মাথা নেড়ে তিন ভ্রাতা কাজাকাস্তান” লিখে ফেলল কলিন।
আবারো একই দশা। প্রথম পাতায় কিছু নেই। দ্বিতীয় পাতায় ক্লিক করল। কিছুই নেই। এবার তৃতীয় পাতা।
জমে গেল কলিন। ঘাড়ের কাছে এলিসের নিঃশ্বাসের স্পর্শ পেয়ে বুঝল মেয়েটাও কাছেই আছে।
পর্দায় ভেসে উঠল একগাদা ছবি; টাইটেল ক্যাপশনে লেখা : “কাজাকাস্তানের তিন ভ্রাতার ছবি।
.
৬২. আশার ফালি
প্যাটারসনের কথা মন দিয়ে শুনলেন ইমরান। হাসপাতালের রুমে যন্ত্রপাতি বসানোর পর এটা তাদের দ্বিতীয় আলোচনা। দুজনে মিলে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্ভাব্য সবকিছু নিয়েই আলোচনা করেছে। তাই ক’দিন আগেও প্যাটারসনের প্রতি ইমরানের যে প্রাথমিক বিরক্তাবস্থা ছিল তা কেটে গিয়ে লোকটার বুদ্ধিমত্তা আর কৌশলগত দক্ষতা দেখে প্রশংসা না করে পারল না। তারপরেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্যাটারসন খানিকটা প্রস্তর যুগের মানব হলেও ইমরান মুগ্ধ হল আজকের কৌশলগত সিদ্ধান্তসমূহ নিয়ে।
তবে প্যাটারসনের পরিকল্পনার সবটুকু যে মনঃপুত হল তা নয়। যেমন, রাধা সম্পর্কে আশা ছেড়ে দেওয়াটা। প্যাটারসন বারবার জোর দিয়েছে যেন এ ব্যাপারে ইমরানও আশা ছেড়ে দেয়। অথচ ইমরানের দাবি তারা অবশ্যই মেয়েটাকে খুঁজে বের করবে।
“যুদ্ধে তুমি আশা নিয়ে জিততে পারবে না। কাজ করতে হবে।” ফ্ল্যাট স্ক্রিন মনিটর জুড়ে গমগম করে উঠল বিশালদেহী আফ্রিকান-আমেরিকানের গলা। “রাধার ব্যাপারে যদি কোনো সম্ভাবনা জাগ্রত হয় তাহলে আমরা দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব। এতে কোনো সন্দেহই নেই। কিন্তু আপাতত কিছু করার নেই। অন্যদিকে এই কেসের জন্য আরো অনেক কিছু করা বাকি। তাই চুপচাপ বসে আশা আর প্রার্থনা ছেড়ে কাজে লেগে পড়তে হবে। মেয়েটা যদি বেঁচে থাকে তত খুব ভালো। টাস্ক ফোর্সের একজন সদস্যকে হারাতে হল না। কিন্তু সেটা ধরে বসে থাকলে চলবে না।”
পরিকল্পনার অন্যান্য অংশ নিয়েও অস্বস্তিতে আছেন ইমরান। কিন্তু এটাও মানতে হবে যে কোনো উপায় নেই। ঝুঁকিটা সত্যিই বড় বেশি হয়ে যাচ্ছে। সবকিছু কিংবা কিছুই নয়।
“রাইট, তাহলে আজ রাতে ভালো করে ঘুমাও। আগামীকাল খুব দীর্ঘ একটা দিন যাবে। যেভাবেই কাটুক না কেন। আশা করছি শীর্ষে পৌঁছে যেতে পারব।” সাইন অফ করে কানেকশন কেটে দিলেন প্যাটারসন।
অস্পষ্ট হতে হতে কালো হয়ে যাওয়া পর্দার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ইমরান। তারপরেই মনে হল ফোনের কথা। প্যাটারসনের সাথে কথা বলার সময় খেয়াল করেছিলেন যে একটা ই-মেইল-মেসেজ এসেছে। কে হতে পারে!
প্রেরকের নাম দেখে তো চোখ কপালে উঠে গেল; মেসেজটা এখনো খোলাও হয়নি।
কিছুতেই যেন ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। রাধা! ও বেঁচে আছে! ইমরানকে মেসেজ পাঠিয়েছে। কোনো একভাবে ব্যবস্থা করে মেসেজ পাঠিয়েছে যেন তারা আশা না ছাড়ে।
বেড কাভার ছুঁড়ে ফেলে হাসপাতালের বিছানা থেকে নামতে গিয়ে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলেও তোয়াক্কা করলেন না ইমরান। হাসপাতাল গাউন বদলে নিজের কাপড় গায়ে চাপিয়ে অফিসের নাম্বারে ডায়াল করলেন।
“অর্জুন, আমাকে এক্ষুনি নিয়ে যান। আপনাকে একটা ই-মেইল পাঠাচ্ছি। সাথে সাথে লোকেশন খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করুন। এক্ষুনি।”
.
উৎস
এক ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। অথচ তাদেরকে সিক্রেটের কাছে পৌঁছে দেবে যে পাঁচ মাথাঅলা সাপ সেটার এখনো কোনো খোঁজ নেই। তবে পুরো দলটাই বেশ উজ্জীবিত হয়ে আছে। ভ্যান কুকও উদ্যম ফিরে পেয়েছে। সবাই জানে যে গন্তব্য একেবারে কাছেই কোথাও আছে।
হঠাৎ করেই কুপারের স্যাটেলাইট ফোনের রিং বেজে উঠল। একপাশে সরে গিয়ে নিচু স্বরে কার সাথে যেন কথা বলে আসল। কান পেতে শোনার চেষ্টা করল বিজয়। কিন্তু মাত্র কয়েকটা শব্দ ছাড়া আর কিছুই বুঝল না। “যা দরকার করো…নিশ্চিত করতে হবে… আমি…তবে কুপার যে উদ্বিগ্ন তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। দ্রুত আর সংক্ষেপে আলোচনা সেরে ফোন আবার পকেটে রেখে দিল।
ওপাশের লোকটা কে না জানলেও ক্লান্তি বোধ করছে বিজয়। এত উচ্চতায় এই লাগাতার ভ্রমণ শরীরের উপর প্রভাব ফেলছে। ঠিক করল খানিক বসে বিশ্রাম নেবে। বেয়ারা সাপটাকে খোঁজার জন্য যদি আরো পনের মিনিট সময় বেশি লাগে তো লাগুক।
কিন্তু নিচু হয়ে যেই না বসতে যাবে কানে এলো ভ্যান ক্লকের উত্তেজিত চিৎকার, “এখানে এসো!”
বিশ্রামের চিন্তা ভুলে অন্যদের সাথে বিজয়ও দৌড় দিল ভ্যান ক্লকের কাছে। সার্চলাইটের আলোতে দেখা যাচ্ছে বিশাল বড় একটা পাথুরে শিলাস্তর, উচ্চতায় কমপক্ষে পনেরো ফুট। দেখে ঢেউ মনে হলেও খুব সহজেই পাঁচ মাথাঅলা সাপ হিসেবে ধরে নেয়া যায়। পাথরের এই কাঠামো যে কতটা প্রাচীন ভেবে অবাক হয়ে গেল বিজয়। হয়ত কোনো এক সময় সত্যিকারের সাপের মতই আকৃতি ছিল। পদ্যে যেমনটা লেখা আছে তবে হাজার হাজার বছরের ক্ষয়ও মৌলিক আকৃতিটার কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি। এবার বুঝতে পারল তাহলে কিউবটার বয়স কত। ওরা যা ভেবেছিল তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি।
“গুহায় ঢোকার পথ খোজো।” ভ্যান কুক তাড়া দিতেই আবার ছড়িয়ে পড়ল পুরো দল।
খুব বেশি সময় লাগল না। সরু একটা ফাটল পাওয়া গেল যেখান দিয়ে একেকবারে একজন মাত্র মানুষ কোনোরকমে ভেতরে ঢুকতে পারবে।
