খালি চোখেই দেখতে পাচ্ছে সামনের জাপানি ফাইটারে পাইলট, টিল্ট টারবাইন রেঞ্জের মধ্যে চলে এসেছে। টার্গেটিং সিস্টেমের টিভি মনিটরে একটা লাল বিন্দু দেখা গেল, সেটাকে স্ক্রীনের মাঝখানে সরিয়ে আনল সে। ফায়ারিঙের দায়িত্ব নিল অপটিক্যাল কমপিউটার, ছুঁড়ে দিল একটা মিসাইল।
আমি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রে সিম্পসন, এয়ার ফোনে শুনতে পেল পিট ও অ্যাল। এ ভদ্রলোকই আইবিস সম্পর্কে ওদেরকে ব্রিফ করেছিলেন। ওদেরকে সতর্ক করে দিলেন তিনি, এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল রওনা হয়েছে।
এক কিলোমিটারের মধ্যে চলে এলে সতর্ক করবেন আমাকে, বলে রাখল পিট।
ছয়শো মিটার, বলল অ্যাল। স্পীড আটশো নট।
কন্ট্রোল কলাম টেনে আনল পিট। ড্রাইভ দিচ্ছিল প্লেন, একটা বাঁক তৈরি করে সিধে হলো, সাগর থেকে মাত্র সত্তর মিটার ওপরে।
মিসাইল আরও তিন কিলোমিটার দুরে, চাপা গলায় বললেন রে সিম্পসন।
অ্যাল, এঞ্জিনগুলোকে খাড়া করবে তুমি, নির্দেশ দিল পিট।
প্রায় সেই মুহূর্তে রে সিম্পসন জানালেন, এক কিলোমিটার।
এখনই।
লিভার ঠেলে দিল অ্যাল। দিগন্তের দিকে নাক ছিল প্লেনের, মুহূর্তের মধ্যে আকাশের দিকে খাড়া হলো সেটা।
ওদের দুমিটার নিচ দিয়ে ছুটে গেল মিসাইল।
নাইস ওয়ার্ক, প্রশংসা করলেন সিম্পসন। আপনারা ভলকানের রেঞ্জের মধ্যে চলে আসছেন। নিচের দিকে থাকার চেষ্টা করুন, গুলি করতে আমাদের যাতে সুবিধে হয়।
লেভেল ফ্লাইটে এনে ডেকে নামতে সময় লাগবে আমার, বলল পিট। আমার এয়ারস্পীড কমে গেছে।
লিভার টেনে আবার প্লেটাকে সিধে করে নিল অ্যাল। পানির বিশ মিটার ওপর দিয়ে ছুটছে ওটা, জাহাজটার ঝুলে থাকা কাঠামো লক্ষ করে।
এয়ারক্রাফট কাছে চলে আসছে, তবে কোনো মিসাইল দেখতে পাচ্ছি না, রে সিম্পসন জানালেন। ওরা বোধহয় একেবারে শেষ মুহূর্তের জন্যে অপেক্ষা করছে। আপনারা বরং তাড়াতাড়ি নেমে আসুন ডেকে।
ঢেউ ছুঁয়ে আসছি আমি।
ওরাও তাই আসছে। একটার ওপর আরেকটা, কাজেই ফ্লাইং সসারের ভুমিকায় দ্বিতীয়বার কাজ হবে না।
হুম। আমাদের মনের কথা ধরে ফেলছে ওরা।
ওরা আপনাদের সব কথা রেডিওতেই ধরতে পারছে।
এতক্ষণে বলছেন, উনি!
মিসাইল আসছে!
পিট ও অ্যাল দুজনেই মাথা নামিয়ে নিল। টিল্প-টারবাইনের নাকের সামনে দিয়ে ছুটে গেল এক ঝাঁক গোলা। রালফ আর, বেনেটের থারটি-মিলিমিটার সী ভলকান গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। আধুনিক গ্যাটলিং গানের সাতটা ব্যারেল থেকে প্রতিটি মিনিটে বেরিয়ে যাচ্ছে চার হাজার দুশো রাউন্ড। ছুটে আসা মিসাইলটা বিস্ফোরিত হলো ওদের দুশো মিটার পেছনে। পর মুহূর্তে সামনের জাপানি ফাইটারকে ছেকে ধরল এক ঝাঁক গোলা। দ্বিতীয় ফাইটারের পাইলট লেজ তুলে পালাচ্ছে।
বিগিনং ফাইন্যাল অ্যাপ্রোচ, মাইক্রোফোনে বলল পিট।
দুঃখিত, ব্যান্ড পার্টি বা ঢাক-ঢোল ইত্যাদি নেই যে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাব আপনাদের, কমান্ডার হার্পার কৌতুক করলেন।
চার মিনিট পর রালফ আর, বেনেটের হেলিকপ্টার প্যাডে টিল্ট-টারবাইন নিয়ে নামল পিট। সীটের ওপর নেতিয়ে পড়লো ও, এঞ্জিন বন্ধ করল অ্যাল।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আজ এই প্রথম নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করছে পিট। নিকট ভবিষ্যতে কোনো রকম ঝুঁকি বা বিপদ নেই। অপারেশনে ওর ভুমিকা পালন করেছে ও। হাইতি বা পুয়ের্তো রিকোয় বিশ্রাম নিতে যাবে, মনে মনে আশা করছে পাশে থাকবে লরেন।
এখন যদি কেউ ককপিটে ঢুকে ভবিষ্যদ্বাণী করে যে আর মাত্র কয়েক দিন পর অ্যাডমিরাল জেমস স্যানডেকার ওর অকাল মৃত্যু উপলক্ষে চোখের পানি ফেলবেন এবং ধরা গলায় ওর প্রশংসা করবেন, নিঃসন্দেহে গলা ছেড়ে হেসে উঠবে পিট।
.
চতুর্থ পর্ব
মায়ের নিঃশ্বাস
২০ অক্টোবর, ১৯৯৩, ওয়াশিংটন ডিসি।
৫৯.
পিট নিজেই টিল্ট-টারবাইন নিয়ে ওয়েক আইল্যান্ড চলে এলো। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এরই মধ্যে রানওয়েতে এসে নেমেছে একটা সি-২০ প্যাসেঞ্জার জেট।
পালাউ থেকে মেল পেনারও ওয়েক আইল্যান্ডে চলে এসেছেন, ওদের জন্যে অপেক্ষা করছেন তিনি। গোটা এলাকা কর্ডন করে রেখেছে এয়ার পুলিশ। টিল্ট টারবাইনের দিকে এগিয়ে এলেন মেল পেনার, মুখ তুলে তাকালেন দরজার দিকে। দরজা খুলে গেল, প্রথমে বেরিয়ে এলেন ড. টিমোথি ওয়েদারহিল।
হ্যান্ডশেক করলেন ওঁরা। চারদিকে তাকিয়ে টিমোথি ওয়েদারহিল বললেন, আমরা কিন্তু অভ্যর্থনা কমিটি আশা করি নি।
হোয়াইট হাউসে এখন শুধু আপনাদের কথাই আলোচনা হচ্ছে। সত্যি নাকি, হিদেকি সুমাকে সঙ্গে করে এনেছেন আপনারা?
এবং মিস লরেন ও মি. ডিয়াজকেও।
বাইরে বেরিয়ে এসে এয়ার পুলিশ ও মেল পেনারকে দেখে স্টেসিও অবাক হয়ে গেল। কেন যেন মনে হচ্ছে, পিটের সাথে হাওয়াইয়ে যাওয়া আমার কপালে নেই আসলে, মেল পেনারের সাথে হ্যান্ডশেক করার সময় বলল সে।
দুঃখিত, না। একটা এয়ার ফোর্স জেট অপেক্ষা করছে, হিদেকি সুমা, মিস লরেন ও সিনেটর ডিয়াজকে ওয়াশিংটনে নিয়ে যাবে। আমাদের বাকি সবাইকে এখানে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে একটা মিটিং অ্যাটেন্ড করার জন্যে রেইমন্ড জর্ডান ও খোদ প্রেসিডেন্ট একদল হাই-লেভেল হটশটকে পাঠাচ্ছেন ব্রিফ করার জন্যে।
টাইপ করা এক গাদা কাগজ মেল পেনারের হাতে ধরিয়ে দিলেন টিম ওয়েদারহিল।
