আপনি আমাদেরকে সাহায্য করতে পারেন কিনা বলুন, তাগাদা দিলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। আমাদের হাতে সময় নেই।
কিন্তু ডাক্তার নগামির মধ্যে কোনো ব্যস্ততার ভাব নেই। আপনারা টানেল হয়ে এডো সিটিতে পৌঁছুতে চান? চানতে চাইল সে।
ট্রেনে চড়ে যাওয়া যায় কিনা ভাবছি, টিমোথি ওয়েদারহিল বললেন, দরজা দিয়ে করিডরে তাকালেন তিনি।
সম্ভব নয়। কাঁধ ঝাঁকাল ডাক্তার। আপনারা কমপ্লেক্সে অনুপ্রবেশ করার পর বিশেষভাবে ট্রেনিং পাওয়া একটা সিকিউরিটি ফোর্সকে টিউব পাহারা দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছে সুমা। একটা পিঁপড়েও গলতে পারবে না।
স্টেসি তাকিয়ে আছে তার দিকে। আপনার তাহলে পরামর্শ কী?
সাগর। ভাগ্য ভালো হলে কোন জাহাজ দেখতে পেয়ে তুলে নেবে আপনাদের।
মাথা ঝাঁকালো স্টেসি। ওটা বাদ। যে-কোন বিদেশি জাহাজ পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এলেই ডুবিয়ে দেয়া হবে।
তোমরা শুধু কোথায় কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটাবে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাও, বলল পিট। ওর চোখের দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে দেয়ালের গায়ে, যেন অপরদিকে কী আছে দেখতে পাচ্ছে। পালাবার ব্যাপারে আমার আর অ্যালের ওপর আস্থা রাখো।
ওরা তিনজন পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। তারপর মাথা ঝাঁকালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। ঠিক আছে, তাই। আপনি আমাদের প্রাণ বাঁচিয়ে এতো দূর নিয়ে এসেছেন, কাজেই আস্তা রাখতে আপত্তি নেই।
ডাক্তারের দিকে ফিরল পিট। আপনি? যাবেন আমাদের সাথে?
কাঁধ ঝাঁকালো ডাক্তার, মুখে আড়ষ্ট হাসি। এখানে আমার কাজ শেষ হয়েছে। ধন্যবাদ, ডার্ক। আমাকে যদি এখানে ফেলে যান, সুমা জবাই করবে।
ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো জানতে চাইলেন, বিস্ফোরকগুলো কোথায় বসানো যায়, কোনো সাজেশন দিতে পারেন?
সাজেশন দিতে পারি, সঙ্গে করে নিয়েও যেতে পারি? বলল ডাক্তার। ওখানে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলে গোটা কমপ্লেক্স এক মাসের জন্যে অচল হয়ে পড়বে।
কোথায়?
সিলিঙের দিকে তাকালো ডাক্তার। ছ তলায়।
তাহলে আর দেরি নয়, বলে সাবধানে দরজা দিয়ে করিডরে উঁকি দিল পিট। কেউ নেই। ওর পিছু পিছু বেরিয়ে এলো সবাই, ঢুকে পড়ল এলিভেটরে। কিন্তু এলিভেটর ওপরে না উঠে নামতে শুরু করল নিচের দিকে। ওদের আগেই কেউ চাপ দিয়েছে বোতামে।
সর্বনাশ! তিক্তস্বরে বললেন টিমোথি ওয়েদারহিল।
সবাই মিলে দরজাটা চেপে ধরবেন, যাতে না খোলে, নির্দেশ দিল পিট। অ্যাল, ডোর ক্লোজ লেখা বোম চাপ দাও।
থামলো এলিভেটর, সবাই মিলে চেপে ধরে আছে দরজা খোলার চেষ্টায় কাঁপছে কবাট, কিন্তু খুলছে না।
অ্যাল! চাপা কণ্ঠে বলল পিট। পাঁচ নম্বর বোতাম চাপ দাও। ডোর ক্লোজ, লেখা বোতাম থেকে আঙুল সরিয়ে পাঁচ নম্বর বোতামটা টিপে দিল অ্যাল। কয়েক সেকেন্ড কাঁপল এলিভেটর, যেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছ না কোনদিকে যাবে, তারপর একটা ঝাঁকি খেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল।
আটকে রাখা দম ছেড়ে স্টেসি বলল, উফ।
হঠাৎ আঁতকে উঠল অ্যাল। পাঁচ নম্বর বোতামের আলো জ্বলছে! তার মানে ছতলায় কেউ অপেক্ষা করছে এলিভেটরে চড়ার জন্যে।
সবাই তৈরি থাকো, নির্দেশ দিল পিট।
আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তৈরি হলো সবাই, বিপদ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে।
সাদা কোট পরা একজন এঞ্জিনিয়ার, মাথায় হ্যাট, দাঁড়িয়ে আছে নোটিস বোর্ডের সামনে এলিভেটরে ঢোকার সময় মুখ তুলে তাকালো না পর্যন্ত। তারপর অনুভব করল সে, এলিভেটর নড়ছে না। চারদিকে তাকিয়ে বিদেশি কয়েকটা মুখ দেখতে পেল। কেউ হাসছে না।
চিৎকার করার জন্যে মুখ খুলল এঞ্জিনিয়ার, একহাতে তার মুখ চেপে ধরে অপর হাতে গলার একটা রগে খোঁচা মারল পিট। অসাড় হয়ে গেল শরীরটা, ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ল এলিভেটরের মেঝেতে। ইতোমধ্যে এলিভেটর থেকে বেরিয়ে গেছে ডাক্তার জশ নগামি, তার পিছু পিছু একটা প্যাসেজে ঢুকল সবাই।
এলিভেটর থেকে সবার শেষে বেরুলেন টিমোথি ওয়েদারহিল। পিটের দিকে ফিরে জানতে চাইলেন, কখন ও কোথায় আবার মিলিত হয় আমরা?
টপফ্লোর। তাড়াতাড়ি বাকি সবাইকে অনুসরণ করলেন টিমোথি ওয়েদারহিল, পিটের প্ল্যান সম্পর্কে কোনো ধারণা করতে পারলেন না।
অজ্ঞান এঞ্জিনিয়ারের দিকে তাকালো অ্যাল। কোথায় লুকাবো ওকে?
এলিভেটরের সিলিঙের দিকে আঙুল তাক করল পিট। মাচায়। ল্যাব কোট ছিঁড়ে বাঁধো, মুখেও খানিকটা ভরো।
উত্তরে পিটও মুচকি হেসে বলল, মুক্তির মিষ্টি আওয়াজ, কি বলো?
যদি ছিনতাই করা সম্ভব হয়।
আশা করতে দোষ কি! বোতামে চাপ দিতেই এলিভেটর ওপরে উঠতে শুরু করল। কাজটা দ্রুত সারতে হবে আমাদের, বারো মিনিট দেখতে দেখতে পেরিয়ে যাবে।
.
৫৫.
ফেডারেল হেডকোয়ার্টার বিল্ডিঙের কমিউনিকেশন রুমে বসে ঘামছেন জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন ডিরেক্টর রেইমন্ড জর্ডান ও অপারেশনস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর ডোনাল্ড কার্ন। দুজনেই তাকিয়ে আছেন বিশাল একটা দেয়াল ঘড়ির দিকে, জাপানের দিকে কান পেতে থাকা একটা স্যাটেলাইট থেকে কল সাইন পাবার আশায় অধীরভাবে অপেক্ষা করছেন।
হঠাৎ ঝন ঝন শব্দে বেজে উঠল টেলিফোনটা। পরস্পরের দিকে তাকালেন ওরা। বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে দুজনকেই, ঝুলে পড়েছে মুখ। সাবধানে রিসিভার তুললেন রেইমন্ড জর্ডান। ইয়েস, মি. প্রেসিডেন্ট, ইতস্তত না করে বললেন তিনি।
কোন খবর পেলে?
না, স্যার।
অপরপ্রান্তে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকলেন প্রেসিডেন্ট, তারপর মৃদু কণ্ঠে বললেন, আর পঁয়তাল্লিশ মিনিট, রেই।
