ওরা কি ইনভেস্টিগেটর? জিজ্ঞেস করল স্টেসি।
না। টেলিপ্রেজেন্স সুপারভাইজার, সঙ্গে একটা রোবট আছে— আপনারা যেটাকে অচল করে দিয়েছেন ওটার জায়গায় বসাবে।
তার মানে কি আমরা ধরা পড়ে যাব?
এখুনি বলা যাচ্ছে না। অ্যালার্ম বাজার কথা, রোবো গার্ডদের নিয়ে সুমার হিউম্যান সিকিউরিটি ফোর্স ছুটে আসার কথা। প্রতিটি করিডরে থাকবে ওরা, প্রতিটি ইন্টারসেকশন বন্ধ করে দেবে।
ভাগ্যই বলতে হবে, আমরা এতগুলো রোবট অচল করে দিলাম তবু ওরা কিছু সন্দেহ করে নি, কথা শেষে ডাক্তারের পিছু নিয়ে করিডরের মাঝখানে বেরিয়ে এলেন টিম ওয়েদারহিল।
সাবোটাজের কোনো চিহ্ন না দেখে ওরা ধরে নিয়েছে সাধারণ ই গোলযোগের শিকার হয়েছে ওগুলো।
এলিভেটরের সামনে পৌঁছুল ওরা। ওপর তলা থেকে নিচে নেমে আসতে দুমিনিট সময় নিল ওটা। অবশেষে খুলে গেল দরজা, ভেতরে কেউ নেই। প্রথমে ভেতরে ঢুকলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, টপফ্লোরে ওটার জন্যে বোতামে চাপ দিলেন তিনি।
এলিভেটর ধীরে ধীরে ওপরে উঠছে। একা শুধু ডাক্তারের কাছে ঘড়ি আছে, বাকি সবার ঘড়ি বন্দী হবার সময় কেড়ে নেয়া হয়েছে।
আর ত্রিশ সেকেন্ড বাকি আছে, ওদেরকে জানাল সে।
বাকি আছে শুধু পলায়ন। পিটের প্ল্যান সম্পর্কে ওদের কারো কোনো ধারণা নেই। পিট ও অ্যাল ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে কিনা তা-ও ওরা জানে না। ওরা ধরা পড়লে তারাও ধরা পড়বে। দ্বিতীয়বার ধরা পড়লে কী ঘটবে, সবাই তা জানে। কামাতোরির পরিণতি জানার পর হিদেকি সুমা আর কোনো ঝুঁকি নেবে না।
এক সময় স্থির হলো এলিভেটর। শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে তৈরি হলো সবাই। খুলে গেল দরজা।
আপনাদের বোর্ডিং পাস দেখতে পারি, প্লিজ? ঠোঁটে চওড়া হাসি নিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে অ্যাল জিওর্দিনো।
.
উবুনাই ওকুমা এবং ডায়েজ কানো টেলিপ্রেজেস কন্ট্রোল রুমে কাজ করছে, এ সময় একটা সঙ্কেতের মাধ্যমে জানতে পারল, ইলেকট্রিকাল ইন্সপেক্টর রোবট তাইহো অচল হয়ে পড়েছে। আরেকটা ইন্সপেক্টর রোবটকে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে রওনা হলো তারা।
রোবোটিক এখনো নতুন একটা বিজ্ঞান, অকস্মাৎ অচল হয়ে পড়ার ঘটনা অহরহই ঘটছে। বাইরে থেকে দেখে কিছু বোঝাও যায় না, ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্যে রিকন্ডিশনিং সেন্টারে নিয়ে গিয়ে খুলে ভেতরটা দেখতে হয়।
ইন্সপেক্টর তাইহোকে ঘিরে বার কয়েক চক্কর দিল ডায়েজ কানো। তার চোখে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ল না। সম্ভবত সার্কিট বোর্ডে গোলযোগ দেখা দিয়েছে।
ক্লিপবোর্ডে আটকানো একটা চার্টের ওপর চোখ বুলালো উবুনাই ওকুমা। সমস্যা সৃষ্টি করার ইতিহাস বেশ লম্বা এটার, বলল সে। এর আগে পাঁচবার ভিশন ইমেজে ত্রুটি দেয়া দেয়।
আশ্চর্য, গত এক ঘণ্টায় চারটে ইউনিট অচল হয়ে পড়ার রিপোর্ট পেলাম আমরা।
সাধারণ প্রবণতাও তাই, এক সঙ্গে কয়েকটা অচল হয়ে পড়ে।
এটাকে মেরামত করে কোন লাভ নেই, বলল ডায়েজ। সব কিছু বদলে সম্পূর্ণ নতুন করে তৈরি করতে হবে। সঙ্গে করে আনা রোবটটার দিকে তাকালো সে। ইন্সপেকশন ডিডটি করার জন্যে তৈরি তো, ওটোকোড়াতে?
রোবটের গায়ে অনেকগুরো রঙিন আলো জ্বলে উঠল, স্পস্ট যান্ত্রিক কণ্ঠে ওটোকোড়াতে জানাল, সবগুলো সিস্টেম মনিটর করার জন্যে পুরোপুরি তৈরি আমি।
তাহলে শুরু করো।
ওটোকোড়াতে কনসোলের সামনে নিজের জায়গায় দাঁড়াল, তাইহোকে ছোট একটা গাড়িতে তুলে দিল দুই প্রকৌশলী। বোতাম টিপে গাড়ির কমপিউটারকে নির্দেশ দিতেই সচল হলো গাড়ি, কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজে থেকে রিকন্ডিশনিং সেন্টারের দিকে চলে যাচ্ছে। আহত রোবটের পিছু না নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার দিকে এগোল এঞ্জিনিয়ারা, কফি খাবে।
কামরায় এখন একা কাজ করছে ওটোকোড়াতে। সে তার ভিশন সিস্টেমের সাহায্যে ডায়াল ও ডিজিটাল রিডিং সংগ্রহ করে প্রসেস করার জন্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে নিজের কমপিউটারে। তার সেনসিং অ্যাবিলিটি মানুষের চেয়ে অনেক অনেক বেশি, কাজেই হিসেবের একটা গোলমাল সহজেই ধরে ফেলতে পারল।
লেজার পালস রেট হলো প্রতি সেকেন্ডে ৪৪.৭ মিলিয়ন বিট, অপটিক ফাইবারের মাধ্যমে ধরা যায়। কিন্তু ওটোকোড়াতের সেনসরে ধরা পড়ল, এই মুহূর্তে প্রতি সেকেন্ডে পালস রেট দাঁড়িয়েছে ৪৪.৬৮ মিলিয়ন বিট। ইনডেক্স প্রোফাইলের ওপর চোখ বুলিয়ে তার ধারণা হলো, রিবনে আটকানো হাজার খানেক অপটিক ফাইবারের যে গোছাটা রয়েছে তার ভেতর দিয়ে আসার পথে আলোর ঢেউ কোনো কারণে একেবেকে যাচ্ছে।
টেলিপ্রেজেন্স কমান্ডে সঙ্কেত পাঠাল ওটোকোডাতে, ফাইবারের বান্ডিল পরীক্ষা করার জন্যে কনসোল ছেড়ে প্যাসেজে ঢুকছে সে।
.
৫৬.
প্রতি মুহূর্তে রাগ ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে হিদেকি সুমার। সিনেটর ডিয়াজ ও কংগ্রেস সদস্য লরেন একজোড়া মূর্তিমান উপদ্রব ছাড়া কিছু নন। প্রতি মুহূর্তে তর্ক করছেন তার সাথে, ব্যঙ্গ করছেন তাকে, এমন কি বন্দী হওয়া সত্ত্বেও চোখ রাঙিয়ে হুমকি দিচ্ছেন, সে যেন সস্তা দরের একটা ছিঁচকে চোর।
তাকে কিডন্যাপ করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কানটা নাকি সুমার হাতে চলে আসবে, মন্তব্য করেছিল ইচিরো সুবোই। কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা, পারলে সিনেটরই তার কান মুচড়ে দেয়।
টেবিলে বসে সাকির গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে সুমা, তাকিয়ে আছে ওদের দুজনের দিকে। ভাব দেখে মনে হলো, আবার তর্ক করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুজনে।
