জাপানি সেনাবাহিনীর মালিক সুমা নয়।
ওটা ছাড়া চারপাশের বাকি সব কিছুর মালিক সে। আমি কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। রেডিও অন করো, ফ্রিকোয়েন্সি জানিয়ে দিচ্ছি।
কোথায় যাচ্ছি আমরা?
রালফ আর, বেনেটে।
বোট?
জাহাজ, বলল পিট। ইউ এস নেভীর ডিটেকশন ও ট্র্যাকিং শিপ। কেউ বাধা দেওয়ার আগে ওটায় যদি পৌঁছুতে পারি, নিরাপদে ফিরে যেতে পারব।
আমাদের সাথে সুমা রয়েছে, কাজেই কেউ মিসাইল ছুঁড়বে না।
ওদের পেছনে অশান্ত তোশি কুদোকে সামলাবার ব্যর্থ চেষ্টা করছে অ্যাল। ফণা তোলা সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে সে, শরীর মোচড়াচ্ছে ঠিক যেন একটা উন্মত্ত-বিড়াল। অবশেষে পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরল অ্যাল, কঠিন বাঁধনে আটকে রাখল। স্বীকার করছি, প্রথম দর্শনে আমাকে তোমার পছন্দ না ও হতে পারে। কিন্তু যত দেখবে ততই আমাকে তোমার ভাল লাগবে।
ইউ ইয়াঙ্কি পিগ! চিৎকার করল তোশি কুদো।
অ্যাল আর তোশির দিকে খেয়াল নেই স্টেসির, একটা লেদার চেয়ারের সঙ্গে হিদেকি সুমাকে নাইলন কর্ড দিয়ে বাঁধছে সে। প্রধান ভিলেনের চেহারায় নগ্ন বিস্ময় ও অবিশ্বাস।
দেখলেও না হয় প্রত্যয়! ফোড়ন কাটলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। বিজ্ঞ ওস্তাদ স্বয়ং আমাদের সাথে বেড়াতে বেরিয়েছেন!
ভূত! বিড় বিড় করছে হিদেকি সুমা, সব কটার মরে ভূত হয়ে যাবার কথা!
ভূত হয়ে গেছে আপনার বন্ধু কামাতোরি, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো সহাস্যে জানালেন।
অসম্ভব! কীভাবে?
ডার্ক তাকে দেয়ালে গেঁথেছে।
পিটের নাম শুনে উত্তেজিত হয়ে পড়ল সুমা। আপনারা মারাত্মক একটা ভুল করছেন। আমাকে জিম্মি করার পরিণতি ভালো হবে না।
নীচ ও কুৎসিত হবার পালা এখন আমাদের।
আপনারা এতো বোকা যে আমি কী বলছি বুঝতে পারছেন না, হিস হিস করে বলল সুমা। আপনারা কী করেছেন জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে আমার লোকজুন অপারেশন শুরু করে দেবে।
সে সুযোগ তারা পেলে তো, টিমোথি ওয়েদারহিল বললেন। আর মাত্র তিন মিনিট পর আপনার সাধের ড্রাগন সেন্টার অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।
.
ফাইবার অপটিকে টেপ দিয়ে আটকানো বিস্ফোরক পেয়ে গেল রোবট ইন্সপেক্টর ওটোকোডাতে। ওটা নিয়ে কনসোলে ফিরে এলো সে, কয়েক সেকেন্ড পরীক্ষা করার পর টাইমারটা দেখতে পেল। টাইমার চিনতে পারলেও, প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। রোবোটিক কন্ট্রোলে সঙ্কেত পাঠালো সে। পাওয়ার সেন্টার ফাইভ থেকে আমি ওটোকোড়াতে বলছি।
হ্যাঁ, কী ব্যাপার? সাড়া পাওয়া গেল একটা টিভি মনিটর থেকে।
আমি আমার সুপারভাইজার মি. ওকুমার সাথে কথা বলতে চাই।
ক্যাফেটেরিয়া থেকে এখনো তিনি ফেরেন নি। কেন যোগাযোগ করছ তুমি?
ফাইবার অপটিকের বান্ডিলে আশ্চর্য একটা জিনিস পেয়েছি।
কী ধরনের জিনিস?
নরম একটা বস্তু, সাথে ডিজিটাল টাইমিং ডিভাইস।
কেবল এঞ্জিনিয়ার বোধহয় তার কোনো ইন্সট্রুমেন্ট ফেলে গেছে।
কিন্তু জিনিসটা আমি চিনতে পারছি না। পরীক্ষা করার জন্যে কন্ট্রোলে পাঠাব?
না, স্টেশনেই থাকো তুমি। ওটা আনার জন্যে একজনকে পাঠাচ্ছি।
ঠিক আছে।
কয়েক মিনিট পর নাকাজিমা নামে একটা রোবট পাওয়ার সেন্টারে ঢুকল। হার হাতে বিস্ফোরক তুলে দিল ওটোকোড়াতে। নাকাজিমা সিক্সথ-কেনারেশন মেকানিক্যাল রোবট, ভয়েস কমান্ড গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু মৌখিক নির্দেশ নিতে পারে না। প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ কন্টেইনারে ভরে ফিরতি পথ ধরল সে।
পাওয়ার সেন্টারের দরজা থেকে পঞ্চাশ মিটার এগিয়েছে নাকাজিমা, আশপাশে কোন মানুষজন বা গুরুত্বপুর্ণ কোনো ইকুইপমেন্ট নেই, বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলো সি-এইট প্লাস্টিক। ছতলার কংক্রিট প্যাসেজ ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল।
ড্রাগন সেন্টার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে প্রচণ্ডতম ভূমিকম্পেও তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। সি-এইট প্লাস্টিকের বিস্ফোরণের শুধু একটা প্যাসেজ সাময়িকভাবে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ল, কেইটেন প্রজেক্টের কাজে তাতে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না। তবে বাহক রোবট নাকাজিমা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
.
৫৭.
রোবো গার্ডরা তাদের সিকিউরিটি কমান্ডকে রিপোর্ট করল, টিল্ট টারবাইন নিয়ে পিট তখনো আকাশে উঠতে পারে নি। প্রথমে বোরটদের রিপোর্টকে দৃষ্টিভ্রমের ফলশ্রুতি বলে অগ্রাহ্য করা হলো, কিন্তু তল্লাশি চালাবার পরও যখন হিদেকি সুমাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না, সিকিউরিটি কমান্ড অফিসে উপস্থিত অফিসারদের টনক নড়ল।
অহঙ্কারী ও গোপনীয়তার ব্যাপারে অতি মাত্রায় খুঁতখুঁতে বলে প্রথম শ্রেণীর অফিসারদের নিয়ে এমন একটা টিম গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে সুমা যারা তার অনুপস্থিতিতে জরুরি কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। আতঙ্কিত সিকিউরিটি ডিরেক্টররা পরামর্শের জন্যে মুরো কামাতোরিকে খুঁজল, কিন্তু দেখা গেল কোনো কাজ করছে না, এমনকি তার ব্যক্তিগত রোববা গার্ডরাও সাড়া দিচ্ছে না।
সশস্ত্র চারটে রোবটকে নিয়ে একটা স্পেশাল ডিফেন্স টিম রওনা হয়ে গেল কামাতোরির খোঁজে। নক করল তারা, কিন্তু পড়ল তার চোয়াল। খাড়াভাবে দেয়ালের সঙ্গে ঝুলছে মুরো কামাতোরি, দুপাশে কাত হয়ে আছে কাঁধ দুটো, চোখ দুটো বিস্ফোরিত, মুখ থেকে রক্ত গড়াচ্ছে। তার তলপেটে গাঁথা তলোয়ারটার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকল সে। এই প্রথম উপলব্ধি করল, বন্দীরা পালিয়েছে, কামাতোরির বোরো গার্ডরা অচল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে যার জায়গায়।
