেন কাইড ইনগ্রাম। কিন্তু কেউ জানি না যে তৃতীয় আরেকটা বোমা ফেলার চেষ্টাও হয়েছিল। যে-কোনো কারণেই হোক, প্লেনটা জাপানে পৌঁছুতে পারে নি, সাগরে পড়ে তলিয়ে যায়।
এতো বছর ওটার কথা চেপে রাখা হয়েছে কেন? জানতে চাইল পিট
ক্ষমা প্রার্থনার সুরে কাইড ইনগ্রাম বললেন, সে-প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন রাজনীতিকরা। আমাকে বলা হয়েছে, এটা একটা টপ সিক্রেট ইনফরমেশন, তাই চেপে যাওয়া হয়েছে।
বেশ। কিন্তু আমাদের সাথে ডেনিংস ডেমন-এর সম্পর্ক কী?
এবার আপনারা বরং কার্টিস মিকারকে প্রশ্ন করুন।
