‘আলেকজান্ডার তো একটা রেডিমেইড মানচিত্র পেয়েছিলেন” চটে উঠল কলিন, “আর এখানে আমরা রহস্যময় সব ধাঁধার অর্থ খুঁজতে বসেছি।”
“গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল কুনার উপত্যকাই যে এই ভ্রমণের শেষ গন্তব্য তা অন্তত বের করতে পেরেছি।” উপসংহার টানলেন ডা. শুক্লা। “তার মানে পদ্যের শেষ দুটো লোকেশন উপত্যকার ভেতরেই কোনো স্থান। যাক অবশেষে বিজয়ের জন্য কিছু পাওয়া গেল?” কণ্ঠস্বরে ঝরে পড়ল আশা।
আর তাঁর কথাকে সত্য প্রমাণ করতেই যেন বেজে উঠল ডেস্ক ফোন। লাফাতে লাফাতে গিয়ে তুলে নিল কলিন। বিজয়। যা যা খুঁজে পেয়েছে সব খুলে বলল কলিন।
“শুনে তো যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে।” সম্মত হল বিজয়, “আমার হয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে দিও কলিন। এখন রাখি। ওরা যাত্রার জন্য তৈরি হয়ে আছে। এগোবার জন্য হাতে কিছু পাওয়া গেল।”
.
৫৪. জালালাবাদ, আফগানিস্তান
ফোন ডিসকানেক্ট করে দিতেই চোখে প্রশ্ন নিয়ে বিজয়ের দিকে তাকাল ভ্যান ক্লক। এছাড়াও বাসায় বিজয় যে দু’বার ফোন করেছে প্রতিবার উপস্থিত থেকে সব শুনেছে। তাই বিজয়ের শুধু একটাই কাজ করার আছে দলের সাথে যোগাযোগ করে ধাঁধার সমাধান করা।
“কুনার উপত্যকাই সর্বশেষ গন্তব্য।” কলিনের সাথে কী আলোচনা হয়েছে তা সংক্ষেপে খুলে বলল বিজয়, “দিন-রাত্রি আর সর্পের ভয়ংকর দৃষ্টি এ দুটো পদ্যের বর্ণিত স্থান কুনার উপত্যকার মাঝেই অবস্থিত।
পাশেই দাঁড়ানো কপারের দিকে তাকাল ভ্যান ক্লক, “আমাদের গাইড কী বলে?”
“পর্বতে শিবের জিনিস বলতে কী বুঝিয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানে না” মাপা স্বরে জবাব দিল কুপার, “কিন্তু একই সাথে এও বলেছে যে সে এখানকার স্থানীয় নয়। জালালাবাদ থেকে এসেছে। তাই উপত্যকার চারপাশের গ্রামে খোঁজ নিতে হবে। এখান থেকে ৯০ মিনিট গেলেই আসাদাবাদ। রাস্তার অবস্থাও ভালো। ইউএস এইডের প্রজেক্ট হিসেবে মাত্র কয়েক বছর আগেই পাকিস্তান সীমান্তের সাথে কাবুলকে জুড়ে দেবার জন্য তৈরি হয়েছে এ রাস্তা। আমি বলব গিয়ে একবার দেখে আসা যাক।”
“আমার মনে হয় না এত দূর আসাদাবাদ পর্যন্ত যেতে হবে।” ধ্যানমগ্ন ভ্যান ব্রুক জানাল, “রাস্তা ছেড়ে পর্বতে যাবার নিশ্চয় অন্য কোনো রাস্তা আছে। আলেকজান্ডার আর কোনো ভাবে স্থান পেয়েছিলেন?”
নিঃশব্দে একমত হল বিজয়। গাঢ় কালো অন্ধকারেও সে স্থানে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইউমেনিস আর আলেকজান্ডার। সিক্রেট জার্নাল অনুযায়ী হাতে ছিল কেবল মশালের আলো। পর্বতের এত গভীরে যখন যেতে পেরেছিলেন তার মানে পায়ে হাঁটা কোনো পথ নিশ্চয় আছে। যেখানে খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। কিংবা ক্লাইম্বিং গিয়ারও লাগবে না।
কিন্তু মুখে কিছুই বলল না। সিক্রেট জার্নাল সম্পর্কে এদেরকে কিছু জানাতে চায় না। পরিবর্তে তাকিয়ে দেখল যে উঠার পায়তারা কষছে ভ্যান কুক আর নিজের লোকদেরকে প্রস্তুতির জন্য তাগাদা দিতে গেল কুপার।
.
একটা অংশ এখনো নিখোঁজ
কঠোর দৃষ্টিতে আইভরি কিউবটার দিকে তাকাল কলিন। নিজের রহস্যের বেশির ভাগই উন্মুক্ত করে দিলেও আলেকজান্ডারের ভ্রমণ পথের একটা লোকেশন এখনো জানায়নি কিউবটা। তিন ভ্রাতা আর সাপের সিলঅলা পদ্যটার মর্মোদ্ধার করা যায়নি।
“আমি কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না।” জানাল কলিন, “যদি কিউবের প্রত্যেকটা পদ্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে এটাকে তো বাদ দেয়া যাবে না। নিখোঁজ অংশটুকু ছাড়া ধাঁধাটা সম্পূর্ণ হচ্ছে না। কুনার ভ্যালিতে ওরা যেটাই পাক না কেন উদ্দেশ্য সফল হবে না। কেননা এ পদ্যেই আছে “অভিযানের কেন্দ্রস্থল।” যদি সিক্রেটটা কুনার উপত্যকায় থাকে তাহলে কেন্দ্রস্থলের কথা কেন বলল? তার মানে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাই না?”
মাথা খাটাতে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলল এলিস, “এই পদ্যটা আসলেই জটিল। অক্সাস নদী সম্পর্কেও জেনে গেছি। তাছাড়া আর কিছু তো বুঝতে পারছি না।”
অভিব্যক্তিহীন চেহারা নিয়ে বসে আছেন ডা. শুক্লা। তবে মাথায় যে চিন্তার ঝড় চলছে তা বলাই বাহুল্য।
“এটাকে ভাঙার একটাই উপায় আছে” অবশেষে জানাল কলিন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিজয় যা করে আমিও এখন তাই করব। না পাওয়া পর্যন্ত ইন্টারনেটে ঘুরতে থাকে। কিছু না কিছু অবশ্যই বের হবে।”
.
কুনার উপত্যকা, আফগানিস্তান
একেবারে সামনের ল্যান্ড রোভারে বসে পেছনের ল্যান্ড রোভারের সারির দিকে তাকাল বিজয়। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সশস্ত্র মানুষে ঠাসা ছয়টা এসইউভি। খেয়াল করে দেখেছে যে স্থানীয় আফগানগাইড ছাড়া বাকি সকলেই ককেশীয়। হয়ত, ইউরোপ আর ইউএস থেকে আসা ভাড়াটে সৈন্য। অথবা অর্ডারের ব্যক্তিগত সেনাবাহিনির একাংশ। যাই হোক না কেন অর্ডারের পেশিশক্তির এরকম প্রদর্শনী সত্যিই ভীতি জাগানিয়া।
এই রাস্তাটা কাবুল থেকে জালালাবাদের পথের মত নয়। গিরিখাদ আর খাড়া ঢালগুলো নেই। যতদূর চোখ যায় রাস্তাটা কুনার নদী ধরেই এগিয়ে গেছে। দুপাশে ক্ষেত ভর্তি সমতল উপত্যকা। স্থানে স্থানে সংকীর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত বেশ চওড়াই বলা চলে।
ডান দিকে, উপত্যকা বেয়ে সাপের মত এঁকেবেঁকে চলে গেছে কুনার নদী। একেবারে দক্ষিণে, সফেদ কোহ্ পর্বতমালা যা পাকিস্তানের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশকে চিহ্নিত করেছে।
