পথ দেখিয়ে দিবে তীরের মাথা।
কিন্তু পদ্যে কোন তীরের মাথার উল্লেখ করা হয়েছে? প্রতিটিই পাথরের দিকেই পয়েন্ট করছে; কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন অংশ।
“এগুলোর কোনটা?”।
হেলিকপ্টারের রোটরের গর্জন ছাপিয়ে শোনা গেল কুপারের চিৎকার। “ছায়া এসে যেটাকে স্পর্শ করবে, সেটাই আমাদেরকে সিলের কাছে নিয়ে যাবে!” পাল্টা চিৎকার করে উত্তর দিল ভ্যান ক্লক, “দেখ, এরই মাঝে সরতে শুরু করেছে।”
কুকের কথাই ঠিক। কাঁপতে শুরু করেছে ভোরবেলার সূর্যের তৈরি ছায়া; আস্তে আস্তে পিছিয়ে পাথুরে বিন্যাসের দিকে সরে যাচ্ছে।
“এখানে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরা যাবে না!” গজগজ করে উঠল কুপার, আর যতটুকু ফুয়েল আছে তা দিয়ে কোনো মতে কেবল আকতাও ফেরা যাবে।”
“তীরের মাথায় নির্দেশ করছে!” জবাব দিল ভ্যান কুক, “আমরা এখন নিচে নামব।”
অবতরণ শুরু করেছে হেলিকপ্টার আর এদিকে মাটিতে বিভিন্ন তীরের মাথার চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে অ্যাডভান্স টিম। বিজয় বুঝতে পারল কী ঘটছে। দিনের আলো ফুটতেই সাদা পতাকা পুঁতে দেয়ার কাজ শুরু করেছে। এই টিম। সঠিক তীরের উপর ছায়া পড়লেই সাদা পতাকার ছায়া দেখে বুঝে যাবে কোথায় যেতে হবে।
ধুলা আর বালির ঝড় তুলে ল্যান্ড করল হেলিকপ্টার। রোটরের শব্দে কানে তালা লেগে যাবার জোগাড়।
চারপাশের দৃশ্য সত্যি মনোমুগ্ধকর। বিশালাকার জনশূন্য সমভূমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিন ভাতা নামক পাথুরে বিন্যাস। সূর্য আকাশে চড়ার সাথে সাথে বহুদূরে বদলে যাচ্ছে পাহাড় চূড়ার রঙ।
“একটা ব্যাপার মাথায় ঢুকছে না।” বলে উঠল বিজয়। এই মুহূর্তে উভয় তীরের মাথায়ই ছায়া পড়েছে। যত সময় যাচ্ছে উভয় মাথাই সরে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট একটা দিকেই নির্দেশ করছে!”
“ধীরে বৎস ধীরে” ভ্যান ক্লক জানাল, “মনে রাখবে কিউবটা অর্ডারের তৈরি, আমরা যাই করি না কেন তার একটা উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকবে। পদ্যে যদি লেখা থাকে যে এই নির্ণীত হবে সেই অবস্থান; তাহলে আমার বিশ্বাস তাই ঘটবে।”
অপেক্ষা করছে পুরো দল।
এখনো পিছু হটছে ছায়া। কোনটা হবে তাদের কাঙ্ক্ষিত পথপ্ৰদৰ্শক তীর?
.
৬৮. সাপের সিল
কাঁপতে কাঁপতে দুটো তীরের মাথা অতিক্রম করে একেবারে ডানদিকেরটার উপর গিয়ে স্থির হল ছায়া। একসাথে চিৎকার করে উঠল পুরো দল। তিন ভ্রাতার সবচেয়ে ছোটটির দিকেই নির্দেশ করছে ছায়া।
ভ্যান কুকের ধারণার সত্যতা উপলব্ধি করল বিজয়। এখন পর্যন্ত লোকটার উচ্চারিত বাণী সত্যিই অবিশ্বাস্য। কিন্তু পেছনে যাওয়ার সময় ছায়া নিজে একটা তীরের মাথা তৈরি করে পাথুরে বিন্যাস থেকেও দূরে কোথাও নির্দেশ করছে। পাথর আর সূর্যের এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে তীরের মাথার ন্যায় ছায়ার ফলা আর মালভূমির তীরের মাথা এবারে একসাথে মিলে গেল।
ভ্যান কুক বিজয়ীর ভঙ্গিতে তাকাতেই বিজয়ও সম্মত হয়ে মাথা নাড়ল। “চলো।” আগে আগে চলল ইউরোপীয় ভ্যান আর হেলিকপ্টার থেকে বিশাল ট্রাংক নামিয়ে পিছু নিল বাকি দল।
ছোট্ট চূড়াটার কাছে পৌঁছাতেই উত্তেজিত হয়ে উঠল বিজয়; না জানি সাপের সিলটা কেমন হবে?
চোখ ফিরিয়ে তীরের মাথার দিকে তাকাল কুপার। মাথার ভেতরে নিশ্চয় কোনো, হিসাব কষছে, “তীর তির্যকভাবে উপরের দিকে উঠে গেছে।” অবশেষে জানাল, “তার মানে ঢাল খনন করতে হবে। মনে হয় ওখানে।” পাথুরে বিন্যাসের খাড়া একটা অংশ নির্দেশ করে দেখাল কুপার।
নির্দেশ দিতেই সামনে এগিয়ে গেল পাঁচজন। একটা ট্রাংক খুলে ভেতর থেকে যন্ত্রপাতি বের করে নিজেদের মাঝে আলোচনা সেরে নিল। এরই ফাঁকে বারবার পাথর চূড়া দেখে নিল। পর্বতারোহী না হওয়ায় বিজয় তাদের আলোচনা না বুঝলেও এটুকু বুঝতে পারছে যে কোন যন্ত্রণাটা ব্যবহার করা হবে সেটা নিয়ে লোকগুলো ধন্ধে পড়ে গেছে।
তারপর একজন একটা সিলিন্ডারের আকৃতি সদৃশ যন্ত্র হাতে নিয়ে সবচেয়ে ছোট চূড়াটার মাথায় নিশানা করল। ছুটে গেল গ্র্যাপলিং হুক। পাথরের মাথায় আটকে যেতেই দেখা গেল পেছনে রেখে গেছে সঁড়ি। বিজয় বুঝতে পারল যে যন্ত্রটা বোধহয় কোনো এক ধরনের কমপ্রেসড এয়ার ক্যানন যা হুকটাকে আটকে ফেলেছে। দড়ি ধরে টান দিল পাঁচজনের একজন। কয়েক ইঞ্চি খুলে এসেই পুরোপুরি আটকে গেল। তার মানে পাথরের গায়ে কোনো গর্তে বিধে গেছে।
এরপর প্যাকেট থেকে আরেকটা যন্ত্র বের করে দড়ির সাথে জুড়ে দেয়া হল। কিন্তু হার্নেস বের করে যন্ত্রটার সাথে না লাগানো পর্যন্ত চিনতে পারল না বিজয়। আর তারপর একটা বোতামে চাপ দিতেই মোটরচালিত কপিকলে দ্রুত সঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল লোকটা।
“পাথরের উপর কোনো প্রবেশ মুখ কিংবা অর্ডারের চিহ্ন সম্বলিত কোনো সিল আছে কিনা খুঁজে দেখবে।” গলার কাছে ঝোলানো মাইক্রোফোনের মাধ্যমে লোকটাকে নির্দেশ দিল কুপার। বিজয় আর ভ্যান কুক ছাড়া দলের বাকি সকলের কাছেই যোগাযোগ করার জন্য মাইক্রোফোন আর ছোট্ট ইয়ারপিস আছে।
কপিকল লোকটাকে টেনে পুরোপুরি উপরে নিয়ে গেল। এরপর প্রায় সত্ত্বর ফিট। কাছে গিয়ে দড়িটাকে পাথরের সাথে বেঁধে নিল যেন বাতাসে দুলতে না হয়।
“ও সিল খুঁজে পেয়েছে।” ভ্যান কুককে জানাল কুপার, “পুরোপুরি অক্ষত আছে।”
মাথা নাড়ল ভ্যান কুক, “আমিও তাই ভেবেছিলাম। এখন বোঝা যাচ্ছে যে আলেকজান্ডার কেন মারা গেছে” বিজয় উৎসুক হয়ে তাকালেও নিজের সাংকেতিক বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল না ভ্যান কুক।
