কামাতোরির মৃত্যু সংবাদে অফিসাররা আরো দিশেহারা হয়ে পড়ল। ছতলায় বিস্ফোরণটাও ঘটল এ সময়। তবু দ্রুত কয়েকটা নির্দেশ দিল তারা। দ্বীপের চারধারে বসানো গ্রাউন্ড-টু-এয়ার মিসাইল গোপন বাংকার থেকে মাথাচাড়া দিল, নিক্ষেপের জন্যে সম্পূর্ণ তৈরি। তবে হিদেকি সুমা প্লেনটায় থাকতে পারে সন্দেহ করে চুড়ান্ত নির্দেশ দিতে ইতস্তত করছে অফিসাররা।
তারপর রিমোট ভিডিও রেকর্ডিং দেখে জানা গেল, তাদের সন্দেহই সত্যি।
ধনকুবের ও কেইটেন প্রজেক্টের পৃষ্ঠপোষক ইচিরো সুবোই গোল্ডেন ড্রাগন-এর বয়োবৃদ্ধ নেতা কোরোরি ইয়োশিশুকে টোকিওর নিজের অফিসে খাতির করে বসিয়ে আপ্যায়ন করছে, এ সময় সুমার সিকিউরিটি ডিরেক্টরদের একজন ফোন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট করল। সুমার দুই পার্টনার কাল বিলম্ব না করে নিজেদের হাতে তুলে নিল কেইটেন প্রজেক্টের দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ।
বিস্ফোরণের আট মিনিটের মধ্যে ইচিরো সুবোই ব্যক্তিগত প্রভাব খাঁটিয়ে জাপানি সেনাবাহিনীকে রাজি করিয়ে ফেলল, টিল্ট-টারবাইনকে কয়েকটা জেট ধাওয়া করবে। সে নির্দেশ দিল, জোর করে সোসেকি দ্বীপে ফিরিয়ে আনতে হবে প্লেনটাকে। তা যদি ব্যর্থ হয়, আরোহীদের সহ আকাশেই ধ্বংস করতে হবে ওটাকে। কোরোরি ইয়োশিশু ও ইচিরো সুবোই একমত হলো, হিদেকি সুমা পুরানো বন্ধু হলেও কেইটেন প্রজেক্ট ও তাদের নতুন সামাজ্যের স্বার্থে, বিদেশি রাষ্ট্রের হাতে বন্দী হবার চেয়ে তার বরং মরে যাওয়াই ভালো। বন্দী সুমাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে পারলে ক্রিমিন্যাল হিসেবে বিচার করা হবে তার। ভীতিকর একটা আশঙ্কার কথাও ভাবল তারা, সুমাকে জীবিত পেলে ইন্টারোগেট করে জাপানের গোপন টেকনলজি, অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে সমস্ত তথ্য আদায় করে নেবে মার্কিন ইন্টেলিজেন্স।
.
সোসেকি দ্বীপ থেকে আকাশে ওঠার সময় কম্পাস দেখে জাহাজটার পজিশন আন্দাজ করে নিয়েছে পিট। এ মুহূর্তে এঞ্জিনগুলোর কাছ থেকে সবটুকু শক্তি আদায় করে নিয়ে ফুল স্পীডে প্লেন চালাচ্ছে ও। পাশে বসে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে লরেন রাল আর. বেনেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার।
কোনো সাড়া পাচ্ছি না, রিপোর্ট করল সে।
ফ্রিকোয়েন্সি ঠিক আছে তো?
সিক্সটিন ভিএফ?
অন্য ব্যান্ড। সিক্সটিন ইউএফ-এর বোতাম টেপো, কল সাইন হিসেবে নাম বলো আমার।
আলট্টা হাই ফ্রিকোয়েন্সি বেছে নিয়ে ডায়াল করল লরেন, হেডসেটের সাথে জোড়া লাগানো মাইক্রোফোনে কথা বলল, পিট রালফ্ আর, বেনেট-কে ডাকছি। পিট কলিং ইউএসএস রালফ আর, বেনেট। ডু ইউ হিয়ার মি? ডু ইউ হিয়ার মি? প্লীজ অ্যানসার।
দিস ইজ দ্য রালফু আর. বেনেট, জবাবটা এতো জোরাল যে লরেনের মনে হলো কানের পর্দা ফেটে যাবে। সত্যি আপনি নাকি, ডার্ক। মনে হচ্ছে শেষ বার দেখা হবার পর আপনার সেক্স বদলে গেছে।
মাটি ছাড়ার পর থেকেই জাহাজের সুপারসেনসিটিভ ডিটেকশন সিস্টেমে ধরা পড়ে গেছে ওদের প্লেন। খবর পেয়েই সিচুয়েশন রুমে পায়চারি শুরু করেছেন কমান্ডার হার্পার। মাঝে মধ্যে থামছেন, কনসোল অপারেটরদের কাঁধের ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছেন। কমপিউটার মনিটর ও রাডার স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে অপারেটররা।
তোমরা কি চিনতে পারছ…?
হয় একটা টিল্ট-রোটর নয়তো নতুন একটা টিল্ট-টারবাইন, একজন অপারেটর মন্তব্য করল। মাটি ছাড়ার পর থেকেই জাহাজের সুপারসেনসিটিভ ডিটেকশন সিস্টেমে ধরা পড়ে গেছে ওদের প্লেন। খবর পেয়েই সিচুয়েশন রুমে পায়চারি শুরু করেছেন কমান্ডার হার্পার। মাঝে মধ্যে থামছেন, কনসোল অপারেটরদের কাঁধের ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছেন। কমপিউটার মনিটর ও রাডার স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে অপারেটররা।
কোর্স?
ওয়ান-টু-জিরো। আমরা আইবিস দুটো যেখানে ছেড়েছিলাম, মনে হচ্ছে। সেদিকে যাচ্ছে।
ঝট করে ফোনের রিসিভার তুলে নিলেন কমান্ডার। কমিউনিকেশন।
কমিউনিকেশন, স্যার।
কোনো রেডিও সিগন্যাল পাচ্ছ?
না, স্যার।
কিছু শোনামাত্র জানাবে আমাকে। রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন কমান্ডার। কোর্স বদলাচ্ছে?
না।
ডার্ক হতে পারেন না, ভাবলেন কমান্ডার হার্পার। কিন্তু আর কে-ই বা নির্দিষ্ট এই পজিশনের দিকে প্লেন নিয়ে আসবে? কাকতালীয় কিছু ঘটছে? অফিসারদের দিকে ফিরে দ্রুত নির্দেশ দিলেন তিনি,, জাহাজের কোর্স বদলে যেখান থেকে আইরস ছেড়েছিলাম সেদিকে চলো। ফুল স্পীড।
কমিউনিকেশন রুম আপনাকে ডাকছে, স্যার, একজন নাবিক বলল।
ছোঁ দিয়ে ফোনের রিসিভার তুললেন কমান্ডার। দিস ইজ দ্য ক্যাপ্টেন।
এক ভদ্রমহিলা সঙ্কেত দিচ্ছেন, দাবি করছেন তিনি নাকি কংগ্রেস সদস্য লরেন স্মিথ। বলছেন, সোসেকি দ্বীপ থেকে হাইজ্যাক করা প্লেনটা মি. ডার্ক পিটই চালাচ্ছেন। প্লেনে আরোহী রয়েছেন আটজন, সিনেটর ডিয়াজ ও মি. হিদেকি সুমা সহ।
ঝাড়া পাঁচ সেকেন্ড কথা বলতে পারলেন না কমান্ডার। তারপর সবিস্ময়ে বললেন, কী বললে? একটা প্লেন ও হিদেকি সুমাকে ছিনতাই করেছেন ওরা? কিন্তু সোসকি দ্বীপে ডার্ক রাজনীতিকদের পেলেন কীভাবে? কয়েক সেকেন্ড বিরতি নিলেন তিনি আবার, তারপর নির্দেশ দিলেন, যে-ই যোগাযোগ করুক, তাকে বলল যে তাদের পরিচয় সম্পর্কে আরো প্রমাণ পেতে হবে আমাকে।
