তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর দিল না কলিন। এখনো মেনে নিতে পারছে না বিজয়ের সিদ্ধান্ত। বন্ধুকে ভালোভাবেই চেনে। একবার যখন মনস্থির করে ফেলেছে তখন দুনিয়ার কোনো শক্তিই তাকে টলাতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়ে বিজয়কে একা ছাড়তেই হবে। অবশেষে মাথা নেড়ে জানাল, “বলছি না
যে খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু তুমি যদি এটাই চাও তো…” থেমে গিয়ে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরল, “নিজের দিকে খেয়াল রেখো দোস্ত; আমি কিন্তু সেখানে থাকব
অন্যদের উদ্দেশ্যে মাথা নেড়ে স্টাডি থেকে বেরিয়ে গেল বিজয়। জানে ও একটা জুয়া খেলা খেলতে যাচ্ছে। বাজিটা জিততে পারবে তো?
.
ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো হেডকোয়ার্টার্স, নিউ দিল্পি
কনফারেন্স রুমের মনিটরে প্যাটারসনের ইমেজের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিজয় আর বৈদ্য। মাঝরাতে ডেকে তোেলায় আফ্রিকান-আমেরিকানের কঠোর আর অপ্রসন্ন মুখভাবে আজ আরো যোগ হয়েছে একরাশ বিরক্তি।
“ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ হলেই ভালো” কনফারেন্স রুমে অপেক্ষারত দুজনকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, কাল প্রেডিডেন্টের সাথে মিটিং আছে অথচ ঘুমানোর জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা আছে হাতে। তোমরা ফোন করার মাত্র একটু আগেই বিছানায় গিয়েছিলাম।”
বিজয় যেভাবে জানিয়েছে সেভাবেই সারা দিনের ঘটনাগুলো খুলে বললেন বৈদ্য। শুনতে শুনতে প্যাটারসনের চেহারা আরো কালো হয়ে চোখদুটো রাগে জুলতে আরম্ভ করল। তিনি নিজে নিয়ম-কানুনের প্রতি কড়া বলে যারা নিয়ম ভঙ্গ করে তাদেরকে তেমন দেখতে পারেন না। নেভীসিল হওয়াতেই পেয়েছেন এ অভ্যাস।
বৈদ্যের রিপোর্ট শেষ হবার সাথে সাথে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বিজয়ের দিকে তাকালেও সাথে সাথে কিছু বললেন না প্যাটারসন। মনে হল এই মাত্র পাওয়া তথ্যগুলো নিয়ে গভীরভাবে ধ্যান করছেন।
“আগের কাজ আগে” খানিক পড়ে জানালেন প্যাটারসন, “কিরবাঈয়ের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কারণ উনার কথাই ঠিক। গ্রিসে ঘটে যাওয়া ঘটনা আর টাইটান ফার্মাসিউটিক্যালসের মাঝে কোনো না কোনো সম্পর্ক অবশ্যই আছে। আমাদেরকে আরো গভীরে যেতে হবে আর সকাল হলে আমিও দেখব কী করা যায়। কিন্তু আমাদেরকেও সতর্ক আর কৌশলী হতে হবে। ওয়ালেস জড়িত হোক বা না থোক কার সাথে কথা বলছি আর কতটুকু কী বলছি সে ব্যাপারে বিচক্ষণ হতে হবে। পুরো ব্যাপারটাই বেশ নাজুক। বিভিন্ন কংগ্রেসম্যান, সিনেটর আর এমনকি প্রেসিডেন্টের সাথেও ওয়ালেসের বেশ দহরম-মহরম আছে। তাই বেস কিছু করা যাবে না।”
বিজয় আর বৈদ্য দুজনেই মাথা নাড়ল। অপেক্ষা করছে প্যাটারসনের কথা শেষ হবার জন্য।
“নেক্সট”, তীব্র দৃষ্টিতে বিজয়ের দিকে তাকালেন প্যাটারসন, “বিভিন্ন ধাঁধা আর প্রহেলিকার সমাধান করার জন্য তোমার দক্ষতা প্রশংসাজনক হলেও সন্ত্রাসীদের সাথে আলোচনা করার অধিকার তোমার নেই। এমনকি অভিজ্ঞতাও নেই। মনে হচ্ছে ভুলে গেছ যে তুমি টাস্কফোর্সের সদস্য। আর এখানে কে কী করবে সেটার সিদ্ধান্ত আমি নেব। তুমি নয়। তাই মন চাইলেই যা খুশি তা করতে পারো না।”
তারপর এমনভাবে থেমে গেলেন যেন নিজের কথা ওজন করে দেখছেন, “কিন্তু তুমি তাই করেছ। এইক্ষেত্রে আমাদের আর বেশি কিছু করার নেই। তবে একটা কথা বুঝতে চেষ্টা করো, যদি এসব মেয়েটার জন্য করে থাকো তাহলে তুমি একজন মহা বেকুব! একেবারে অথর্ব গাধা। ও এতক্ষণ মারা গেছে। আর যদি ভাবো যে তাদেরকে রূপার থালে করে সিক্রেটটা সাজিয়ে দিলেই মেয়েটাকে ছেড়ে দেবে তাহলে বলব দ্বিতীয়বার আগাগোড়া চিন্তা করে নাও। তুমি এবং মেয়েটা দুজনেই খরচের খাতায় চলে গেছ। তার মানে যা করছ তা মেয়েটার জন্য নয়; করছ টাস্ক ফোর্সের জন্য। তাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে যে আফগানিস্তান কিংবা অন্য যেখানকার গুহাতেই যা পড়ে আছে তা যেন দুনিয়ার জন্য কোনোরকম হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে। এই কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এ টাস্ক ফোর্স। আর এখন তা তোমার দায়িত্ব। বুঝতে পেরেছ?”
ঢোক গিলল বিজয়। মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছে প্যাটারসনের কথার সত্যতা। প্যাটারসনের যুক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ওর সমস্ত সত্তা। কিন্তু আপন হৃদয়ের গভীরে ঠিকই বুঝতে পারছে যে টাস্ক ফোর্সের লিডারের কথায় কোনো ভুল নেই।
চোখের জল আটকাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে বলল, “বুঝেছি। একেবারে পরিষ্কার।”
“এবার আবার শুরু করলেন প্যাটারসন, “শোন, যদি এই মহান রহস্যের সঙ্গে বায়োটেররিজমের হুমকি জড়িয়ে থাকে তাহলে তো হাতে হাত রেখে বসে ওদেরকে পালিয়ে যেতে দেয়া যায় না। যীশুর দিব্যি, ওরা যে কে সেটাও জানি না!”
“কী করতে বলছেন?” বিজয় বুঝতে পারল প্যাটারসন কী বলতে চাইছেন।
“তুমি তোমার সিদ্ধান্ত মত কাজ করো” বিজয়কে নির্দেশ দিলেন প্যাটারসন, “আমরা এখান থেকে তোমাকে কাভার দিব।”
হতবুদ্ধি হয়ে গেল বিজয়, “কিভাবে? রাধাকে কোথায় রাখা রয়েছে আপনি তো সেটাও জানেন না?”
“মনোযোগ দিয়ে শোন” কণ্ঠস্বর নিচু করে বিজয়কে সব জানিয়ে দিলেন প্যাটারসন; শেষ করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, “খুব সাবধানে থাকবে, মাই বয়। আমাদের কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নেই। গত সপ্তাহে আরেকটু হলে টাস্ক ফোর্সের এক সদস্যকে হারাতেই বসেছিলাম। আরো দুজনকে হারাবার কোনো ইচ্ছেই নেই।”
