কপালের ভ্রু তুলে ফেলল কুপার। বেশ কৌতূহল হচ্ছে। এরকম কিছু তো আশা করেনি। তাই ঠিক করল বাজিয়ে দেখবে ছেলেটাকে। দেখা যাক কী হয়।
“বলো” আদেশ দিল কুপার। “তোমার প্রাথমিক আগ্রহ কিন্তু এলিস কিংবা রাধা নয়” শুরু করল বিজয়, “ইন্দাস ভূমিতে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট যে সিক্রেটের খোঁজে এসেছিলেন সেটার অবস্থানটাই জানতে চাও, তাই তো?” থেমে গেল বিজয়। খানিক বিরতি দিয়ে জানাল, “আর এক্ষেত্রে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।”
বিস্মিত হয়ে গেল কুপার। মনে পড়ল এই ছেলেটা আর তার বন্ধুদের সম্পর্কে ভ্যান কুক কী বলেছিল। এখন তো বিজয়ের প্রতি তার শ্রদ্ধা আরো কয়েক গুণ বেড়ে গেল। একই সাথে আরেকটা কথাও জেনে গেল-বাগদত্তাকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠলেও প্রাক্তন প্রেমিকাকেও রক্ষা করতে চাইছে। এতটা সময় ব্যয় করে বহু প্রচেষ্টার পর হাতে থাকা সূত্রগুলোকে মিলিয়ে একেবারে সঠিক উত্তরটা খুঁজে বের করেছে; তার মানে বিজয় সিং সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে বেশ যত্নবান।
তাছাড়া, কুপারের মনে হল, সাক্সেনাকে খুঁজে বের করতে হবে যে রাধা আর তার আইবি সহকর্মীরা মিশনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু জানে কিনা। মেয়েটা কিডন্যাপ হবার পরে কি বিজয় সিং এতকিছু বের করেছে? নাকি আগে থেকেই জানত? কুপার যতটুকু জানে তারা যে সিক্রেট খুঁজে বের করতে চাইছে সেটার সত্যিকারের প্রকৃতি সম্পর্কে কেউ ভাবতেই পারবে না। কেবল অর্ডার এই ব্যাপারে জানে। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে গোপন রয়েছে এই প্রজেক্ট। তাই এর চেয়ে বেশি আর লোকসমক্ষে আনতে চায়না। বিশেষ করে এখন যখন সফলতার একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে।
কুপার উপলব্ধি করল যে উত্তর দিতে একটু বেশিই সময় নিয়ে ফেলেছে। বিজয় যথেষ্ট বুদ্ধিমান। তাই বুঝে যাবে যে ও সঠিক জায়গাতেই হাত দিয়েছে। কিন্তু এটাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেবার উপায়ও জানে কুপার। তুরুপের তাস এখনো তার হাতেই আছে।
“আর কিভাবে তুমি এ কাজে সাহায্য করবে?” বিজয় যা বলেছে তা অবজ্ঞা করার কিংবা বুঝতে না পারার কোনো ভানই করল না কুপার।
উত্তর শুনেই বোঝা গেল নিজের জয় সম্পর্কে খুশি হয়ে উঠেছে ছেলেটা, “আমরা কিউবের একটা পদ্যের মর্মোদ্ধার করেছি; যেটা তুমি নিজে নিজে পারতে না। তাই পাঁচটা পদ্যের সবকটির মর্মোদ্ধার করে জানিয়ে দিতে পারি যে সিক্রেটটা ঠিক কোথায় অবস্থিত।”
“এখানেই তোমার ভুল হয়েছে।” পাল্টা আঘাত হানল কুপার, “বীজ নদীর তীরে আলেকজান্ডার যে ধাতব পাত রেখে গিয়েছেন সেটা এখন আমাদের কাছে। কিউব আর পাত একসাথে পেলে পদ্যগুলোর মর্মোদ্ধার করাটা বাচ্চাদের খেলা হয়ে যাবে। বুঝেছে? তাহলে তোমাকে কী দরকার?”
“ভেবে দেখো। আমরা কিন্তু আলেকজান্ডারের ধাতব পাতটা ছাড়াই পদ্যের মর্মোদ্ধার করেছি। আমাদের কাছে এমন সব রিসোর্স আছে যা তোমার নেই- এলিস আর ডা. শুক্লা। তুমি যতটা তাড়াতাড়ি পারবে আমরা তার চেয়েও দ্রুত হস্তে তোমাকে উত্তর বের করে দেব।”
পুরো ব্যাপারটাকে ভেবে দেখল কুপার। বিজয়ের দাবি একেবারে মিথ্যে নয়। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে অর্ডারের বিশাল জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ওর দলও ঠিক সংকেতগুলোকে ভেঙে ফেলবে। কিন্তু বিজয়ের দল যদি আরো দ্রুত তা করে দেয় তাহলে তো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আর যদি কোনো তথ্য ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোকে পাচার করতে চায় তাহলে তো কোনো কথাই নেই, সাথে সাথে সব কটাকে খতম করে দেবে। এই কাজের জন্য আগে থেকেই একটা খালি চেক দিয়ে রেখেছে ভ্যান কুক।
“তোমরা যে ধোকা দিচ্ছ না সেটাই বা কিভাবে বুঝব?”
এরপর মনোযোগ দিয়ে পদ্যটার অর্থ আর কিভাবে তা পেয়েছে সে সম্পর্কে বিজয়ের ব্যাখ্যা শুনল।
ফলে সিদ্ধান্ত নিতেও সুবিধা হল। “তোমার শর্ত?” জানে সেগুলো কী হতে পারে কিন্তু এত সহজে ধরা দেবার কোনো ইচ্ছেই নেই।
“তুমি এলিসের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করে রাধাকে ছেড়ে দেবে।”
হেসে ফেলল কুপার। বিজয় সম্পর্কে যা ভেবেছে তাই ঠিক। এর জন্য ছেলেটার তারিফ করতেই হবে। অধ্যবসায় আর মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে এমন পরিস্থিতিতেও দৃঢ় মনোবলের জন্য ফুল মার্কস। “মেনে নিচ্ছি, কিন্তু দুটো শর্ত আছে। তুমি আর তোমার দল আজ বিকেল চারটায় আমার সাথে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে দেখা করবে। তারপর সবাই মিলে আজ রাতেই জালালাবাদ যাবো। আর কাল কুনার উপত্যকা। দ্বিতীয়ত, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমার দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে, রাধা আমার জিম্মায় থাকবে। যদি তুমি কোনো গড়বড় করো তাহলে মেডিকেল ফ্যাসিলিটির রোগীদের রক্তে যে ককটেল পাওয়া গিয়েছিল সেটাই ওর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেয়া হবে।”
স্থূল আর উচ্চকণ্ঠে এই হুমকি শুনে রাগ সংবরণ করতে গিয়ে খানিক চুপ করে রইল বিজয়, “আমার আর কিছু বলার নেই। তবে শুধু আমি আসব বাকিরা এখানেই থাকবে। আর আমিই বা কিভাবে জানব যে তুমি কথা রাখবে?”
ভেবে দেখল কুপার। যদি অবস্থানটা সম্পর্কে সত্যি কথা বলে; তাহলে তো সিক্রেটটা সবাইকে দেখানোর কোনো মানে হয় না। তাই কুনার উপত্যকা পর্যন্ত সবাইকে বয়ে নিয়ে যাবারও কোনো মানে নেই। শুধু এই ভেবে বলেছিল যেন এ সুযোগে দেশের বাইরে এক লহমাতেই সবকটিকে শেষ করে দেয়া যায়। অন্যেরা না গিয়ে বিজয় একা গেলেও কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না। আফগানিস্তানে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রাখাটাও কোনো সমস্যা হবে না। তাছাড়া কেন যেন মনে হচ্ছে যে বিজয় আর তার বন্ধুদের নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা নেই। রাধা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সাথে জড়িত। বাকিরা নয়। তাই ওদের উপর নজরদারি করার জন্য কুপারের বাকি দল তো আছেই। একটু পরেই সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
