এবার তাই কাট কাট স্বরে জানাল, “একটু আগে যেমনটা বললে তোমার আর কোনো উপায় নেই, ধরে নাও তাই। ঠিক বিকেল চারটায় দেখা হবে। ভোন্ট বি লেট।”
.
৪৬. জুয়াখেলার মত ঝুঁকি
ফোন কেটে দিয়ে আস্তে আস্তে স্টাডির কাছে ফিরে এলো বিজয়। একটু আগে কুপারের ফোন ধরার জন্যেই নিচের সিটিং রুমে চলে গিয়েছিল। চেয়েছে অন্যেরা, বিশেষ করে এলিস যেন এ আলোচনা শুনতে না পায়। বাকিদেরকে কিভাবে সংবাদটা দেবে সেটা নিয়ে অবশ্য চিন্তায় পড়ে গেল। আবার একই সাথে এটাও মনে হচ্ছে যে রাধাকে বাঁচাতে গিয়ে না জানি সবাই মিলে আরো বেশি করে কুপারের থাবার মধ্যে পড়ে গেল। স্বস্তির কথা হচ্ছে বাকিরা এখানে জোনগড়ে নিরাপদেই থাকবে। একা বিজয় শুধু কুপারের সাথে যাবে।
স্টাডিতে ঢুকতেই সবাই কৌতূহল নিয়ে তাকাল। জানে সবাই ভাবছে যে কেন এত তাড়াহুড়া করে একটা ফোন ধরার জন্য চলে গিয়েছিল।
“কুপার ফোন করেছিল” প্রতিটা শব্দ বলার সময়েও ভাবছে, “কুপার বলেছিল যে বারোটার সময় ফোন করবে। আমাদের মধ্যে একটা ডীল হয়েছে।” কুপারকে কী প্রস্তাব দিয়েছে তা খুলে বললেও এলিস আর রাধাকে নিয়ে বিজয়ের সিদ্ধান্ত শুনে কুপার ফিরতি কী বলেছে সেটা আর জানাল না।
বিজয়ের কথা শেষ হতেই বাকিরা স্তম্ভিত হয়ে গেল। আর বরাবরের মতই সবার আগে কথা বলল কলিন, “তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি? একটা ওই…ওই…ওদের মাঝে? জানি না ওরা কারা তবে অত্যন্ত খতরনাক! এতদিনেও ওদের রূপ বোঝনি?”
এলিসও মাথা নাড়ল। “তুমি কী ভেবে এমন করলে জানি না বিজয়। গ্রিসে ওরা যা করল আর তারপর এখানে জাদুঘরেও আক্রমণের পর তুমি কিভাবে এমনটা করলে?”
বিজয় একেবারে চুপ। অন্যদেরকে কিভাবে বোঝাবে যে দোটানা থেকে বাঁচার এটাই ছিল একমাত্র পথ? কিভাবে বোঝাবে যে এলিস আর রাধার ভাগ্যের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টায় সিদ্ধান্ত নেয়াটা কতটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল? “রাধাকে বাঁচাবার জন্য এটাই ছিল একমাত্র পথ।” সোজা-সাপটা জবাব দিয়ে দিল। “তোমরা এখন থেকে এসবের বাইরে থাকবে। বিশেষ করে এলিস তুমি। তাই আমি যতক্ষণ ওদের সাথে থাকব তোমরা পদ্যগুলো নিয়ে কাজ করবে। কোনো কিছু পেলেই সাথে সাথে আমাকে জানাবে। যত দ্রুত এই প্রহেলিকার সমাধা হবে তত দ্রুত রাধাকে ফিরে পাবো।”
“তুমি একা যাচ্ছে না” উঠে দাঁড়িয়ে বন্ধুর কাছে হেঁটে এলো কলিন; চোখে চোখ রেখে বলল, “আমরা না দোস্ত, একসাথে সবকিছু করি? গত বছরের কথা মনে নেই? আমিও যাচ্ছি তোমার সাথে।”
তর্ক করে কোনো লাভ নেই তা বিজয় ভালোই জানে। আর যদি সত্যি কথা বলতে হয় তো বলবে যে ও নিজেও কলিনের সঙ্গের জন্যে উন্মুখ। কিন্তু এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। গত বছরের পুনরাবৃত্তি চায় না। তাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “সরি দোস্ত। এবার নয়। গত বছরের কথা এখনো ভুলি নি। এই কারণে এবার বাকিদের সাথেই থাকবে। আর কোনো আলোচনা চাই না আমি।” কলিন কিছু বলার জন্য মুখ খুললেও বিজয়ের ফোন বেজে উঠল। এবার বৈদ্য।
“আমি দুঃখিত যে রাধার ব্যাপারে আর কিছু জানতে পারিনি।” সবিস্তারে জানালেন বৈদ্য। “আমরা এখনো খুঁজছি। এ লোকগুলো মনে হচ্ছে বেশ পেশাদার। এতদিন পর্যন্ত আমাদের রাডারের নিচে কাজ করলেও নিজেদের ট্র্যাক অতি দক্ষতার সাথে ঢেকে রেখেছে। কিন্তু আজ নয়ত কাল ঠিকই ধরে ফেলব।”
“সেরকমই আশা করছি” উত্তরে জানাল বিজয়, “তবে আপনাদের জন্যও কয়েকটা খবর আছে।” কুপারের কথা খুলে বলল।
উত্তর দেবার আগে খুব সাবধানে খানিকক্ষণ চুপ করে রইলেন বৈদ্য, “তুমি অনেক বড় একটা ঝুঁকি নিয়েছ। খুব খুব বড়। জানো তারা এত সহজে রাধাকে ছাড়বে না। তাছাড়া তোমরা সবাই ঝুঁকিতে আছো। ওরা জানে যে তোমরা সবাই, রাধাসহ ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সাথে জড়িত। আর আমরা যেমনটা সন্দেহ করছি এক্ষেত্রে যদি বায়োটেররিজমও জড়িত থাকে তাহলে তোমরা তো তাদের জন্য রীতিমত হুমকি।”
“আমার কিন্তু তা মনে হয় না।” উত্তর দিল বিজয়। “আমার ধারণা ওরা ভাবছে যে শুধু রাধাই আইবি’র সাথে জড়িত। সম্ভবত কেল্লায় ইমরানের উপস্থিতিকে রাধার জন্য এসেছেন বলে ধরে নিয়েছে। তবে এটা জানে যে রাধা আমার বাগদত্তা। নয়ত এতদিন আমাদেরকেও টার্গেট করত। এমনকি জাদুঘরেও এলিসই ছিল তাদের সত্যিকারের নিশানা। যদি ওর সাথে আমরা না থাকতাম তাহলে আমাদের কোনো ক্ষতিই করত না।”
“আমার মনে হয় তুমি একটু অফিসে এলে ভালো হয়।” জানালেন ডিরেক্টর অর্জুন বৈদ্য, “প্যাটারসনকেও জানানো উচিত। সেই তো টাস্ক ফোর্সের হেড। তাই কী ঘটছে তার জানা প্রয়োজন আছে। আর মনে হয় না তাঁর সাথে যোগাযোগ ছাড়াই এ ধরনের একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছ বলে খুব খুশি হবে।”
“আমি এক্ষুনি আসছি” প্রতিজ্ঞা করল বিজয়, “ওখান থেকে এয়ারপোর্ট চলে যাবো।”
“তার আগে হয়ত হাসপাতালে আসতে চাইবে।” উৎফুল্ল হয়ে উঠল বৈদ্যের কণ্ঠস্বর, “ইমরানের বিপদ কেটে গেছে। জ্ঞানও ফিরে এসেছে। তোমার সাথে দেখা করতে চাইছে।”
ফোন রেখে কলিনের দিকে তাকাল বিজয়; বন্ধুর চোখে মুখে স্পষ্ট বিরক্তি, “আরে তোমার তো খুশি হবার কথা বাছা” বলে উঠল, “এখানেই তোমাকে বেশি দরকার।” অট্টহাসি দিয়ে পরিবেশটাকে হালকা করতে চাইল, “তুমি না বলো আমার চেয়ে তোমার মাথায় বেশি বুদ্ধি। তো এবারে প্রমাণ দেখাও। ধাঁধার সমাধানে এলিস আর ডা. শুক্লাকে সাহায্য করো। আমাকে সহায়তার জন্য এর চেয়ে ভালো আর কোনো রাস্তা নেই, বুঝলে।”
