গার্ড প্রয়োজনীয় দূরত্বে এসে দাঁড়িয়েছে অনুমান করেই নিজের সবটুকু ওজন নিয়ে সর্বশক্তিতে দরজার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল রাধা।
তীব্র বেগে বাইরের দিকে খুলে গিয়েই গার্ডের মুখের উপর আঘাত করল দরজা। তাল হারিয়ে পেছন দিকে পড়ে গেল গার্ড। ভারসাম্য হারিয়ে গড়িয়ে গেল।
রাধা নিজেও তাল সামলাতে না পেরে লোকটার উপর ধাক্কা খেল। নাক চেপে মেঝেতে শুয়ে আছে গার্ড।
কিন্তু দ্রুত আবার নিজেকে ধাতস্থ করে উঠে বসার চেষ্টা করল। বুঝতে পারছে রাধা কী করতে চাইছে। ভাঙ্গা নাক বেয়ে মুখের উপর গড়িয়ে পড়ছে রক্ত। ডান হাতে ধরা ইলেকট্রিক লাঠি মেয়েটার উপর আছড়ে পড়তে প্রস্তুত।
সেকেন্ডের ভগ্নাংশেরও কম সময়ের জন্য আতঙ্কিত হয়ে উঠল রাধা। ওর প্ল্যান বুঝি ভেস্তে গেল। ভেবেছিল গার্ড অজ্ঞান হয়ে যাবে।
যাই হোক, নিজেকে শক্ত করল। স্মরণ করল টাস্ক ফোর্সে যোগ দেবার সময়কার ক্লোজ কমব্যাট ট্রেনিং সেশনের কথা। কোমরকে ভর হিসেবে ব্যবহার করে এক পা তুলে জোর লাথি কষালো গার্ডের উপর। ঠিক কারাতের রাউন্ডহাউজ কিকের মতই গার্ডের মাথার একপাশে আঘাত করল গোড়ালি। আবারো পড়ে গেল গার্ড।
লোকটার ইলেকট্রিক লাঠি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখল রাধা। যেমনটা ভেবেছিল, এটা টেজারের আধুনিক সংস্করণ। বিভিন্ন শক লেভেল আছে। নিথর করে দেয়ার জন্য গার্ডের শরীরে চেপে ধরল লাঠি।
কয়েকবার ঝাঁকুনি দেবার পরপরই নিঃসাড়ে পড়ে রইল গার্ড। কিন্তু অজ্ঞান হয়ে যায়নি। কেবল চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। রাধার কোনো ধারণাই নেই যে গার্ডের সম্বিত ফিরতে কতক্ষণ লাগবে। তাই সময়ের সদ্বব্যবহার করা ছাড়া গতি নেই।
নিশ্বাস দ্রুত হয়ে ঘামতে শুরু করেছে রাধা। এতক্ষণ পর্যন্ত সবকিছু চমৎকারভাবে হয়েছে। তবে কঠিন অংশটা এখনো বাকি।
.
শিবের লাঠির খোঁজে
গভীর চিন্তায় ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে আছে বিজয়। পদ্যের ব্যাপারে ওদের ধারণাই ঠিক। কুনার উপত্যকার কথাই বলা হয়েছে। নদীর উপরে গিরিখাদটাও খুঁজে পেয়েছে। দিন রাত্রির সম্মেলনও দেখেছে। কিন্তু শুক্র কোথায়? শিবের লাঠিই বা কোথায় পাবে?
“আমি বাকিদের সাথে কথা বলে দেখি।” স্যাটেলাইট ফোন থেকে দুর্গের ল্যান্ডলাইন নাম্বার ডায়াল করতে গিয়ে ভ্যান কুককে জানাল।
“চটপট কাজ সারার চেষ্টা করো।” পাল্টা মন্তব্য করল ইউরোপীয় ভ্যান। চারপাশে অন্ধকার হয়ে গেছে। যন্ত্রপাতি আর লটবহর দিয়ে এরকম কোনো জায়গায় রাত কাটাবার তার কোনো ইচ্ছে নেই। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিযান শেষ করে চলে যেতে চায়।
কয়েকবার রিং বাজার পর ক্লান্ত কণ্ঠে উত্তর এলো, “ইয়েস?” কলিন ফোন ধরেছে।
“হেই, আমার যে সাহায্য দরকার।” খুব দ্রুত পরিস্থিতির কথা খুলে বলল বিজয়। “অন্যেরা কী করছে? খানিকক্ষণ সমাধানের জন্য কাজ করা যাবে না?
“ওরা যে কোথায় আমি জানি না।” উত্তর দিল কলিন, “দেখা যাক তুমি আর আমি পারি কিনা। তুমি বলছ যে শিকারের চিত্র আর তার উপরে সূর্য আর তারা দেখেছ?”
“রাইট। আর পদ্য অনুযায়ী দিন আর রাত্রি একত্রিত হবার পর শিবের লাঠি দেখিয়ে দেবে শুক্র। কিন্তু শুক্রের সাথে মিল আছে এমন কিছু তো দেখছি না।”
“হুমমম। বেশ জটিল ব্যাপার। অনেক কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ওকে, চিত্রটা আমাকে আরেকবার বর্ণনা করো। ঘোট ঘোট কোনো কিছু বাদ, দেবে নো।”
পর্বতের পাশের চোরা কুঠুরি আর পাথরের গায়ের উপরকার চিত্র সবিস্তারে বর্ণনা করল বিজয়।
“ধুত্তোরি।” চটে গেল কলিন। “আমরা তো ভেবেছিলাম যে ছবির প্রত্যেকটা অংশ একসাথে পাবো{ দিন, রাত, শুক্র। হাসি-খুশি একটা পরিবার। সমস্ত কিছু মিলে হবে ত্রিশূল। কিন্তু ব্যাপারটা এত সহজ নয়। তাইনা?”
কলিনের আগডুম বাগড়ম শুনছে বিজয়। জানে ওর বন্ধু এভাবেই চিন্তা করে। কোনো কিছুকে বিশ্লেষণের জন্য এটাই কলিনের ধারা।
“তো, ছবিটা যদি তোমাকে রাস্তা না দেখায় তাহলে অন্য কিছু খুঁজতে হবে, তাই না?”
“হ্যাঁ। কিন্তু সেটা কী?”,
“লম্বা একটা ফিরিস্তি হলেও তুমি চেষ্টা করে দেখতে পারো। কথা বলতে বলতে আমি গুগলে শুক্র সার্চ করেছি। কী পেয়েছি জানো?”
.
৫৮. শুরু হল রাধার অ্যাডভেঞ্চার
ইলেকট্রিক লাঠিটা হাতে নিয়ে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়াল রাধা। ঠিক করল এটাকে সাথেই রাখবে। গার্ডের অ্যাকসেস কার্ডটাও কাজে লাগতে পারে ভেবে সেটাও ছিনিয়ে নিল। পকেটে দরকারি আর কিছু নেই।
সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি টয়লেট থেকে বেরিয়ে এলো। গার্ডের চেতনা ফিরে এলেই জানা কথা যে এলার্ম বাজিয়ে সবাইকে সচকিত করে তুলবে আর মাথার উপর নরক ভেঙে পড়বে।
তখন যে কী হবে তা ভাবতেও ভয় হচ্ছে। আনন্দদায়ক যে হবে না সেটা নিশ্চিত। কিন্তু এরই মাঝে সীমা লঙ্ঘন করা হয়ে গেছে। তাই পেছনে তাকাবার কোনো উপায় নেই।
পরবর্তী গন্তব্য হচ্ছে লিফট। এই ফ্লোরে আর কিছু নেই। পুরো ফ্যাসিলিটির নার্ভ সেন্টার কিংবা প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে বেজমেন্ট।
আগেরবার সাক্সেনা যে তলায় নিয়ে গিয়েছিল সেখানে কোনো আই-টি রুম দেখেনি। তাহলে নিশ্চয় ফ্রিম্যানের প্রজেক্টের তলাগুলোর কোনোটাতে আছে।
কিন্তু হাসপাতালের গাউন পরে যততত্র ঘুরে বেড়ানো যাবে না। সাথে সাথে ধরা পড়ে যাবে। কিন্তু সমস্যা হল কখনো কাপড় বদলায়নি আর নিজের কাপড় কোথায় সেটাও জানে না। যদি আদৌ থেকে থাকে তো।
