তোমার হাতে মরতে তো তাঁকে হতোই, বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। লাভ হলো এইটুকু যে তোমাকে তিনি কসাই হবার সুযোগ দেন নি।
ক্রুর হাসি ফুটলো কামাতোরির ঠোঁটে। আমি আশ্বাস দিয়ে বলতে চাই, এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটবে না নতুন একটা রোবোডগকে রিপ্রোগ্রামড করা হচ্ছে, তার সিস্টেমে অপ্রত্যাশিত গোলযোগ দেখা দিলেও যাতে শিকারকে আক্রমণ না করে।
কুত্তার বাচ্চা! ফুঁসে উঠলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো
রাগী শিকার আমার খুব পছন্দ, হেসে উঠে বলল কামাতোরি। মি. ম্যানকিউসো, তোমাকে আমি সবার শেষে শিকার করব। মরার আগে বাকি সবার যন্ত্রণা তোমাকে দেখতে হবে।
এবার কে? জানতে চাইলেন টিমোথি ওয়েদারহিল। কার পালা?
এবার সম্মান দেখানো হবে মিস স্টেসি ফক্সকে। প্রফেশন্যাল ফিমেল অপারেটর চমৎকার একটা চ্যালেঞ্জ হবে বলে আমার ধারণা। অন্তত মি. পিটের চেয়ে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বলেই আশা করছি আমি।
মুখ শুকিয়ে গেল স্টেসির। দাঁড়াল কামাতোরি, রোবোটিক গার্ডনের নির্দেশ দিল স্টেসির চেইন খুলে দিতে। চেইনের তালা খোলা হলো রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে, একটা গার্ড টান দিয়ে চেয়ার থেকে তুলল তাকে।
দরজার দিকে হাত তুলল কামাতোরি। যাও, তীক্ষ্ণকণ্ঠে নির্দেশ দিল সে। এক ঘণ্টা পর ধাওয়া করব আমি।
শেষবারের মতো সবার ওপর চোখ বুলিয়ে নিল স্টেসি। রাগে লালচে হয়ে রয়েছে ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোর মুখ। টিমোথি ওয়েদারহিল এখনো বিহ্বল ভাবটা কাটিয়ে উঠতে পারেন নি। কিন্তু চোখাচোখি হতে চোখ মটকাল অ্যাল, মাথাটা সামান্য কাকাল, ক্ষীণ একটু হাসলো।
তুমি সময় নষ্ট করছ, ঠাণ্ডা সুরে বলল কামাতোরি।
দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পিট, দরজার গায়ে অলসভঙ্গিতে হেলান দিয়ে, স্টেসিকে পাশ কাটিয়ে দৃষ্টি চলে গেছে কামাতোরির ওপর। দুহাতে একটা বাঁকা তলোয়ারের হাতল ধরে আছে, ডগাটা কার্পেটের ওপর। ক্ষীণ হাসি লেগে রয়েছে ঠোঁটে। দেরি হলো বলে দুঃখিত। একটা কুকুরকে উচিত শিক্ষা দিতে হলো কিনা।
.
৫২.
কেউ নড়ল না, কারো মুখে কথা নেই। স্থির দাঁড়িয়ে রয়েছে রোবট দুটো, কামাতোরির নির্দেশ পাবার অপেক্ষায়, পিটের আকস্মিক আগমনে তাদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না। তবে সামুরাই খুনে বিস্ময়ের বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে অক্ষত অবস্থায় দোরগোড়ায় পিটকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। তার ঠোঁট ফাঁক হয়ে গেল, বড় হলো চোখ দুটো। তারপর ধীরে ধীরে, জোর করে হাসল সে। তুমি মরো নি, বলল সে, বিস্ময়ের ধাক্কাটা সামলে নিচ্ছে দ্রুত। আমাকে বোকা বানাবার চেষ্টা করেছ। কিন্তু রক্ত…?
তোমাদের ক্লিনিক থেকে কয়েকটা জিনিস ধার করি আমি, শান্ত সুরে বলল পিট। তারপর নিজের খানিকটা রক্ত ঝরাই।
কিনারা থেকে সাগরেও পড়ো নি তুমি। পড়লে পাথরে পড়তে, থেঁতলে যেত শরীর। কিংবা সাগরে পড়তে, ভেসে যেতে স্রোতের টানে।
পতনের ধাক্কাটা লেগেছে গাছে, কাজেই আমার কোনো ক্ষতি হয় নি, বলল পিট। স্রোতে গা ভাসিয়ে দিই, তারপর সাঁতরে চলে আসি ছোট একটা খাড়িতে, বেড়া টপকে উঠে আমি রিসর্টের নিচে।
কামাতেরির চেহারায় কৌতূহল ও অবিশ্বাস। রোবোটিক গার্ডদের ফাঁকি দিয়ে কিভাবে তুমি সিকিউরিটি পেরিমিটারে ঢুকলে?
কিছু মনে করো না, ওগুলোকে আমি অচল করে দিয়েছি।
অসম্ভব, দ্রুত মাথা নেড়ে বলল কামাতোরি। ওদের ডিটেকশন সিস্টেমে কোনো খুঁত নেই। অচেনা কাউকে ওরা ঢুকতে দেবে না।
বাজি ধরবে? তলোয়ারটা তুলল পিট, ডগাটা কার্পেট ও কাঠের মেঝেতে গাঁথল। বগলের তলা থেকে একটা মোজা বের করল, ভেতরে কী যেন আছে। হাসিমুখে, অলসভঙ্গিতে, একটা রোবো গার্ডের পেছনে এসে দাঁড়াল। রোবট ধরে দাঁড়াবার আগেই ওটার কমপিউটারাইজড মধ্য ভাগ ঘিরে থাকা প্রাস্টিকে চেপে ধরল জিনিসটা। সঙ্গে সঙ্গে আড়ষ্ট ও অচল হয়ে গেল রোবো গার্ড।
পিট কি করছে বুঝতে দেরি করে ফেলল কামাতোরি, চিৎকার করল, শূট হিম!
দ্বিতীয় রোবটের রাইফেল ঘুরল পিটের দিকে, স্যাৎ করে ব্যারেলের নিচে রসে পড়ল ও, হাতের জিনিসটা রোবটের প্রসেসরে চেপে ধরল। প্রথমটার মতো এটাও আড়ষ্ট ও অচল হয়ে গেল।
কীভাবে সম্ভব? হাঁপিয়ে উঠল স্টেসি, জানতে চাইল, কি করছ তুমি?
মোজার ভেতর থেকে সিক্স-ভোল্ট ড্রাই সেলটা বের করল পিট, সঙ্গে রয়েছে লোহার একটা পাইপ, পাইপে দুমিটার তামার তার জড়ানো। ম্যাগনেট। রোবটের ভেতর কমপিউটার আছে, ডিস্কের প্রোগ্রাম মুছে দিয়েছে ছোট এই চুম্বকটা।
সাময়িক অসুবিধে, তার বেশি কিছু না, মন্তব্য করল কামাতোরি। স্বীকার করছি, তোমাকে চিনতে ভুল হয়েছে আমার। সত্যি দারুণ মেধাবী ও দক্ষ মানুষ তুমি। তবে এতো কিছু করে নিজের আয়ু মাত্র কয়েক মিনিট বাড়াতে পেরেছ।
এখন আমরা অন্তত সশস্ত্র, ড. টিমোথি ওয়েদারহিল বললেন, মাথা ঝাঁকিয়ে রোবট দুটো হাতে ধরা আগ্নেয়াস্ত্রগুলো দেখালেন।
হেসে উঠল কামাতোরি, চেহারায় বিজয়ীর উল্লাস। পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ তার নিয়ন্ত্রণে। প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে বেঁচে আছে বটে পিট, কিন্তু তবু কোনো লাভ হলো না। রাইফেলগুলো রোবটের সঙ্গে ঝালাই করা। খালি হাতে ওগুলো আলাদা করা সম্ভব নয়। তোমরা সবাই আগের মতোই অসহায় ও নিরস্ত্র।
