“তুমি আগে যাও।” বিজয়ের দিকে তাকিয়ে দেতো হাসি দিল ভ্যান ক্লক, “তারপর আমাদেরকে জানাও যে ভেতরে যাওয়াটা নিরাপদ হবে কিনা।”
কুপারের বাহিনির একজনের সার্চলাইট টেনে নিয়ে মাথা নাড়ল বিজয়। তারপর ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
পাথরের মাঝখানে সরু একটা রাস্তা ধরে খানিক এগোতেই হঠাৎ করে আবার থেমে যেতে হল। কারণ পবর্তের অভ্যন্তরে কেটে তৈরি করা সিঁড়ি ধাপে ধাপে নিচের দিকে নেমে গেছে। নিচে আলো ফেলল বিজয়। বেশ ভালো একটা দূরত্বে বলতে গেলে পবর্তের একেবারে গভীরে নেমে গেছে সিঁড়ি।
“সবকিছু ঠিক আছে” চিৎকার করে জানিয়ে দিল বিজয়। এখানে সিঁড়ি দেখা যাচ্ছে; অন্তত পাঁচশ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। আমি নামতে শুরু করলে কিন্তু আর আমার কথা শুনতে পাবে না।”
উত্তরের অপেক্ষা না করেই নামতে শুরু করল বিজয়। তলদেশে কী আছে দেখার জন্য তারও আগ্রহ কম নয়। যে সিক্রেট নিয়ে এত রহস্য এখন জানতে পারবে দেবতাদের সিক্রেটের প্রকৃত অর্থ; তাই নিজের চোখে দেখার জন্য তর সইছে না। মহাভারতে যেমনটা বর্ণনা করা হয়েছে সত্যিই কি তাই?
নিচে নামতে গিয়ে দেখা গেল বেড়ে গেছে চারপাশের আলো। অর্থাৎ অন্যেরাও পিছু নিয়েছে। কিন্তু একটুও না থেমে একেবারে তলদেশ অব্দি পৌঁছে গেল বিজয়।
চারপাশে সার্চলাইটের আলো ফেলে দেখল, বিশাল বড় একটা গুহাকক্ষ। বিস্ময়ে বন্ধ হয়ে গেছে মুখের ভাষা। মনে হচ্ছে যেন পুরো হিন্দুকুশ পবর্তমালার অভ্যন্তরভাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে এ গুহাকক্ষ। একটা দেয়ালও নজরে পড়ছে না।
চোখে পড়ছে কেবল একটাই জিনিস। গুহার বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই যা ছড়িয়ে আছে। পৌরাণিক কাহিনির উৎস। প্রকৃত রহস্য।
আর মহাভারতে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে চোখের সামনে ঠিক সেই দৃশ্য। চিরায়ত এক মহারহস্যের সৃষ্টির ভিত্তির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বিজয়।
.
৬৩. শুরু হল অনুসন্ধান
বিমানবন্দরের দিকে তীব্র গতিতে ধাবমান গাড়িতে বসে ক্ষতের সেলাইয়ের উপর হাত বোলালেন ইমরান। রাধার কাছ থেকে মেসেজটা পাওয়ার পর এরই মাঝে এক ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। মেসেজের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণীত হবার সাথে সাথে ইমরানের তড়িৎ অনুরোধের উত্তরে কমান্ডো টিমসহ তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ত্রিশ মিনিটের ভেতর তৈরি হয়ে যাবে একটা এয়ারক্রাফট। দশ মিনিট আগে স্থির হওয়া লোকেশনটা হল একটা মেডিকেল ফ্যাসিলিটি যা জয়পুর থেকে এক ঘণ্টার ড্রাইভ। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এই ফ্যাসিলিটি কিন্তু টাইটান ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ভাড়া নেয়া হয়নি। অন্তত তাদের কন্ট্রাক্ট লিস্টে তো নেই।
যতক্ষণ পর্যন্ত রাধার নিশ্চিত কোনো খোঁজ না পেয়ে ব্যাপারটা কেবল আলোচনার মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল ততক্ষণ হাসপাতালের বিছানায় যেন স্বেচ্ছাবন্দী হয়ে শুয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু এখন মেয়েটার অবস্থান জানতে পেরে আর বসে থাকার কোনো মানে হয়না। রেসকিউ টিমের অংশ তাকে হতেই হবে। আগেও এসব করেছেন এবং আবার করতেও কোনো দ্বিধা নেই। গত বছর থেকেই কেন যেন মেয়েটার সাথে এক আত্মিক বন্ধন অনুভব করছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে উদ্ধার তৎপরতা দেখার জন্য কেউ যদি পরামর্শ দিত তাহলে বোধহয় ইমরান লোকটার থোতা মুখ ভোতা করে দিত।
যাই হোক আশার বাণী হচ্ছে এয়ারক্রাফট পাওয়াতে তারা এক ঘণ্টার আগেই জয়পুর পৌঁছে যাবে। এয়ারপোর্ট থেকে একটা হেলিকপ্টার নিয়ে যাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।
এরই মাঝে টাইটান ফার্মার সিনিয়র পরিচালকেরা কে কোথায় আছে তাও চেক করে নিয়েছেন ইমরান। তাদের অনেকেই ভ্রমণরত হলেও একজন কেবল জয়পুরে আছে। তাও গিয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত সম্মেলনে বক্তৃতা দেবার জন্য।
চিফ মেডিকেল অফিসার, ডা, বরুণ সাক্সেনা। নিশ্চয় ব্যাপারটা কাকতালীয় নয়।
পাথরের মূর্তির মত শক্ত চেহারা নিয়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছেই দল নিয়ে অপেক্ষারত হেলিকপ্টারে উঠে গেলেন ইমরান।
তিনি রাধাকে অবশ্যই সুস্থ শরীরে ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন।
.
যাবার সময় হয়েছে
সাক্সেনা আর ফ্রিম্যানের সামনে দিয়ে রুম থেকে বের করে অপেক্ষারত অ্যামবুলেন্সে ভোলা হল রাধার অচেতন দেহ। “মেয়েটা মারা গেছে। এতগুলো বুলেট হজম করে কারো বেঁচে থাকার কথা নয়। আর যদি তা নাও হয় রক্ত ক্ষরণই বাকি কাজ সেরে দিবে। ফ্যাসিলিটিতে নিয়ে এ শূন্যস্থান পূরণ করারও সময় নেই। আর যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; তাহলে তো বাঁচিয়ে তোলার আর কোনো সুযোগই থাকল না।”
কঠোর হয়ে গেল সাক্সেনার চেহারা, “বেয়াদব গার্ডগুলো! বদমায়েশগুলোর গুলি ছোঁড়াটা উচিত হয়নি। ও তো এখানে হোস্টেজ হিসেবে ছিল! তাই নির্দিষ্ট সময় না আসা পর্যন্ত গুলি করাটা ঠিক হয়নি।”
“হেই, ওরা তো শুধু ওদের দায়িত্ব পালন করেছে। অভিযোগ করলো ফ্রিম্যান। “গার্ডেরা তো জানত না যে ও আমাদের জিম্মি ছিল। সিসিটিভিতে মেয়েটার গতিবিধি দেখে সিকিউরিটি তদন্ত করে টয়লেটের মেঝেতে নিঃসাড় গার্ডকে খুঁজে পায়। আর তারপর তোমাকেও বন্দী অবস্থায় অ্যালার্ম বাজাতে দেখে। গার্ডেরা যখন ওকে গ্রাউন্ড ফ্লোরে খুঁজে পায় ভেবেছে কোনো রোগী বুঝি তোমাকে আটকে রেখে পালানোর পায়তারা কষছে। ফলে তারা তাদের। যা করার তাই করেছে। মনে নেই, কেউ বেঁচে থাকবে না মানে কেউ দেখবে না। তারা এটাই করেছে। গার্ডদেরকে এজন্য দোষারোপ করো না।”
