তার মানে কি অপারেশন শুরু করে দিয়েছেন আপনারা? ফিসফিস করে জানতে চাইল লরেন।
ছোট্ট করে মাথা ঝাঁকাল হিদেকি সুমা। আপনাদের প্রেসিডেন্ট যদি ড্রাগন সেন্টার আক্রমণ করেন, ডিটেকশন সিস্টেমের সাহায্যে যথাসময়ে আমি তা জানতে পারব। রোবটগুলোকে সংকেত পাঠাব, গাড়ি-বোমাগুলো ফাটিয়ে দেবে তারা। নিঃশব্দে হাসল সে।
.
৫৪.
নির্জন আবাসের যে ভবনে এলিভেটর রয়েছে, পথ দেখিয়ে সবাইকে সেখানে নিয়ে এলো পিট। খোলা জায়গায় বেরিয়ে এলো ও, বাকি সবাই আড়াল থেকে কাভার দিচ্ছে ওকে। কোনো মানুষের সঙ্গে দেখা হলো না, তবে এলিভেটরের সামনে একটা রোবোটিক সিকিউরিটি গার্ড দাঁড় করাল ওকে।
শুধু জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারে এটা, তবে কর্কশ আওয়াজ ও তাক করা অস্ত্রের ভাষা বুঝতে অসুবিধে হলো না। হাত দুটো মাথার দুপাশে তুলল পিট, তালু দুটো সামনের দিকে, ধীরে ধীরে আরো কাছাকাছি হলো–ভিডিও, রিসিভার ও ডিটেকশন সেনসর যাতে অন্যান্যদের অস্তিত্ব টের না পায়।
চুপিসারে দুপাশ থেকে এগিয়ে এলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো ও টিমোথি ওয়েদারহিল, তারপর হঠাৎ ছুটে এসে চার্জড হোস পাইপ সার্কিট বক্সে চেপে ধরলেন। সঙ্গে সঙ্গে অসাড় হয়ে গেল সশস্ত্র রোবট।
খুবই কাজের জিনিস মন্তব্য করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, হোসের টুকরোটা নিসেস্কর গায়ে ঘন ঘন ঘষছেন।
রোবটটা ওর কন্ট্রোলকে কিছু জানাতে পেরেছে বলে মনে হয়? জিজ্ঞেস করল স্টেসি।
বোধহয় পারে নি, জবাব দিল পিট। খুব ধীর বলে মনে হলো। আমি একটা হুমকি, নাকি প্রজেক্টের আনপ্রেগ্রামড সদস্য, সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না।
খালি এলিভেটরে চড়ে পাঁচ তলার বোতামে চাপ দিলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। সাত তলায় এলিভেটর থেকে নামা যায় কন্ট্রোল সেন্টারের মেইন ফ্লোরে, বললেন তিনি। সরাসরি ওখানে না যাওয়াই ভাল।
পিট বলল, ক্লিনিক ও সার্ভিস ইউনিট পাঁচতলায়।
সিকিউরিটি সম্পর্কে কী জানি আমরা?
আমি কোনো গার্ড বা ভিডিও মনিটর দেখি নি।
স্টেসি বলল, চারদিকের ডিফেন্স এতো শক্তিশালী যে ভেতরের সিকিউরিটি সম্পর্কে বিশেষ মাথা ঘামায়ি নি সুমা।
পাঁচতলায় পৌঁছে গেল এলিভেটর। দরজা খুলে যাচ্ছে। আড়ষ্ট হয়ে উঠল সবাই। ভাগ্য ভাল, করিডরটা খালি পাওয়া গেল। নিঃশব্দ পায়ে পিটকে অনুসরণ করল ওরা। পৌঁছে গেল ক্লিনিকের সামনে।
এখানে আমরা দাঁড়ালাম কেন? নিচু গলায় জানতে চাইলেন টিমোথি ওয়েদারহিল।
ম্যাপ বা গাইড ছাড়া এ কমপ্লেক্সে পথ চেনা সম্ভব নয়, বিড়বিড় করল পিট, কান পেতে কী যেন শোনার চেষ্টা করছে ও। আমার পিছু নিন। দরজার বোতামে চাপ দিল, সজোরে লাথি মারল কবাটে।
চমকে মুখ তুলল নার্স-রিসেপশনিস্ট। হাঁটু দেখানোর জন্যে উ, জশ নগামির কাছে প্রথমবার যখন এসেছিল পিট, ডেস্কে তখন অন্য একটা মেয়ে ছিল। খোলা দরজা দিয়ে ওদেরকে হুড়মুড় করে ঢুকতে দেখে অ্যালার্ম বাটনের দিকে হাত বাড়াল সে। ছুটে এসে তার কানের পাশে প্রচণ্ড চড় কষল পিট, চেয়ার থেকে পড়ে গেল মেয়েটা, জ্ঞান হারিয়েছে। আওয়াজ শুনে পাশের কামরা থেকে ছুটে বেরিয়ে এলো ডাক্তার জশ নগামি। অদ্ভুত ব্যাপার, রাগের বদলে তার চেহারায় কৌতূহল ফুটে উঠল।
আবার বিরক্ত করার জন্যে দুঃখিত, মি. জশ নগামি, বলল পিট। কিন্তু আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি।
তাই বলে মেয়েদের গায়ে এভাবে হাত তুলবেন? অজ্ঞান নার্সের দিকে তাকাল ডাক্তার।
অ্যালার্ম বাজাতে যাচ্ছিল, বলল পিট, ক্ষমা প্রার্থনার সুরে।
ভাগ্যিস ওকে আপনারা কাবু করতে পেরেছেন। নার্স কারাতে জানে। পিটের দুপাশে দাঁড়ানো বাকি সবার দিকে তাকাল ডাক্তার। প্রায় বিষণ্ণ ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল সে। টিমগুলোর সেরা সদস্যদের নিয়ে করে, রেইমন্ড জর্ডান সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করলেন কীভাবে?
ভুরু কুঁচকে পিটের দিকে তাকাল অ্যাল। এমন কিছু জানো তুমি যা আমরা পারি না?
এসো, পরিচয় করিয়ে দিই। মি. জশ নগামি, ব্রিটিশ ডীপ কাভার অপারেটর। সুমা ও তার অপারেশন সম্পর্কে উনিই তো বেশির ভাগ তথ্য সাপ্লাই দিচ্ছেন।
আপনি তাহলে ধরে ফেলেছেন? পিটের দিকে ফিরে হাসল ডাক্তার নগামি।
কাঁধ ঝাঁকাল পিট। সান্তা অ্যানায় সেন্ট পলস হাসপাতাল বলে কিছু নেই। তবে লন্ডনে একটা ক্যাথেড্রাল আছে সেন্ট পলস নামে।
কিন্তু আপনাকে তো ব্রিটিশ বলে মনে হয় না, বলল স্টেসি।
স্যানফ্রানসিসকোয় মানুষ হয়েছি, বলল ডাক্তার নামি। ফিরে এসে আপনি আমার কাভার নষ্ট করে ফেলেছেন, ডার্ক, বুঝতে পারছেন তো?
বিপদে পড়ে আসতে হয়েছে, বলল পিট। কামাতোরি আর তার তিনটে সিকিউরিটি রোবটকে দশ কি পনেরো মিনিটের মধ্যে দেখে ফেলবে ওরা। বিস্ফোরক বসিয়ে পালাতে হলে একটা সেকেন্ডও নষ্ট করা চলে না।
ওয়েট আ মিনিট। একটা হাত তুলল ডাক্তার নগামি। আপনারা কামাতোরি আর তার রোবট গার্ডদের অচল করে দিয়েছেন? কামাতোরি নেই?
নেই।
ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো ব্যস্তভাবে বললেন, এই কমপ্লেক্সের একটা ডায়াগ্রাম দরকার আমাদের।
কনস্ট্রাকশন ব্লুপ্রিন্ট-এর মাইক্রোফিল আছে আমার কাছে, কিন্তু কনট্যাক্ট হারিয়ে ফেলায় পাঠাতে পারি নি।
জিম হানামুরা?
হ্যাঁ। সে কি মারা গেছে? উত্তরটা আন্দাজ করতে পারে ডাক্তার নগামি।
হ্যাঁ। কামাতোরি তাকে জবাই করেছে।
