রিপোর্ট।
কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকলেন মেল পেনার। কীভাবে সম্ভব? জানতে চাইলেন তিনি।
ইঙ্গিতে প্লেনটা দেখালেন টিমোথি ওয়েদারহিল। সুমাকে আমরা ঝেড়ে কাশতে বাধ্য করেছি। তার বক্তব্য একটা ওয়ার্ড প্রসেসে লিখে নিয়েছি আমরা।
দরজা দিয়ে বাইরে মাথা বের করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। হাই, মেল, শ্যাম্পেন কই?
আগে উপহার কী এনেছেন দেখুন আমাকে!
সম্মানিত জাপানি অতিথিদের বাধন খুলতে হবে, একটু অপেক্ষা করুন।
ওদের বেঁধে রাখতে হয়েছে?
মাঝে মধ্যে খিচুনি উঠে যায় কিনা।
উজ্জ্বল রোদে বেরিয়ে এলেন সিনেটর ডিয়াজ, সঙ্গে লরেন স্মিথ। মেল পেনারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো ওদের, ফ্লাইট প্ল্যান সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হলো। এরপর প্লেন থেকে প্রায় খেদিয়ে সুমা ও তোশিকে বের করে আনলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। সামান্য মাথা নোয়ালেন মেল পেনার। ইউনাইটেড স্টেটসে ওয়েলকাম, মি. সুমা। তবে এখানে বোধহয় আপনার সময় খুব একটা শান্তিতে কাটবে না।
তোশি কুদোর চেহারায় নগ্ন ঘৃণা ফুটে উঠল, হিসহিস করে বলল সে, মি. সুমার অসম্মান করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। তাঁর দাবি, এখুনি তাঁকে মুক্তি দিয়ে জাপানে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।
সে গুড়ে বালি।
আপনারা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করছেন, গর্জে উঠল হিদেকি সুমা। আমাদের মুক্তি দেওয়া না হলে এমন প্রতিশোধ নেওয়া হবে যে দুনিয়ার মানুষ ভয়ে শিউরে উঠবে।
টিমোথি ওয়েদারহিলের দিকে তাকালেন মেল পেনার। হুমকিটার পেছনে কোনো ভিত্তি আছে?
সুমার দিকে তাকালেন টিমোথি ওয়েদারহিল। দুঃখিত, ড্রাগন সেন্টারের কথা আপনি ভুলে যেতে পারেন। ওটার শক্তির উৎস আমরা ধ্বংস করে দিয়ে এসেছি।
তার মানে আপনাদের মিশন সফল হয়েছে? জানতে চাইলেন মেল পেনার। রিপোর্টের জন্যে হোয়াইট হাউসের সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
আপাতত অচল করে দেওয়া হয়েছে। যথেষ্ট বিস্ফোরক ছিল না, শুধু এক বান্ডিল ফাইবার অপটিক উড়িয়ে দিতে পেরেছি।
ডাক্তার জশ নগামি প্লেন থেকে বেরিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করল মেল পেনারের সঙ্গে। তিনি বললেন, আপনার সাথে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম। আপনি যে তথ্য পাঠিয়েছেন, সেজন্যে আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
সবিনয়ে কাঁধ ঝাঁকালো ডাক্তার নগামি। জিম হানামুরাকে বাঁচাতে পারলাম না। বলে সত্যি আমি দুঃখিত।
আপনি নিজেই তো ধরা পড়ে যেতে পারতেন।
ঠেকিয়েছেন মি. ডার্ক পিট। চারদিকে তাকালো ডাক্তার, কিন্তু পরিচিত কাউকে দেখতে পেল না। মনে হচ্ছে আমি এমন একজন এজেন্ট যার কোনো অ্যাসাইনমেন্ট নেই।
ড্রাগন সেন্টারের লেআউট সম্পর্কে আপনার ধারণা আমাদের কাজে লাগবে, বললেন মেল পেনার। ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করেছি আমরা। আপনার বস এখানে আপনাকে আমাদের সাথে দিন কয়েক থাকার অনুমতি দিয়েছেন।
লাফ দিয়ে প্লেন থেকে বেরিয়ে এলো অ্যাল জিওর্দিনো। একদল এয়ার ফোর্স পুলিশ হিদেকি সুমা ও তোশি কুদোকে অপেক্ষারত সি-২০-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেদিকে ছুটল সে। অফিসারকে বলল, মিছিলটা একটু থামান। তোশি কুদোর চেয়ে মাত্র আধ সেন্টিমিটার লম্বা সে। মেয়েটার চোখের দিকে সরাসরি তাকাল, বলল,
প্রিয়ে, আমাকে একা ফেলে চলে যেয়ো না।
রাগে ও বিস্ময়ের ফোঁস করে উঠল তোশি কুদো। এর মানে কী?
মানে হলো প্রেম। সারা দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী নারী হতে চাইলে আমার সাথে ঝুলে পড়ো।
আপনি একটা পাগল!
ওটা আমার অনেক গুণের মাত্র একটা, মুচকি হেসে বলল অ্যাল। আগামি বছরগুলোয় একে একে বাকিগুলো আবিষ্কার করবে তুমি।
অদ্ভুত ব্যাপার, তোশি কুদোকে ইতস্তত করতে দেখা গেল। কারণটা নিজের কাছে পরিষ্কার নয়, জাপানি রীতিবিরুদ্ধ অ্যালের এই প্রেম নিবেদন ভালো লাগছে তার। ভালো লাগার অনুভূতিটা গোপন করতে নিজের সঙ্গে লড়তে হলো তাকে। তোশির ইতস্তত ভাবটা ধরতে পারল অ্যাল, হাত দুটো তার কাঁধে রেখে মৃদু চাপ দিল সে, বলল, সময় নিয়ে মন স্থির করো, কোনো তাড়া নেই। যাও, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমিও আসছি।
কাঁধের ওপর দিয়ে এখনো অ্যালের দিকে তাকিয়ে আছে তোশি, মেল পেনার তার কনুই ধরে এগিয়ে নিয়ে গেলেন।
৬০. প্লেনটা কয়েক মিটার দূরে
৬০.
সি-২০ জেটে সুমা, তোশি ও সিনেটর ডিয়াজ ওঠার পর লরেনকে নিয়ে সেদিকে এগোল পিট। প্লেনটা কয়েক মিটার দূরে থাকতে দাঁড়িয়ে পড়ল লরেন। আবার কবে দেখা হবে? নরম সুরে জানতে চাইল সে।
দুজনেই আমরা ব্যস্ত জীবন-যাপন করি, বলল পিট। আমাদের শিডিউল কখনো ম্যাচ করে না।
কি জানি, হয়তো কোনোদিন ধীরে, মিইয়ে যায় লরেনের গলা।
হ্যাঁ। কোনোদিন। সমর্থন জোগায় ডার্ক।
তুমি ফিরে যাচ্ছ না আমেরিকায়? অস্বস্তি ভরে জানতে চাইলো লরেন।
কাঁধ ঝাঁকাল পিট। জানি না। অ্যাল আর আমাকে এখান থেকে যেতে বলা হয়েছে।
এখন ওরা তোমাকে আবারো ওই দ্বীপে ফিরে যেতে বলতে পারে না। অন্তত এ মুহূর্তে নয়।
আমি একজন মেরিন এঞ্জিনিয়ার ভুলে গেলে? ড্রাগন সেন্টার আক্রমণ করতে হলে ওরা আমার সাহায্য চাইতেই পারে।
তুমি যদি বলো তো আমি প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলতে পারি। তুমি আর অ্যাল যাতে ছুটি পাও, তার ব্যবস্থা করা আমার পক্ষে সম্ভব।
এর মধ্যে তুমি আবার নাক গলিয়ো না। হেসে উঠল পিট।
