বাথরুম সারল পিট, বেডে ফিরে এসে শুয়ে পড়ল। নার্স এখনো তার কাজে ব্যস্ত। পাশের অন্য এক কামরায় ফিসফিস করে ফোনে কথা বলছে ডাক্তার জশ নগামি।
সাদা সিলিঙের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পিট, মনে কোনো উদ্বেগ নেই। ওর প্ল্যানটা রেইমন্ড জর্ডান বা ডোনাল্ড কার্ন হয়তো দারুণ বলে প্রশংসা করবেন না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এরচেয়ে ভালো আর কিছু করার নেই।
.
৪৯.
ভোর পাঁচটায় আকাশ এখনও অন্ধকার। ঢোলা ট্রাউজার পরেছে মুরো কামাতোরি, দুভাগ করা স্কার্ট-এর মতো দেখতে। গায়ে চড়িয়েছে কেইটেন আমলের সিল্ক হান্টিং জ্যাকেট। পায়ে শুধু স্যান্ডেল।
পিটের পরনে শুধু টি-শার্ট ও শর্টস, শর্টস জোড়া ওর ফ্লাইং স্যুট কেটে তৈরি করা। পায়ে জুতো নেই, শুধু সাদা এক জোড়া মোজা।
ঘুম ভাঙিয়ে কামাতোরির ব্যক্তিগত স্টাডিতে নিয়ে আসা হয় পিটকে। কামরাটা গরম রাখার কোনো আয়োজন নেই, ঠাণ্ডায় দাঁড়িয়ে হি হি করতে হয়েছে পিটকে। তবে ওর মনোযোগ কেড়ে নেয় দেয়ালগুলো। দুনিয়ার সব এলাকার সব যুগের অস্ত্র অ্যান্টিকস হিসেবে শোভা পাচ্ছে কামরার চারদিকে। আমার সুট, আমেরিকান ও জাপানি, সৈনিকদের মতো দাঁড়িয়ে আছে কামরার মাঝখানে। দেয়ালে শত শত তলোয়ার, বর্শা, তীর-ধনুক ও আগ্নেয়াস্ত্রের মাঝখানে রয়েছে বাঘ ও সিংহের ছাল, হাতির দাঁত, হরিণের শিং, মানুষের মাথা। মাথা থেকে ছাল ছাড়াবার পর গর্তগুলো ভরা হয়েছে মোম দিয়ে, ফলে প্রতিটি চেহারা চেনা যায়।
বিশেষ করে মানুষের মাথাগুলো গুনলো পিট। ত্রিশটা গোণার পর বমি পেল ওর। প্রতিটি মাথার কোটরে জ্বলজ্বল করছে কাঁচের চোখ। দেখে মনে হলো, বেশির ভাগই এশিয়ান। তবে ইউরোপিয়ানও কম নয়। রয় ওরশিয়ার মাথাটা চিনতে পেরে শিউরে উঠল পিট।
আমার ট্রফি রুমে স্বাগত, ডার্ক, দরাজ গলায় বলল মুরো কামাতোরি। এসো, কফি খাই। নিচু টেবিলের পাশে খালি কুশনটা দেখালো সে। কয়েক মিনিট গল্প করি, তারপর…।
বাকি সবাই কোথায়? বাধা দিল পিট।
কামাতোরির চোখে ঠাণ্ডা দৃষ্টি। পাশের ছোট্ট অডিটোরিয়ামে বসে আছে, ভিডিও স্ক্রীনে খেলাটা দেখতে পাবে।
ইউ বাস্টার্ড!
দেখাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে ওদের উপকারের জন্যে, হাসল কামাতোরি। প্রথম দিকের শিকাররা কে কোথায় কী ভুল করল দেখে সাবধান হবার সুযোগ পাবে।
আবার এমনো হতে পারে, ভয়ে চোখ বুজে থাকবে ওরা।
ঠোঁট বাঁকা হয়ে গেল কামাতেরির। এটা এক্সিপেরিমেন্টাল কোনো ব্যাপার নয়, ডার্ক। এ ঘটনা বহুবার ঘটেছে, ফলে পদ্ধতিটা পুরোপুরি নিখুঁত। শিকারদের বেঁধে রাখা হয় চেয়ারের সাথে, প্রয়োজনে টেপ দিয়ে আটকে খোলা রাখতে বাধ্য করা হয় চোখ। তোমার নিয়তি ও পরিণতি না দেখে উপায় নেই ওদের।
আমার বিশ্বাস, মি. কামাতোরি, লাশটি তুমি আমার দেশে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবে, বলল পিট, দেয়ালে ঝুলন্ত মানুষের মাথাগুলোর ওপর দ্রুত একবার চোখ বুলিয়ে নিল। ওর চোখের দৃষ্টি স্থির হলো র্যাক ভর্তি তলোয়ারের দিকে।
মনে মনে ভয়ে মরে যাচ্ছ তুমি, মি. পিট। তবে সাহস দেখাবার ভানটা সত্যি প্রশংসনীয়, মন্তব্য করল কামাতোরি। তোমার যা খ্যাতি, এর চেয়ে কম কিছু আশা করি নি আমি।
আমার পর কার পালা? জানতে চাইল পিট।
কসাইটা কাঁধ ঝাঁকাল। তোমার বন্ধু অ্যাল জিওর্দিনো কিংবা মহিলা অপারেটর স্টেসি ফক্স। মেয়েটা হলে ভালো হয়। কারণ একটা মেয়েকে নির্মমভাবে শিকার হতে দেখলে বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীরা খেপে যাবে, শিকার হিসেবে হয়ে উঠবে ভয়ঙ্কর। আমি আবার ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ ছাড়া শিকার করে আনন্দ পাই না।
আর যদি আমাদের একজনকে তুমি ধরতে না পারো? জানতে চাইল পিট।
দ্বীপটা ছোট্ট। আট ঘণ্টার বেশি কেউ আমাকে ফাঁকি দিতে পারে নি।
তুমি কোনো ছাড় দাও না? জিজ্ঞেস করল পিট। ধরা পড়ার পর ক্ষমার প্রশ্নও নেই?
না, বলল কামাতোরি, সারা মুখে ছড়িয়ে পড়ল ত্রুর হাসি। এটা বাচ্চাদের লুকোচুরি খেলা নয়, ডার্ক। এটা প্রাণ নিধনের প্রতিযোগিতা। তবে কথা দিচ্ছি, তোমার মৃত্যু হবে দ্রুত ও পরিচ্ছন্ন।
সামুরাইয়ের চোখে তাকিয়ে থাকল পিট। এটা তাহলে খেলা নয়? মানুষ শিকার? তার মানে আমাকে ডেঞ্জার রেইনসফোর্ড-এর ভূমিকা নিতে হবে? আর তুমি বেনে জেনারেল য্যারফ-এর ভূমিকা।
চোখ কোঁচকালো মুরো কামাতোরি। এ-সব নাম আমার পরিচিত নয়।
রিচার্ড কনেল-এর মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম পড়ো নি তুমি? ক্লাসিক একটা গল্প, এক লোক খেলাচ্ছলে মানুষ শিকার করতো।
আমি পশ্চিমা সাহিত্য পড়ি না। দরজার দিকে ইঙ্গিত করল সে। শুরু করার সময় হয়েছে।
কিন্তু এখনো তুমি নিয়ম-কানুন কিছু বলো নি।
কোনো নিয়ম নেই, ডার্ক। দয়া করে আমি তোমাকে এক ঘণ্টা সময় দেব। তুমি রওনা হবার এক ঘণ্টা পর রওনা হব আমি। আমার সাথে শুধু একটা তলোয়ার থাকবে, যে-কোনো মানুষকে শিকার করার জন্যে ওটাই আমার জন্যে যথেষ্ট। তবে ওটা একটা বিশেষ তলোয়ার। আমাদের পরিবারে কয়েক প্রজন্ম ধরে রয়েছে, রক্তও ঝরিয়েছে প্রচুর।
তুমি বলতে চাইছ তোমার পুর্ব-পুরুষরাও ভোমার মতো কাপুরুষ ছিল? নিরস্ত্র লোকদের এভাবে মারতো?
কামাতোরি জানে, তাকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে পিট। কথাটা গায়ে না। মেখে হাত তুললো সে। দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাও। এক ঘণ্টা পর আসছি আমি।
