মার্শাল আর্টে রোবটরা হয়তো অজেয়, কিন্তু ভারী অস্ত্রের আক্রমণ ঠেকাতে পারবে বলে মনে হয় না।
তা ঠিক, স্যার, তবে বোরটরা একটা হাত বা পা হারিয়েও অচল হয়ে পড়ে না, ওদের রক্তও ঝরে না।
হুম।
আরেকটা কথা ভেবে দেখতে হবে, স্যার। মিস লরেন ও মি. ডিয়াজের কোনো হদিস আমরা পাই নি। সন্দেহ করছি, সুমার সোসেকি দ্বীপে বন্দী করে রাখা হয়েছে ওদেরকে।
সিআইএ বলছে, তাদের বিশ্বাস, ওদেরকে এভো সিটিতে আটকে রাখা হয়েছে। সুমার অতিথি ভবনে ওদেরকে নাকি দেখা গেছে। চিন্তিত প্রেসিডেন্ট কয়েক মুহূর্ত কথা বললেন না। তারপর নিজেই নিস্তব্ধতা ভাঙলেন, তুমি জানো, আট ঘণ্টা অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তোমাকে আমি চার ঘণ্টা সময় দিলাম। এর মধ্যে তোমার টিম যদি ব্যর্থ হয়, ডেল্টা ফোর্স পাঠাব আমি।
সুমার দ্বীপে ডিফেন্স মিসাইল গিজগিজ করছে। কোনো সাবমেরিন তীরের বিশ কিলোমিটারের মধ্যে পানির ওপর মাথা তুলতে পারবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে। প্লেন থেকে প্যারাট্রুপার নামানোও সম্ভব নয়, উড়িয়ে দেবে। আর যদি কোনো ভাবে সোসেকি দ্বীপে ডেল্টা ফোর্স পা ফেলতে পারেও, ড্রাগন সেন্টারে পৌঁছুনোর আগে কেটে টুকরো টুকরো করা হবে ওদের।
আগামী সর্যের দিকে একবার তাকালেন প্রেসিডেন্ট। কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন, তোমার টিম যদি ব্যর্থ হয়, আমি ক্যারিয়ার নষ্ট করার ঝুঁকি নিয়ে অ্যাটম বোমা ফেলার নির্দেশ দেব। তখন কেইটেন প্রজেক্ট ঠেকাবার আর কোনো উপায় থাকবে না আমার।
.
ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি। বিজ্ঞান ও কারিগরি তথ্য বিভাগের পরিচালক ক্লাইড ইনগ্রাম চেয়ারে বসে বিশাল টিভি স্ক্রীনের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। উন্নয়নমানের নতুন রিকনিসনস স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো ছবিতে বিশদ বিবরণ এতো নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে, প্রায় বিশ্বাস্যই বলা যায়। পিরামিডার স্যাটেলাইটের বৈশিষ্ট্য হলো, জমির ও সাগরের নিচের ছবিও তুলতে পারে। আজ সন্দের সোসেকি দ্বীপের চারপাশের ছবি পরীক্ষা করছেন তিনি। নির্জন আবাসকে ঘিরে থাকা বনভূমির ভেতর লুকানো মিসাইল সিস্টেম আবিষ্কার করার পর এখন তিনি পানির নিচে সুমার সিকিউরিটি ফোর্সের রাখা সেনসর খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। সাবমেরিনের গতিবিধি সম্পর্কে জানার জন্যে এধরনের সেনসর অবশ্যই তারা রাখবে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁর চোখে ছোট একটা জিনিস ধরা পড়ল, চৌত্রিশ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সাগরের তলায় পড়ে রয়েছে, তিনশো বিশ মিটার গভীরে। কমপিউটার মেইনফ্রেমে মেসেজ পাঠালেন তিনি, জিনিসটার চারদিক এনলার্জ করতে হবে।
মেসেজ পেয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের একটা দ্বীপের রিসিভারে এনলার্জ ইমেজ পাঠালো স্যাটেলাইট, সেখান থেকে ওটা রিলে করা হলো এনএসএ-র কমপিউটারে। চেয়ার ছেড়ে টিভি স্ক্রীনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। কাইড ইনগ্রাম কয়েক মুহূর্ত পর ফিরে এসে বসলেন আবার, ফোনের রিসিভার তুলে ডায়াল করলেন অপারেশনস-এর পেপুটি ডিরেক্টরকে। ভদ্রলোক এ মুহূর্তে ওয়াশিংটনের ট্র্যাফিক জ্যামে পড়েছেন। মি, হোপ, সোসেকি দ্বীপের কাছাকাছি সাগরের তলায় আমি একটা প্লেন দেখতে পাচ্ছি।
আপনার বউ-বাচ্চা নেই, বাড়ি ফিরবেন না? কার্টিস মীকার বিস্ময় প্রকাশ করলেন। মডেল?
দেখে মনে হচ্ছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়কার বি-টোয়েনটিনাইন। দুমড়ে মুচড়ে গেছে, তবে এতো বছর পরও কাঠামো প্রায় অক্ষতই আছে।
ডিটেলস?
নশ্বরগুলোর ছবি পরিষ্কার। ফিউজিলাজে দেখা অক্ষরগুলোও। ককপিটের নিচে বো-তে কী যেন একটা আঁকা রয়েছে, তা-ও দেখতে পাচ্ছি।
কী আকা রয়েছে?
তেমন পরিষ্কার নয়, কারণ চারশো মিটার পানির নিচের ছবি তো। তবে মনে হচ্ছে ওটা যেন শয়তান, মানে, ডেভিলের ছবি।
হরফগুলো কী বলে? কিছু পড়তে পারছেন? জানতে চাইলেন কার্টিস মীকার।
ঝাপসা, জবাব দিলেন কাইড ইনগ্রাম। প্রথম শব্দটা আগাছা বা কাদায় ঢাকা পড়ে গেছে। দ্বিতীয় শব্দটা ডেমনস।
বেশ কিছুক্ষণ চিন্তিত মনে ছবির বিমানটার দিকে তাকিয়ে রইলেন ইনগ্রাম।
.
৫১.
চোখ খোলা রাখার জন্যে টেপ ব্যবহারের দরকার হলো না, চারজনই ওরা ভিউইং স্ক্রীনের দিকে আতঙ্কে বি তে তাকিয়ে থাকল। রোবোডগের সাথে লড়ছে পিট, এ সময় হঠাৎ ছবিটা অদৃশ্য হলো স্ক্রীন থেকে। খানিক পর আরেকটা ক্যামেরা সচল হলো, স্ক্রীনে ফুটে উঠল রক্তাক্ত একটা দৃশ্য।
ধাতব চেয়ারে বসে রয়েছে ওরা, হাতল ও পায়ার সাথে চেইন দিয়ে বাঁধা, সামনে বিশাল একটা ভিডিও স্ক্রীন। জাপানি অটোমেটিক রাইফেল হাতে পাহারায় রয়েছে রোবোগার্ডরা, মুরাসাকি ও ওকার্মি রাইফেলগুলো বন্দীদের মাথার পিছন দিকে তাক করা।
হতাশায় মুষড়ে পড়ার অবস্থা ওদের। অনেক চিন্তা করেও পরিত্রাণ পাবার কোনো উপায় খুঁজে পায় নি কেউ। মৃত্যু যে অবধারিত, এ ব্যাপারে কারো, কোনো সন্দেহ নেই।
অ্যালের দিকে তাকাল স্টেসি, বন্ধুকে চিরতরে হারানোর আঘাত কীভাবে সামলাচ্ছে দেখতে চায়। কিন্তু তার চেহারায় কোনো ভাব নেই, বেদনা বা রাগ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। শান্তভাবে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে স্ক্রীনের দিকে।
আরো খানিক পর কামরায় ঢুকল কামাতোরি, কার্পেটের ওপর পদ্মাসনে বসল, খানিকটা সাকি ঢালল গ্লাসে। শিকারের ফলাফল আশা করি দেখেছ তোমরা, চুমুক দেয়ার ফাঁকে বলল সে। ডার্ক নিয়ম ধরে খেলে নি। রোবটটাকে আক্রমণ করে সে, তার প্রোগ্রামিং বদলে দেয়, তারপর নিজের বোকামিতে মারা যায়।
