এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটে নি। অন্যান্য শিকাররা রোবট দেখলে পালাতে দিশে পায় নি, ক্ষতি করা তো দূরের কথা। বাকি সবাই যা পারে নি তা যদি পিট পেরে থাকে, পৌঁছুবার সময় অত্যন্ত সাবধান থাকা উচিত তার। হাঁটার গতি কমাল সে। তার অন্তত সময়ের কোনো অভাব নেই।
বাকি দূরতুটুকু পেরুতে বিশ মিনিট সময় নিল রেবানামি, পৌঁছে গেল ফাঁকা জায়গাটায়। ঝোঁপের ফাঁক দিয়ে অস্পষ্টভাবে রোবটটাকে দেখতে পেল সে। কাত হয়ে পড়ে রয়েছে ওটা। তার মানে তার সন্দেহই সত্যি।
গাছপালার আড়ালে দাঁড়িয়ে ভোলা পাথরের স্তূপগুলোর ওপর চোখ বুলাল। কামাতোরি। তারপর সতর্ক পায়ে নিঃসাড় পড়ে থাকা কুকুরটার দিকে এগোল। খাপ থেকে বের করল তলোয়ারটা, খাড়া করল মাথার ওপর, ধরে আছে দুহাতে।
বড় করে শ্বাস টানল সে, তীক্ষ্ণ ও দুর্বোধ্য চিৎকার বেরিয়ে এলো গলা চিরে। তারপর লাফ দিল।
কিন্তু পিট ওখানে নেই।
ছোট্ট ফাঁকা জায়গাটা পরিত্যক্ত রণক্ষেত্রের মতো লাগছে। জমিন পাথর ও যান্ত্রিক কুকুরের ওপর রক্ত লেগে রয়েছে। পাহাড়-প্রাচীরের কিনারার দিকে এগিয়ে গেছে একটা মোটা ধারা, ঝরে পড়েছে নিচে। জমিনটা পরীক্ষা করল কামাতোরি। পিটের পায়ের দাগগুলো গভীর ও এলোমেলো, কিন্তু রক্তের কোনো দাগ ফাঁকা জায়গাটা থেকে বেরিয়ে যায় নি। কিনারা থেকে উঁকি দিয়ে নিচের সাগর ও পাথর স্তূপের দিকে তাকালো সে। একটা গাছ দেখতে পেল। পাল্টা স্রোতের মধ্যে পড়ে খানিকদূর এগোচ্ছে সেটা, তারপর আবার ঢেউয়ের ধাক্কায় ফিরে আসছে পাহাড় প্রাচীরের গায়ে। প্রাচীরের কিনারায় বড় একটা গর্তও দেখল সে, দেখতে পেল ছেঁড়া কয়েকটা শিকড়।
আক্রান্ত হয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে রোবোডগ, আঁচড়ে কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত করে তোলে পিটকে। পালাবার কোনো জায়গা নেই, নড়ারও কোনো উপায় নেই, কাজেই আত্মরক্ষার জন্যে নিশ্চয়ই পিট গাছে চড়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু গাছের ডাল ওর ভার সহ্য করতে পারে নি, ওকে নিয়ে পড়ে গেছে নিচের পাথরে। পিটের লাশটা কোথাও দেখা যাচ্ছে না বটে, নয়তো টেনে নিয়ে গেছে তার।
অন্ধ আক্রোশে বিস্ফোরিত হলো কামাতোরি। যান্ত্রিক কুকুরটাকে হ্যাঁচকা টানে তুলে নিয়ে কিনারা দিয়ে সাগরে ফেলে দিল সে। তার রাগের কারণ হলো, এই প্রথম একজন শিকার তাকে ফাঁকি দিয়েছে। ডার্ক পিটের মাথা তার দেয়ালে শোভা পাবে না।
ঠিক আছে, বাকি জিম্মিদের ওপর প্রতিশোধ নেবে সে। সিদ্ধান্ত নিল, তার পরবর্তী শিকার হবে স্টেসি ফক্স। একে একে অ্যাল জিওর্দিনো, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো ও টিমোথি ওয়েদারহিলের চেহারাগুলো ভেসে উঠল তার চোখের সামনে। রঙিন টিভি স্ক্রীনে সবাই ওরা দেখতে পাবে স্টেসিকে কীভাবে টুকরো টুকরো করা হচ্ছে। তলোয়ার দিয়ে।
নাকের সামনে তলোয়ার খাড়া করে ফিরে আসছে মুরী কামাতোরি। নতুন সূর্য উঠল আকাশে, রোদ লেগে ঝিক্ করে উঠল তার তলোয়ারের ফলা।
৫০. গলফ খেলছেন প্রেসিডেন্ট
৫০.
শেষ বিকেলে কংগ্রেসন্যাল কাউন্টি ক্লাবে গলফ খেলছেন প্রেসিডেন্ট। তুমি ঠিক জানো? কোনো ভুল নেই?
জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন ডিরেক্টর রেইমন্ড জর্ডান মাথা নাড়লেন। দুঃসংবাদটা সত্যি বলেই ধরে নিতে হয়। কারণ যোগাযোগের নির্দিষ্ট সময় চার ঘণ্টা আগেই পেরিয়ে গেছে।
তাঁকে নিয়ে খোলা কার্ট-এ চড়লেন প্রেসিডেন্ট। তার মানে কী মারা গেছেন ওঁরা?
ড্রাগন সেন্টারে আমাদের যে ব্রিটিশ এজেন্ট আছেন তাঁর কাছ থেকে আমরা শুধু জানতে পেরেছি, ওরা ধরা পড়েছে।
কীভাবে ধরা পড়ল?
হিদেকি সুমার রোবোটিক সিকিউরিটি ফোর্সের কথা আমাদের জানা ছিল না। ওরা যে প্রায় মানুষের মতোই যোগ্য রোবট তৈরি করার টেকনলজি আয়ত্ত করেছে, আমাদের ধারণা ছিল না।
রোবট অথচ মানুষের মতো হাঁটতে ও কথা বলতে পারে?
ইয়েস, স্যার। এবং সশস্ত্র।
কিন্তু তুমি বলেছিলে তোমার লোকজন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
এখনো আমি তাই মনে করি। আমরা সবাই জানি, ফুলপ্রুফ সিকিউরিটি সিস্টেম বলে কিছু নেই। কিন্তু সুমার বিশাল টেকনলজি ফ্যাসিলিটি সে রকম একটা সিস্টেম তৈরি করেছে। এমন একটা কমপিউটারাইজ ইন্টেলিজেন্স যে কারো পক্ষেই এড়ানো সম্ভব নয়।
রেসকিউ মিশন পাঠিয়ে ওদেরকে উদ্ধার করার কোন আশা আছে?
বোধহয় নেই। আমরা রেসকিউ টিম পাঠাবার আগেই মারা যাবে ওরা। বিশ্বাস করার কারণ আছে, সুমা ওদেরকে মেরে ফেলবে।
ম্লান মুখে চুপ করে থাকলেন রেইমন্ড জর্ডান।
গলফ খেলার ইচ্ছেটা মরে গেছে, কার্ট থেকে নেমে ক্লাব হাউসের দিকে এগোলেন প্রেসিডেন্ট, পিছু পিছু একদল সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট আসছে। সাগরের নিচে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্বীপটা তাহলে উড়িয়ে দিতে হয়, বললেন তিনি। ওটার সাথে ড্রাগন সেন্টারও ধ্বংস হয়ে যাক।
শুধু বিশ্বজনমত নয়, আমেরিকানরাও আপনার ওপর খেপে যাবে, মি. প্রেসিডেন্ট।
সেক্ষেত্রে ডেলটা ফোর্স পাঠাব আমরা। জলদি।
গুয়াম-এ, এন্ডারসন এয়ার ফোর্স বেস-এ, স্পেশাল ফোর্স টিম তৈরি হয়ে আছে। কিন্তু আমার পরামর্শ হলো, অপেক্ষা করা উচিত।
কী চাও তুমি আমার কাছে?
আরো আট ঘণ্টা সময়, মি. প্রেসিডেন্ট।
কিন্তু কেন? কী করতে চাও তুমি?
আমি এখনো বিশ্বাস করি, ধরা পড়ার পরও, ওদের মিশন সফল হবে, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। তাছাড়া, ডেল্টা ফোর্স পাঠালেই যে তারা কিছু করতে পারবে, এমন না-ও হতে পারে। রোবটদের সাথে যুদ্ধ করার ট্রেনিং ওরা পায় নি।
