ত্রিশ সেকেন্ড পর কমিউনিকেশন রুম থেকে জানানো হলো, স্যার, ভদ্রমহিলা কসম খেয়ে বলছেন যে তিনিই লরেন স্মিথ।
ঠিক আছে, তার গল্প আপাতত আমি বিশ্বাস করছি। বিশ ডিগ্রি দক্ষিণে ঘুরে যেতে বলো ওঁদের…।
সেনজু এয়ারবেস থেকে দুটো প্লেন টেক-অফ করল, কনসোল থেকে একজন অপারেটর জানালো। আকার আকৃতি দেখে মনে হচ্ছে জাপানিজ এয়ার সেলফ ডিফেন্স ফোর্সের মিৎসুবিশি রাভেন ইনটারসেপটর। বাঁক ঘুরে টিল্ট-টারবাইনের। দিকে ছুটে আসছে ওগুলো।
ড্যাম ইট! বিস্ফোরিত হলেন কমান্ডার হার্পার। এখন আবার জাপানি এয়ারফোর্সের সাথে লাগতে হবে! একজন অফিসারের দিকে ফিরলেন তিনি। পরিস্থিতি সম্পর্কে প্যাসিফিক কমান্ডকে জানাও। বৈরী আচরণ করছে দেখলে ওগুলোকে আমি গুলি করতে চাই। টিল্ট-টারবাইনে আমেরিকান ও আমেরিকানদের বিশ্বস্ত বন্ধুরা আছেন ধরে নিয়ে ওদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছি আমি।
প্লেনটাকে চার হাজার মিটার ওপরে তুলে আনল পিট। দ্বীপের মিসাইল সিস্টেম এখন আর ওদের নাগাল পাবে না। আর আশি কিলোমিটার দুরে রয়েছে। জাহাজটা, বলল ও। যে-কোনো মুহূর্তে সরাসরি সামনে ওটাকে আমরা দেখতে পাব।
কো-পাইলটের সীটে লরেনের বদলে বসেছে অ্যাল। চোখে কৌতুক, ফুজের দিকে তাকিয়ে আছে সে। সুমার গ্রাউন্ড ক্রুরা দেখছি অপচয় একদমই পছন্দ করে না। যা ফুয়েল আছে তাতে বড়জোর আর দশ মিনিট উড়তে পারব আমরা।
সোসেকি দ্বীপ থেকে এভো সিটিতে যাবার কথা প্লেনটার, কাজেই ট্যাংকগুলো আংশিক ভরা হয়েছে।
ওদের এয়ারফোনে কমান্তার এডওয়ার্ড শার্পের তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
দিস ইজ ডার্ক পিট। গো অ্যাহেড।
দুঃসংবাদ দেয়ার জন্যে দুঃখিত। আপনাদের লেজে একজোড়া জাপানি মশা কামড় বসাতে আসছে।
আর কি বাকি থাকল! হতাশায় স্নান হলো পিটের চেহারা। কতক্ষণ পর রাধা দেবে?
কমপিউটার বলছে, পরস্পরের কাছ থেকে আমরা পনেরো কিলোমিটার দূরে থাকব, এ সময় আপনাদের লেজে কামড় বসাবে ওগুলো।
ফুয়েল গজে টোকা দিল অ্যাল। আক্রমণ হলে স্রেফ মারা যাব আমরা।
অতটা হতাশ হবেন না, ধীরে ধীরে বললেন কমান্ডার হার্পার। আমাদের ইলেকট্রনিক কাউন্টারমেজার এরই মধ্যে ওদের রাডার মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। দেখতে পেতে হলে ওদেরকে একেবারে আপনারে কাছাকাছি আসতে হবে।
এমন কিছু আছে যা দিয়ে ওদের লক্ষ ব্যর্থ করা যায়?
আমাদের একমাত্র অস্ত্র থারটি-মিলিমিটার সী ভলকান। প্রতি মিনিটে বিয়াল্লিশ শো রাউন্ড, রেঞ্জ আট কিলোমিটার।
আট কিলোমিটার যথেষ্ট নয়, আরো পাঁচ কিলোমটিার দুরে থাকবে ওগুলো, বলল পিট। অন্য কোনো আইডিয়া?
অপেক্ষা করুন। কমান্ডার হার্পার আবার কথা বললেন দুমিনিট পর, আপনারা আমাদের ফায়ার কাভার পেতে পারেন, যদি ডাইভ দেন। নিচে নামার সময় বাড়তি গতি অতিরিক্ত চার মিনিট বাঁচিয়ে দেবে আপনাদের।
তাতে কোন সুবিধে হবে না, বলল অ্যাল। ওরাও ডাইভ দেবে।
নেগেটিভ, কমান্ডারকে বলল পিট। ঢেউয়ের কাছাকাছি না নেমে আমরা বরং উপরেই থাকি, নড়াচড়ার জন্যে প্রচুর এয়ার স্পেস
ওরা কি করতে যাচ্ছে আমার কাছ থেকে জেনে নিন, কমান্ডার মার্পের গলায় ঝাঁঝ। রাডারে ওদেরকে দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বারোমো মিটারে নেমে আসছে ওরা, তার মানে আপনাদের কাছ থেকে আঠাশশো, মিটার নিচে থাকবে। এক সময় তো আপনাদের নামতেই হবে নিচে, তখন বাধা দেয়ার প্ল্যান করতে ওরা।
বসে যান।
ওদের আগেই যদি নিচে নেমে সাগরের কাছাকাছি থাকেন, গুলি ছুঁড়ে আমরা ওদেরকে দুর সরিয়ে রাখতে পারব। কৌশলটা আমার নয়, কমপিউটারের।
উর্বর মস্তিস্ককে নমস্কার, বলল পিট। চল্লিশ সেকেন্ডের মধ্যে ডাইভ দিচ্ছি। আমরা লরেনের দিকে তাকালো ও, ককপিটের দরজার পিছনে বসেছে সে। সবার স্ট্রাপ শক্ত করে বাঁধা আছে কিনা দেখো। অনুষ্ঠানমালায় এরপর রয়েছে রক অ্যান্ড রোল।
আঠারো কিলোমিটার, ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে, সাবধান করলেন কমান্ডার হার্পার।
অ্যাল, তুমি আমাকে এয়ারস্পীড আর অলটিচ্যুড় জানাবে।
শক্ত হাতে হুইল ধরে কন্ট্রোল বলাম সামনে ঠেলে দিল পিট, ভাবছে দেখা হলে কী বলবে আজরাইলকে। সাগরের দিকে খাড়া গোত্তা খেয়ে নামতে শুরু করল প্লেন।
.
৫৮.
ফোনের রিসিভার নিচু করে কোরোরি ইয়োশিশুর দিকে তাকাল ইচিরো সুবোই। সুমার প্লেনটা একটা মার্কিন নেভাল শিপের দিকে যাচ্ছে। ওটাকে ফিরে আসতে বাধ্য করা সম্ভব নয়। ফাইটার স্কোয়াড্রন-এর কমান্ডার ও টাকে গুলি করে নামানোর ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছে।
অন্য কোনো উপায় না থাকলে সুমাকে মরতে হবে, সে বুঝবে তার স্বপ্ন সফল করার চেষ্টা করছি আমরা, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন বৃদ্ধ কোরোরি ইয়োশিশু।
অসহায় ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে রিসিভারে কথা বলল ইচিরো সুবোই, প্লেন ধ্বংস করার নির্দেশ বহাল আছে। আর কিছু না বলে রিসিভার নামিয়ে রাখল সে।
সুমার মৃত্যু আমাদেরকে যেন পিছিয়ে না দেয়, কোরোরি ইয়োশিশু বললেন। এখুনি তোমার ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়া উচিত। আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দাবিগুলো জানানো দরকার প্রেসিডেন্টকে।
কিন্তু তিনি যদি আমাদের দাবি না মানেন?
কয়েক বছর ধরে লোকটাকে লক্ষ করছি আমি। অত্যন্ত বাস্তববাদী মানুষ। সে উপলব্ধি করবে, ডুবন্ত একটা দেশকে রশি ছুঁড়ে বাঁচাবার চেষ্টা করছি আমরা। ভয় পেয়ো না, ওদের প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস আমাদের সাথে চুক্তিতে আসতে বাধ্য হবে। তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
