কামাতোরির কিমোনো, ঘাড় ফিরিয়ে বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, ট্রফি রুমের দিকে রওনা হয়ে গেছেন।
কোথায় বসালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে বিস্ফোরক? টিমোথি ওয়েদারহিলকে জিজ্ঞেস করল পিট।
সি-এইটের পরিমাণ যথেষ্ট নয়, কাজেই প্রচুর ক্ষতি করা যাবে না, বললেন তিনি। তবে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কাছে বসালে ওদেরকে দিন কয়েক পিছিয়ে দিতে পারা যায়।
তিন মিটার হোস পাইপ নিয়ে ফিরে এলো স্টেসি। কীভাবে কাটব বলে দাও।
চার টুকরো করো, বলল পিট। তোমাদের সবার কাছে একটা করে থাকবে। ব্যাক-আপ হিসেবে ম্যাগনেটটা আমার কাছে থাক।
ট্রফি রুম থেকে বোমির ছেঁড়া কিমানো নিয়ে ফিরে এলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। দেয়াল সাজানোর উপকরণ হিসেবে কামাতোরি কিন্তু দারুণ মানিয়ে গেছে।
সুমা যখন দেখবে তুমি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কী অবস্থা করেছ, তখন তার কাছ থেকে আমি পাঁচশো কিলোমিটার দুরে থাকতে চাই, হেসে উঠে বলল অ্যাল, ভাঙা রোবট দুটোকে ছুঁড়ে কামরার এক কোণে ফেলে দিল সে।
অত ভয় পাবার আসলে কিছু নেই, বলল পিট। কামাতেরির অবস্থা দেখে নিজের নিয়তিও আশা করি আঁচ করতে পারবে সুমা।
.
কংগ্রেস সদস্য লরেন ও সিনেটর ডিয়াজকে কন্ট্রোল সেন্টারটা ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে হিদেকি সুমা। একটু পরই উপলব্ধি করল লরেন, সুমার সাম্রাজ্যের বিস্তার ও তাৎপর্য কল্পনাকেও হার মানাবে। সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে রাখা নিউক্লিয়ার গাড়ি বোমা ফাটাবার জন্যে প্রাইম ও ডিটোনেট সিগন্যাল পাঠানোটাই ড্রাগন সেন্টারের একমাত্র কাজ নয়। পাতাল ভবনের অগুণতি স্তর ও করিডরে অসংখ্য ল্যাবরেটরি রয়েছে, রয়েছে বিশাল এঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রনিক এক্সিপেরিমেন্টাল ইউনিট, একটা ফিউশন রিসার্চ ফ্যাসিলিটি ও একটা নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর প্ল্যান্ট।
সুমা গর্ব করে বলল, আমার প্রাইমারি স্ট্রাকচারাল এঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিস ও সায়েন্টিফিক থিঙ্ক ট্যাংক বসানো হয়েছে এদো সিটিতে। কিন্তু এখানে, নিরাপদ ও সুরক্ষিত সোসেকি দ্বীপে, রিসার্চ ও ডেভলপেমেন্টের কাজ করি আমরা।
ওদেরকে নিয়ে একটা ল্যাবে ঢুকল সে, ক্রুড অয়েল ভরা খোলা একটা ভ্যাট দেখাল। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন না, সেকেন্ড-জেনারেশন জেনেটিক্যারি এঞ্জিনিয়ার মাইক্রোবাস পেট্রোলিয়াম খেয়ে ফেলছে, সেই সাথে সংখ্যায় বাড়ছে ওগুলো ব্যাপারটা চেইন রিয়্যাকশন, অয়েল মলিকিউল ধ্বংস করে ফেলছে।
ছলকে পড়া তেল পরিষ্কার করতে পদ্ধতি বা আবিষ্কারটা খুব কাজে আসবে, মন্তব্য করলেন সিনেটর ডিয়াজ।
তা আসবে, বলল সুমা। তবে ওগুলোকে আমরা কাজে লাগার বৈরী রাষ্ট্রগুলোর অয়েল রিজার্ভ খালি করার জন্যে।
ভুরু কোঁচকাল লরেন, চোখে অবিশ্বাস। এ-ধরনের নিন্দনীয় একটা কাজ কেন আপনি করবেন? কী লাভ তাতে আপনার?
এক সময় তেলের কোন প্রয়োজন থাকবে না জাপানের। আমাদের বিদ্যুৎ চাহিদার পুরোটাই পূরণ করবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট। ফুয়েল সেল ও সোনার এনার্জিতে আমাদের টেকনলজি বিপ্লব ঘটিয়েছে, গ্যাসোলিন এঞ্জিনের বদলে গাড়িতে এরপর ওগুলো ব্যবহার করব আমরা। তেলধোর মাইক্রোবাসের সাহায্যে গোটা দুনিয়ার তেলের মওজুদ নিঃশেষ করতে পারলে আন্তর্জাতিক পরিবহন অচল হয়ে পড়বে ট্রাক, কার, মটর সাইকেল, ভ্যান, প্লেন থেকে শুরু করে স্টিমার পর্যন্ত সব স্থির হয়ে যাবে।
যদি না জাপানি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, ঠাণ্ডা সুরে বললেন সিনেটর।
পঞ্চাশ থেকে সত্তর বছর লাগবে, বলল লরেন, আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড সল্ট মাইনে রিজার্ভ করে রাখা বিলিয়ন গ্যালন তেল খনি করতে।
সুমা যেন ধৈর্যের প্রতিমূর্তি, শান্তভাবে হাসল। যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত মজুদ তেল খেয়ে ফেলতে মাইক্রোবাসগুলোর সময় লাগবে মাত্র নয় মাস।
ভয়ংকর তাৎপর্যটুকু হজম করতে না পেরে অসহায় ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল লরেন। মাত্র একজন মানুষ গোটা দুনিয়াকে এরকম এক চরম পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, বিশ্বাস করা সত্যি কঠিন। প্রতি মুহূর্তে পিটের কথাও ভাবছে লরেন। ও মারা গেছে, তা-ও মেনে নিতে পারছে না। এ-সব আপনি কেন দেখাচ্ছেন আমাদের? ফিসফিস করে জানতে চাইল সে। গোপন রাখছেন না কেন?
আপনারা যাতে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসকে বলতে পারেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান এখন আর একই অবস্থানে নেই। আমরা এগিয়ে গেছি, আপনাদের নাগালের বাইরে চলে এসেছি, কাজেই আমাদের সমস্ত দাবি মেনে নিতে হবে। আর গোপনীয়তার কথা যদি বলেন, আপনারা বিজ্ঞানী বা এঞ্জিনিয়ার নন, কাজেই কিছুই আসলে ফাস হচ্ছে না। আপনারা ফিরে গিয়ে স্রেফ আবছা একটা ধারণা দিতে পারবেন, তা থেকে আমাদের আবিষ্কার নকল করা সম্ভব হবে না।
ওয়াশিংটনে আমরা কখন ফিরছি? জানতে চাইলেন সিনেটর।
হাতঘড়ির ওপর চোখ বুলাল সুমা। শিগগিরই। এভো সিটিতে আমার প্রাইভেট এয়ারফিল্ড আছে, ওখান থেকে আমার এক্সিউটিভ জেটে চড়বেন আপনারা।
আপনার পাগলামির কথা শোনার পর প্রেসিডেন্ট কী করবেন বলে আপনার ধারণা? উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে নিজেই জবাব দিলেন সিনেটর, সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন, আপনার এই ঘাটি যেন ধুলোর সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়।
বড় করে নিঃশ্বাস ছাড়ল সুমা, মিষ্টি করে হাসল। অনেক দেরি হয়ে যাবে তার। আমার এঞ্জিনিয়ার ও রোবোটিক ওয়ার্কাররা শিডিউলের চেয়ে এগিয়ে আছে। আপনারা জানেন না, জানার কথাও নয়, আমরা টুর শুরু করার কয়েক মিনিট পরই কেইটেন প্রজেক্ট কমপ্লিট হয়ে গেছে।
