সামুরাই হারিকিরি মানে পেট কাটা, চেয়ার বাধা ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো রুদ্ধশ্বাসে বললেন।
উঁহু। মাথা নাড়ল পিট। এভাবে তোমাকে রেহাই দেয়া হবে না। ঠাণ্ডা মাথায় বহু লোককে খুন করেছ তুমি, তোমাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
একজন বিদেশির কাছে হেরে গেছি আমি, প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই আমার। তোমার কাছে সুযোগটা আমি ভিক্ষে চাইছি।
এই মুহূর্তে তার একমাত্র বিবেচ্য বিষয় মর্যাদা, বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। আত্মহত্যা করতে পারলে তার বন্ধু ও আত্মীয়রা তাকে নিয়ে গর্ব করতে পারবে।
গড, আমি অসুস্থবোধ করছি, বলল স্টেসি। ওকে বাধো, পিট, মুখে কাপড়। গুঁজে দাও। এখানে কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে চলো কেটে পড়ি। চেহারায় ঘৃণা ও আতঙ্ক, কার্পেটে পড়ে থাকা কামাতেরির হাতটার দিকে তাকিয়ে আছে।
মরবে তুমি, তবে যেভাবে আশা করছ, সেভাবে নয়, বলল পিট, লক্ষ করল কামাতোরির চোখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠল। মৃত্যু ভয় নয়, সম্মানজনক সুনির্দিষ্ট রীতিতে পূর্ব-পুরুষদের সাথে মিলিত হতে না পারার ভয়।
কেউ কিছু আঁচ করার আগেই কামাতোরির অক্ষত হাতটা ধরে টান দিল পিট, হিঁচড়ে টেনে আনল স্টাডিতে, যেখানে আন্টিকস অস্ত্র ও মানুষের মাথাগুলো শোভা পাচ্ছে। অত্যন্ত যত্নে ও সাবধানে, যেন দেয়ালে নিখুঁতভাবে একটা ছবি টাঙাচ্ছে, কামাতোরিকে পালিশ করা দেয়ালের গায়ে দাঁড় করিয়ে তলপেট দিয়ে ঢুকিয়ে তলোয়ারটা রেখে দিল কাঠে। নিজের শিকার করা মানুষের মাথাগুলোর ঠিক নিচেই এই মুহূর্তে শোভা পাচ্ছে কামাতোরি। এখন তার চোখে অবিশ্বাস ও ভয় পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। বোঝা যায়, ব্যথাও অনুভব করছে সে।
স্টাডি থেকে বেরুবার আগে কামাতোরিকে ভাল করে একবার দেখে নিল পিট।
লাশই বলা চলে, দম বেরুতে খুব বেশি সময় নেবে না।
.
৫৩.
স্টাডি থেকে একটা ভাইকিং ব্যাটল-আক্স নিয়ে ভিডিও মনিটর রুমে ফিরে এলো পিট। ইতোমধ্যে চেইনের থালা খুলে বাকি তিনজনকে মুক্ত করেছে স্টেসি।
কামাতোরিকে নিয়ে কী করলে তুমি? জানতে চাইল অ্যাল।
সে এখন তার কালেকশনের একটা আইটেম, কুড়ালটা অ্যালের হাতে ধরিয়ে দিল পিট। রোবট দুটোকে ভাঙ, কেউ যাতে তাড়াহুড়ো করে মেরামত করতে না পারে।
ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো পিটের সঙ্গে করমর্দন করলেন। আপনি আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, ভাই।
আপনি সাহসী পুরুষ, বললেন টিমোথি ওয়েদারহিল। আপনার সঙ্গে কাজ করতে পারছি, সেজন্যে আমি গর্বিত।
আপনারা কেউ জানেন, মেল পেনার আমাদেরকে কীভাবে উদ্ধার করবেন? জানতে চাইল পিট। মানে, কোনো প্ল্যান আছে কিনা?
নেই, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো জানালেন। প্রথমে ঠিক হয়েছিল আমাদের জন্যে সাবমেরিন পাঠানো হবে, কিন্তু স্যাটেলাইট ফটোয় সুমারসী ডিফেন্স দেখার পর প্ল্যানটা বাতিল করে দেয়া হয়। পরামর্শ দেয়া হয়, আমাদেরকে টানেল ধরে এডো সিটিতে উঠতে হবে, ওখান থেকে পালিয়ে আশ্রয় নিতে হবে টোকিও দূতাবাসে।
অ্যালের দিকে তাকায় পিট। আর আমরা দুজন?
স্টেট ডিপার্টমেন্টকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা যেন সুমা ও জাপানি সরকারের সাথে আপনাদের মুক্তির জন্যে আলোচনা শুরু করে।
হাত দিয়ে কপাল চাপড়াল অ্যাল। স্টেট ডিপার্টমেন্ট? ওরা তো মাসের পর মাস আলোচনা করেও কোন সুবিধে আদায় করতে পারে না।
বোঝা যাচ্ছে, নিজেদের চেষ্টায় মুক্তি পেতে হবে আমাদের, বলল স্টেসি, পিটের দিকে তাকালো। আমাদের কার কাছে কী আছে?
ধরা পড়ার পর আমাদেরকে সার্চ করা হয়েছে, এক্সপ্লোসিভ কিট নিয়ে গেছে রোবটরা, বললেন টিমোথি ওয়েদারহিল, কার্পেটে বসে জুতো জোড়া খুললেন তিনি। জুতোর সোল বের করে গোল পাকালেন, ছোট দুটো বল তৈরি হলো। সি এইট প্লাস্টিক। লেটেস্ট এক্সপ্লোসিভ।
তাহলে প্ল্যান বদলাবার দরকার নেই, বলল পিট।
তার মানে? জানতে চাইল অ্যাল। তুমি কি এখনো ড্রাগন সেন্টার ধ্বংস করার ইচ্ছে রাখো?
ধ্বংস না করতে পারি, ক্ষতি করতে পারব না কেন? পাল্টা প্রশ্ন করল পিট।
এখান থেকে তাড়াতাড়ি কেটে পড়া উচিত, বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। কামাতোরির একটা প্রাইভেট আস্তানা, তার বন্ধুরা ও রোবট কন্ট্রোলার যে-কোনো মুহূর্তে খোঁজ নিতে আসতে পারে। কিন্তু যাব কীভাবে? এখানে চোখ বেঁধে আনা হয়েছে আমাদের।
ক্লিনিক পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারব আমি, বলল পিট।
সামনে যদি অনেকগুলো রোবট পড়ে, তোমার ম্যাগনেটে কোনো কাজ দেবে না, বলল স্টেসি।
স্টেসির পাশে চলে এলো পিট, দরজার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাল। তোমার বা দিকে একটা হোস পাইপ দেখতে পাচ্ছ? ঝোঁপের ভেতর?
হ্যাঁ, টেরেসের পাশে।
সাবধানে বেরোও, বলল পিট, স্টেসির হাতে ধরা কাতানার দিকে তাকালো একবার। পাইপটা কয়েক ফুট কাটো।
অবাক হয়ে পিটের দিকে তাকালো স্টেসি। জানতে পারি, কেন?
ছোট ছোট টুকরো করো, একটা টুকরো সিল্কে ঘষো, দেখবে এক ফালি নেগেটিভ ইলেকট্রন পেয়ে গেছ, ব্যাখ্যা করল পিট। তারপর হোসের একটা প্রান্ত রোবটের সার্কিটে ঠেকাও, লাফালাফি শুরু করবে ইলেক্রনিক, ফলে নষ্ট হয়ে যাবে জটিল কমপোনেন্টগুলো।
আপনি কলেজে ফিজিক্স পড়িয়েছেন কখনো? জানতে চাইলেন ড. টিমোথি ওয়েদারহিল।
কিন্তু সিল্ক পাব কোথায়? জিজ্ঞেস করল স্টেসি।
