কিন্তু তাহলে মারা গেলেন কেন? উনার ক্ষেত্রে কেন এটা কাজ করেনি?
“যাবার সময় হয়েছে।” বিজয়ের চিন্তায় বাধা দিল ভ্যান কুকের তীক্ষ্ণ গলা। “সবাই বের হয়ে যাও।” এরপর বিজয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, “জালালাবাদ ফেরার সময়ে আমাকে সবশেষ পদ্যটার অর্থ জানাবে।”
.
ধাঁধার মীমাংসা
বিজয়ের ফোনের অপেক্ষায় স্টাডিতে বসে আছে এলিস আর কলিন। বিজয় স্যাটেলাইট ফোনের নাম্বার শেয়ার করার অনুমতি না পাওয়ায় ওর সাথে যোগাযোগ করারও কোনো উপায় নেই। আপাতত ঘুমের বাহানায় রুমে গেছেন ভা, শুক্লা। কিন্তু এখনো রাধার কোনো খবর না পাওয়ায় উনি যে কতটা ঘুমাতে পারবেন তা কলিন ভালোভাবেই জানে।
হঠাৎই রাতের নীরবতাকে চিরে দিয়ে ফোন বেজে উঠল। হুড়াহুড়ি করে ফোন ধরতে ছুটল কলিন। স্পিকার অন করে দিল যেন এলিসও শুনতে পায়।
“হাই, বিজয়” বন্ধুকে সম্ভাষণ জানিয়ে বলল, “এলিসও এখানে আছে।”
“গাইজ, এতক্ষণে নিশ্চয় আমার জন্য কিছু পেয়েছ?”।
“হুম পেয়েছি।” কণ্ঠস্বরের গর্বিত ভাব লুকাতে পারল না কলিন। “তোমার প্রয়োজনমত সর্বশেষ অবস্থানটা হল উসিয়র্ত মালভূমি; যা কাজাকাস্তান আর উজবেকিস্তানকে দু’ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। পদ্যে তিন ভাতা নামে যে স্থানের উল্লেখ করা হয়েছে তা প্রাকৃতিকভাবেই গঠিত কাজাক অংশের মালভূমি। এটা কাজাকাস্তানের অত্যন্ত কঠিন একটা অঞ্চল। যাত্রাপথে জান বেরিয়ে যাবে। এলিস আর আমি ঝাড়া পয়তাল্লিশ মিনিট ধরে পুরো জিনিসটা নিয়ে গবেষণা করেছি।”
“অসাধারণ! আর তীরের মত মাথা? যা কিনা পথ দেখাবে?”
ইন্টারনেটের মাধ্যমে কী পেয়েছে তা খুলে বলল কলিন।
“বেশ যুক্তিযুক্ত। অদ্ভুত হলেও অসম্ভব নয়। বাজি ধরে বলতে পারি।”
“আমিও। তবে সত্যি কথা বলতে আমার কোনো ধারণাই নেই যে ওখানে কী খুঁজে পাবে। কারণ অনুসন্ধানের কেন্দ্রস্থল” মানে এখনো জানিনা।”
“আমি জানি। এটা হল একটা ভাইরাস। মালভূমিতেই আছে ভাইরাসের উৎস। কুনার ভ্যালিতে ব্যাকটেরিয়া পেয়েছি। এখান থেকেই তৈরি হচ্ছে অমৃত। তাই আর বাকি আছে প্রকৃত ভাইরাসের নমুনা। আর অমৃতের জন্য ভাইরাস প্রধান উপাদান হওয়াতে মালভূমিই হল অনুসন্ধানের কেন্দ্রস্থল।” কুনার উপত্যকায় কী পেয়েছে তা বর্ণনা করল বিজয়।
“তার মানে এখন কেবল ক্যালিসথিনস ব্যাকট্রিয়া থেকে কী পেয়েছিলেন তার মর্মোদ্বার করা বাকি আছে?” ভেবে বলল এলিস, “তুমি কি চাও আমরা এটা নিয়েও গবেষণা করি?”
খানিক বিরতি দিয়ে দলের সাথে আলোচনা করে এলো বিজয়। তারপর লাইনে ফিরে জানাল, “না, দরকার নেই।” এতক্ষণ ভ্যান ক্লকের সাথে কথা বলেছে। “ওরা এটা নিয়ে কাজ করছে। পদ্য সম্পর্কে আর কিভাবে উল্লেখিত জিনিসগুলো খুঁজতে হবে জেনে যাওয়ায় এদিকটা ওরাই সামলাবে। থ্যাংকস, গাইজ। তোমরা যে কত উপকার করলে।” বিদায় জানিয়ে ফোন কেটে দিল বিজয়।
মনমরা হয়ে এলিসের দিকে তাকাল কলিন, “ও একবারও রাধার কথা উচ্চারণ করেনি।”
ব্যাপারটা এলিসও খেয়াল করেছে, “তুমি ঠিকই বলেছ। মেয়েটার মুক্তি নিয়ে আলোচনা করার মত অবস্থানে পৌঁছেও ওকে খুশি মনে হল না।”
“এমন না যে ও চেষ্টা করলে সফল হবে না।” ব্যাখ্যা করল কলিন, “আমার তো মনে হয় ও রাধাকে ফিরে পাবার আশাই বাদ দিয়েছে।”
চুপচাপ বসে বিজয়ের মানসিক অবস্থার কথা ভাবতে লাগল দুজনে। নিজের বাগদত্তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে এমন একদল লোকের মাঝে ছেলেটা একা পড়ে গেছে। আর যদি সে মেয়েটাকে ফিরে পাবার আশা ত্যাগ করে তাহলে তো সত্যিই উদ্বেগের কথা।
.
৬৫. জয়পুর, রাজস্থান
জয়পুরে বিমানবাহিনির ঘাঁটি থেকে তলব করে আনা দুটো হেলিকপ্টারের একটা এম আই-টুয়েন্টি সিক্সের মধ্যে বসে আছেন ইমরান। এই হেলিকপ্টার পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন মিলিটারি বাহন হওয়ায় এই মিশনের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত। রাধার অবস্থানে কমান্ডোদেরকে বহন করে নেয়ার জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে এই দুই চপার।
এইমাত্র জয়পুরের শহরতলী ছাড়িয়ে পেছনে ফেলে এসেছে নগরের বাতি। সামনে এখন গাঢ় অন্ধকার। মাঝে মাঝে ছোট ছোট আলোর ফুটকি। নিয়মিত বিরতিতে লাল ওয়ার্নিং লাইটের জুলানেভা দেখে আঁধার সত্তেও স্পষ্ট বুঝতে পারছে অন্য হেলিকপ্টারের অস্তিত্ব।
শহর ত্যাগ করার প্রায় দশ মিনিট পরে ঠিক সামনেই বিশাল এক আলোর কুন্ডলি দেখা গেল। এটাই হল তাদের টার্গেট মেডিকেল ফ্যাসিলিটির কম্পাউন্ড।
রাধার লোকেশন নির্ণয় করার সাথে সাথে জয়পুর পুলিশকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যেন কম্পাউন্ডের চারপাশে রোড ব্লক বসানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেডিকেল সেন্টার ছেড়ে যাবার জন্য কারো তৎপরতার কথা রিপোর্ট করেনি পুলিশ।
দুশ্চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন ইমরান। এর মানে তো কেবল দুটো জিনিস হতে পারে। হয় বরুণ সাক্সেনা ফ্যাসিলিটতে নেই কিংবা রোড ব্লক বসানোর আগেই চলেই গেছে। যাই হোক না কেন টাইটানের সি এমওকে বুঝি ফাঁদে আটকানো গেল না।
টার্গেট লোকেশনে পৌঁছে অবতরণ শুরু করল দুই বিশালদেহী হেলিকপ্টার। ফ্যাসিলিটিতে যাবার জন্য বেশ চওড়া একটা ড্রাইভওয়ে আছে। এখানেই ল্যান্ড করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মাটি স্পর্শ করার সাথে সাথে ঢুকে গেল হ্যাঁচ। পিল পিল করে নেমে এলো কমান্ডোবাহিনি। কম্পাউন্ডের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে যার যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেল। তবে কমান্ডোদের মূল দল ইমরানের পিছু নিয়ে অত্যন্ত গোপনে এগোল দালানের দিকে। কমান্ডোবাহিনিকে বাধা দেবার জন্য কোনো সশস্ত্র দল আছে বলে মনে হচ্ছে না; কিন্তু তারপরও আগে ভাগে কিছুই বলা যায় না যে কী ঘটবে।
