বুঝতে পারছি, স্যার। আর পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর আক্রমণ শুরু করার নির্দেশ দেবেন আপনি।
ডেল্টা ফোর্স পাঠানোর প্রস্তাব আমি বাতিল করে দিয়েছি। অন্যান্য সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার ও জয়েন্ট চীফের সাথে কথা বলে দিয়েছি। অন্যান্য সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার ও জয়েন্ট চীফের সাথে কথা বলে উপলব্ধি করেছি, সামরিক অভিযানে যে সময় লাগবে তা আমাদের হাতে নেই। ড্রাগন সেন্টার অপারেশন্যাল হয়ে ওঠার আগেই ওঠাকে ধ্বংস করতে হবে।
রেইমন্ড জর্ডান অনুভব করলেন, দুনিয়াটা যেন তাঁর হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আরেকটা চাল দিলেন তিনি। আমার এখনো বিশ্বাস, সিনেটর ডিয়াজ ও কংগ্রেস সদস্য লরেন দ্বীপটায় আছেন।
তোমার ধারণা যদি সত্যিও হয়, ওদের সম্ভাব্য মৃত্যু আমার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
স্যার, আর এক ঘণ্টা সময় দিতে পারেন না? সরাসরি জানতে চাইলেন রেইমন্ড জর্ডান।
তোমার অনুরোধে সাড়া দিতে পারলে খুশি হতাম, রেই, কিন্তু না। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিরাট হুমকির মধ্যে রয়েছে। বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করার সুযোগ হিদেকি সুমাকে আমরা দিতে পারি না।
ইউ আর রাইট। অফকোর্স।
সিদ্ধান্তটা অন্তত একা আমার নয়। ন্যাটো দেশগুলোকে ব্রিফ করেছেন সেক্রেটারি অভ স্টেটস। রুশ প্রেসিডেন্টকেও সব কথা জানানো হয়েছে। সবাই বলেছেন, সিদ্ধান্তটা আমাদের সবার স্বার্থরক্ষা করবে।
সেক্ষেত্রে টিমের কথা ভুলে যেতে হবে আমাদের, বলে লন রেইমন্ড জর্ডান। ভুলে যেতে হবে সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্যের কথাও।
দেশপ্রেমিক আমেকিরানদের জন্যে আমি গর্বিত, তাদের আত্মত্যাগ কোনোদিন ভুলব না আমরা।
ধীরে ধীরে রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন রেইমন্ড জর্ডান। হঠাৎ যেন তার বয়েস দশ বছর বেড়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট, ফিসফিস করে বললেন তিনি।
কী বললেন?
ডেল্টা ফোর্স পাঠানোর প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অ্যাটম বোমা ফেলবেন।
ডোনাল্ডের চেহারা রক্তশূণ্য হয়ে গেল।
ঝট করে দেয়ালঘড়ির দিকে তাকালেন রেইমন্ড জর্ডান। আর মাত্র তেতাল্লিশ মিনিট বাকি আছে। আশ্চর্য, ব্রিটিশ এজেন্ট কী করছে? ওরা এখনো বেরুতে পারছে না কেনো?
.
ছোট কয়েকটা প্যাসেজ ধরে ওদেরকে নিয়ে এলো ডাক্তার নগামি, ওগুলোর গা হিটিং ও ভেন্টিলেটিং পাইপে ঢাকা পড়ে আছে। অফিস ও ওঅর্কশপে প্রচুর লোকজন কাজ করছে, কাজেই সেদিকে যায় নি ওরা। পথে একটা রোবো গার্ডের সঙ্গে দেখা হলো, ওদেরকে আড়াল করে আলাপ জুড়ে দিল জশ নগামি। এ সুযোগে চুপিসারে ওদের একজন এগোল, তারপর ঝট করে হোস পাইপের একটা টুকরো চেপে ধরল সার্কিট বক্সে।
কাঁচ মোড়া একটা কামরার সামনে এসে দাঁড়াল ওরা। বেশ বড় কামরা, ইলেকট্রিক্যাল ওয়ারিং ও গোছা গোছা ফাইবার অপটিক ভরা, সবগুলোর শাখা প্রশাখা সরু একটা টানেলে ঢুকেছে, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ড্রাগন সেন্টারে। বিশাল একটা কনসোল দেখা গেল, গায়ে অসংখ্য ডায়াল আর ডিজিটাল ইন্ট্রমেন্ট। কনসোলের সামনে একটা রোবট দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ওটা একটা ইন্সপেক্টর রোবট, নরম সুরে বলল ডাক্তার নগামি। ওর কাজ সিস্টেমটা মনিটর করা, কোথাও কোনো যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক ত্রুটি দেখা দিলে রিপোর্ট করা।
ওর সার্কিট নষ্ট করলাম আমরা, কী হয়েছে দেখার জন্যে সুপারভাইজার কতক্ষণ পর কাউকে পাঠাবে? জানতে চাইলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
পাঠানো হবে মেইন টেলিপ্রেজেন্স কন্ট্রোল থেকে, পাঁচ কি ছয় মিনিটের মধ্যে।
বিস্ফোরক বসিয়ে কেটে পড়ার জন্যে পাঁচ মিনিটই যথেষ্ট, বললেন টিমোথি ওয়েদারহিল।
টাইমার সেটিং কী হবে? জানতে চাইল স্টেসি।
বিশ মিনিট। পাতাল থেকে বেরিয়ে দ্বীপ ছেড়ে কেটে পড়তে বিশ মিনিট যথেষ্ট। মি. পিটের প্ল্যান যদি সফল হয়।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে একপাশে সরে দাঁড়ালো ডাক্তার নগামি, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো ও টিমোথি ওয়েদারহিল উল্টোদিক থেকে এগোলেন রোবট ইন্সপেক্টরের দিকে। দোরগোড়ায় পাহারায় থাকল স্টেসি। হোস পাইপের টুকরো সার্কিট বক্সে ঠেকতেই যান্ত্রিক ইন্সপেক্টর প্রথমে আড়ষ্ট, তারপর অসাড় হয়ে গেল।
প্রাস্টিক এক্সপ্লেসিতে খুদে ডিটোনেটর ঢোকালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, তারপর ডিজিটাল টাইমার অ্যাডজাস্ট করলেন। তার আর অপটিকাল ফাইবারের মাঝখানে, কেমন?
কনসালটা ধ্বংস করলেই তো পারি, বলল ডাক্তার।
ছোট একটা প্যানেজ ধরে কয়েক পা এগিয়ে গেলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, ভারী কেবল ও অপটিকাল ফাইবারের মাঝখানে টেপ দিয়ে আটকে দিলেন টাইম বোমা। কনসোল ধ্বংস হলে আরেকটা বসিয়ে নেবে ওরা, সময় লাগবে চব্বিশ ঘণ্টা, লেকচার দিলেন তিনি। কিন্তু এখানে হাজার খানেক তার এক হয়েছে, ছিঁড়ে দিতে পারলে পুরো ওয়ারিং বদলাতে হবে ওদের, সময় লাগবে পাঁচ গুণ বেশি।
অল ক্লিয়ার, দোরগোড়া থেকে রিলোট করল স্টেসি।
এক এক করে করিডরে বেরিয়ে এলো ওরা, পা টিপে টিপে এলিভেটরের দিকে এগোচ্ছে। মাত্র দুশো মিটারের মতো এগিয়েছে, হঠাৎ একটা হাত তুলে দাঁড়িয়ে পড়ল ডাক্তার। পাশের একটা প্যাসেজ থেকে মানুষের গলা ও ইলেকট্রিক মটরের আওয়াজ ভেসে আসছে। ওদেরকে দ্রুত সামনে বাড়ার ইঙ্গিত করল সে। ছুটে দিয়ে পরবর্তী করিডরের কোণে লুকিয়ে পড়ল সবাই। আমার হিসেবে ভুল হয়েছে। আগেই চলে এসেছে ওরা, ফিসফিস করে বলল সে।
