শক্তিশালী সার্চ লাইটের আলোয় প্রাকৃতিক একটা পথ ধরে গন্তব্যের দিকে এগোল সবাই। যত কাছে যাচ্ছে, কী পাবে ভেবে তত অবাক হচ্ছে বিজয়।
.
পারবে রাধা?
করিডোর ধরে ধেয়ে আসছে তিনজন গার্ড। হঠাৎ করেই একেবারে সামনের লোকটা ঘ্যাৎ করে থেমে নিশানা করে রাধার দিকে ছুঁড়ে মারল এক ঝাঁক বুলেট।
বুকের উপর যেন ডিনামাইট বিস্ফোরিত হল। এমনভাবে কেঁপে উঠল রাধা। মনে হল অন্তত পাঁচ ফুট দূরে ছিটকে পড়ল। শরীরের নিচ থেকে যেন হারিয়ে গেল পা। ধপ করে মেঝেতে বসে পড়তেই স্লো মোশনে ঘুরতে লাগল চারপাশের সবকিছু। সমস্ত ইন্দ্রিয় যেন দ্রুত সচল হয়ে উঠল। ঠিক যেন কোনো উচ্চ গতিসম্পন্ন ক্যামেরা স্লো মোশনে কাজ করছে। মেঝেতে শুয়ে পড়তেই সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ল প্যারেসথিসিয়া। ডান দিকের ফুসফুস সংকুচিত হয়ে শুরু হল নিঃশ্বাসের যন্ত্রণা। প্রতিবার নিঃশ্বাসের সময় মনে হল কেউ যেন ডান দিকের ফুসফুসে চাকু চালাচ্ছে। তীব্র ব্যথার মাঝেও টের পেল আরেকটা অনুভূতি বুলেটের ক্ষত থেকে ঝরে পড়ছে উষ্ণ রক্ত। হাসপাতাল গাউন ভিজে শরীরের সাথে আটকে গেল। মনে মনে কিছু একটা ভাবতে চাইলেও নিঃসাড় দেহে কোনো চিন্তাই এলো না মাথায়। গুলি বর্ষণ থামিয়ে চারপাশে কারা যেন চিৎকার করছে। অস্পষ্টভাবে কানে এলো সাক্সেনার কণ্ঠস্বর। শব্দগুলোও এলোমেলো। সাদায় ঢেকে গেছে চারপাশ। হাইপো ভোলেমিক শক্ পাওয়ায় ঝাপসা হতে শুরু করেছে দৃষ্টিশক্তি। তারপরই সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল।
৭. শিবের লাঠি
৬১. শিবের লাঠি
প্রচণ্ড বিস্ময় নিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে বিজয়। শুক্র যেখানে উদয় হয়েছে তারা ঠিক সে স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়টা এখানে এসে গিরিখাদের আকার নিয়েছে।
সার্চলাইটের আলোয় খাদের গায়ে স্পষ্ট দেখা গেল খোদাইকৃত। লম্বা ত্রিশূল।
শিবের লাঠি।
অথবা ইউমেনিসের কথা মত গ্রিক রীতি অনুযায়ী পোসেডিনের লাঠি। চোখের সামনে শিবের যষ্ঠি দেখে অবশ হয়ে গেছে নাকি গন্তব্যের কাছাকাছি এসে থ’ মেরে গেছে বোঝা যাচ্ছে না। তবে কিছুক্ষণের জন্য অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পুরো দল।
সবার আগে মন্ত্রমুগ্ধ অবস্থা কাটিয়ে উঠল ভ্যান ক্লক। “রাইট। তাহলে আমাদের শেষ স্টপেজ কোনটা? পাঁচ মাথাঅলা সাপ?” এমন ভাবে বিজয়ের দিকে তাকাল যেন বলতে চাইছে যে তোমাকে তো এই কারণেই এখানে এনেছি। এখন জানাও।
বিজয় স্মরণ করতে চাইল যে ইউমেনিস জার্নালে কী লিখে গেছেন। ত্রিশূল পার হবার পরে সাপ পেতে তো আলেকজান্ডারের তেমন কোনো কষ্ট হয়নি। তার মানে সেই পাথুরে কাঠামোটাও কাছেই কোথাও আছে।
ইউমেনিস যেন কী বলেছিলেন? “চলো, সবাই ছড়িয়ে পড়ে চারপাশের এক কিলোমিটার এলাকা খুঁজে দেখি।” নির্দেশ দিল বিজয়। যতদূর মনে পড়ে সর্পের পাথরটাকে খুঁজে পেতে বেশ খানিকটা সময় ব্যয় করতে হয়েছিল। তার মানে যে কোনো দিকেই হতে পারে।
তিন দলে ভাগ হয়ে খুঁজতে শুরু করল পুরো দল। সবাই জানে কী খুঁজছে। আর একবার সেটা পেয়ে গেলেই দেবতাদের রহস্য তাদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে।
.
অসম্পূর্ণ অংশ
একদৃষ্টে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বসে আছে কলিন। যদিও এতে তেমন অভ্যস্ত নয়। সচরাচর গবেষণার কাজগুলো বিজয় করে। কোম্পানির প্রতিষ্ঠা, তাদেরকে ধনী বানিয়ে দেয়া প্রজেক্ট থেকে শুরু করে এর আগে দুই বন্ধু একত্রে যা কিছু করেছে সবসময় গবেষণার দিক সামলেছে বিজয়। বিশ্লেষণ, যুক্তিবিন্যাস আর কার্যে পরিণত করা কলিনের কাজ হলেও দুজনের মধ্যে ভাবুক হল বিজয়। তাই একে অন্যের সাথে চমৎকার ভাবে খাপ খাইয়ে গেছে দুই বন্ধু।
অথচ এখন ফাপড়ে পড়ে বিজয়ের কাজ করতে গিয়ে মনে হচ্ছে ছেলেটা কিভাবে এত বিনা প্রচেষ্টায় গবেষণার হ্যাপা সামলায়।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথার চুলে বিলি কাটল কলিন আর ঠিক সে সময় রুমে ঢুকল এলিস। “কিছু পেলে?” এলিস আর ডা. শুক্লাকে বিজয়ের সাথে আলোচনার কথা খুলে বলল কলিন।
“বিজয় আমাকে ফোন করেনি দেখে ভাবছি হয়ত শুক্রের অবস্থান জেনে গেছে। কিন্তু শেষ পদ্য কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না। যেখানে চোখ আর তিন ভাইয়ের কথা লেখা আছে। সম্ভাব্য সবকিছু দিয়ে গুগলে সার্চ করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।”
কলিনের কম্পিউটারের পর্দায় মানচিত্রের দিকে তাকাল এলিস।
“যদি আরাল সমুদ্র সম্পর্কে তোমার কথা সঠিক হয় তাহলে তিনজন ভ্রাতা’ও দক্ষিণেই কোথাও আছে। কারণ আমরা জানি যে আলেকজান্ডার আরাল সমুদ্রের ওপাড়ে আর কোথাও যান নি। আর দক্ষিণে তাকালে মাত্র দুটো দেশ আছে। উজবেকিস্তান আর কাজাকাস্তান।”
“রাইট।” নব প্রাণশক্তি ফিরে পেল কলিন, দেশগুলোর নামের কী ওয়ার্ডস দিয়ে তো কিছু খুঁজি নি।”
“দেখো চেষ্টা করে।” উৎসাহ দিল এলিস, “যদি কিছু পাওয়া যায়।”
“তিনজন ভ্রাতা উজবেকিস্তান” নাম টাইপ করল কলিন। সার্চ ইঞ্জিনের এনে দেয়া সূত্রগুলো খুঁজে দেখল। প্রথম ছয় পাতা আঁতিপাঁতি করে খুঁজে হতাশ হয়ে এলিসের দিকে তাকাল।
“গুগল আদৌ তিনভ্রাতা সম্পর্কে জানে কিনা সেটাই বা কিভাবে বুঝব? কিউবটা তো সেই হাজার হাজার বছর আগেকার তৈরি।”
“লিখো কাজাকাস্তান।” নম্রভাবে তাগাদা দিল এলিস। “চলো সবকিছুই দেখা যাক।”
