ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে উঠল কলিন, “সমাধান! ভোর। আমি তো সকালে এসে দেখি তুমি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছো।”
অন্যদিকে এতক্ষণ মন দিয়ে মানচিত্র দেখেছে এলিস। যদি বিজয়ের কথা সত্যি হয় তাহলে পদ্যের সাথে মিল আছে এমন কিছু নিশ্চয় পাওয়া যাবে। এমন কিছু যেখানে দুটা উপত্যকায় যাবার প্রবেশপথ আছে।
বুঝতে পারার সাথে সাথে মনে হল যেন মাথার উপর হাজার টনের ইট। পড়েছে। “জালালাবাদ!” মুখ তুলে বিজয়ের দিকে তাকাল।
“গুডওয়ার্ক” বুড়ো আঙুল উঁচু করে প্রশংসা করল বিজয়। “মানচিত্রে নিশ্চয় দেখতে পাচ্ছো যে জালালাবাদ দুটা নদী উপত্যকার প্রবেশদ্বারে অবস্থিত। একটা গেছে পূর্বে, সেটাই কুনার উপত্যকা। আরেকটা গেছে পশ্চিমে, এটা লাহম্যান উপত্যকা। মনে আছে প্রথম যখন পদ্যগুলো শুনেছিলাম ভেবেছিলাম হয়ত কোনো দিকনির্দেশনা হবে কিন্তু জানতাম না যে কোথায় নিয়ে যাবে? এবারে কিন্তু উত্তরটা পেয়ে গেছি। কবিতার প্রবেশদ্বার”, হল জালালাবাদ। পাঠককে বলা হয়েছে পূর্ব দিকের উপত্যকা বেছে নিতে, যেখানে সূর্য ঘুমায়। রাধা ঠিক কথাই বলেছিল।” মেয়েটার নাম উচ্চারণের সাথে সাথে চুপ করে গেল বিজয়।
“আর পূর্বদিকে আছে কুনার উপত্যকা” মাথা নেড়ে সম্মতি দিল কলিন। “এখন একেবারে খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে।”
“কিন্তু তাহলে অন্য পদ্যগুলোর মানে কী? সেগুলোও নিশ্চয়ই আলেকজান্ডারের ভ্রমণপথের ইশারা করেছে। কিন্তু এরকম আর কোনো লোকেশনের কথা তো মনে আসছে না।” বলে উঠল এলিস।
“আচ্ছা, এমন হতে পারে যে একটা পদ্যে যে পাথরের কথা বলা হয়েছে সেটা হয়ত সগডিয়ান রক?” মনে করিয়ে দিল বিজয়। “যদি আমরা সবাই মিলে ভাবতে আরম্ভ করি তার সাথে খানিকটা গবেষণা তাহলে নির্ঘাৎ অন্য লোকেশনগুলোও পেয়ে যাবো। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সিক্রেটটা মনে হচ্ছে কুনার উপত্যকার নিচেই আছে।”
“অস্পষ্ট কোনো কিছুই আমার ভাল লাগে না। পুরোটাই আমাদের ধারণা।” এলিসকে তেমন খুশি মনে হল না, “হয়ত আমরা ঠিক; কিন্তু আলেকজান্ডার রহস্যময় কোনো এক কারণে কুনার উপত্যকাতে গিয়েছিলেন এর মানে এই না যে সিক্রেটটাও ওখানেই লুকিয়ে আছে। হতে পারে পথিমধ্যে এমনিতেই থেমেছিলেন। সেটাই আসলে শেষ গন্তব্য ছিল না। ধাতব পাতটা ছাড়া বলার কোনো উপায় নেই যে পদ্যগুলোকে কেমনভাবে পড়তে হবে। আর তা না জানা পর্যন্ত সিক্রেট লোকেশন সম্পর্কেও এত নিশ্চিত হওয়া যাবে না।”
“এই ক্ষেত্রে আমার মনে হয় তোমরাও আমাকে সাহায্য করতে পারো” উত্তরে জানাল বিজয়। “আমার গবেষণার উপর ভিত্তি করে একগাদা তথ্যের প্রিন্ট আউট বের করেছি। ম্যাপ, বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা, গুগল আর্থ ভিউ- এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা যুক্তিগুলোকে যদি সঠিক বলে ধরে নাও তাহলে সবাইকে একসাথে মাথা খাটাতে হবে। অবশ্যই কিছু না কিছু পাওয়া যাবে।”
“এতে রাধার কী উপকার হবে?” আর অপেক্ষা করতে পারছেন না ডা. শুক্লা। বিজয় আর তার বিচার বিবেচনার উপর পূর্ণ আস্থা থাকলেও হাত গুটিয়ে বসে থাকা তো যায় না। তার কন্যার জীবন সংশয় চলছে আর সবাই কিনা প্রাচীন এক ধাঁধার সমাধানে বসেছে। তাই কোনটা বেশি জরুরি সেটা আগে ঠিক করতে হবে।
দ্বিধায় পড়ে গেল বিজয়। বলাটা ঠিক হবে কিনা তাও বুঝতে পারছে। ফোনের সম্পর্কে আসলে অন্যদেরকে জানাতে চায়নি। কিভাবেই বা জানাবে? তবে বুঝতে পারল আর কোনো উপায় নেই। এবার ব্যাখ্যা করতেই হবে।
“ভেবেছি যে এটাকে একটা দরকষাকষির উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারব।” অবশেষে জানাতেই হল। “গত রাতে কুপার ফোন করেছিল। কিউবটা চায়। কারণ তাহলে সিক্রেটের কাছে পৌঁছাতে পারবে। আর আমরা যদি পদ্যগুলোর ধাঁধা সমাধান করতে পারি তাহলে রাধার নিরাপত্তার বিনিময়ে তথ্যের লেনদেন করতে পারব। স্বীকার করতে ঘেন্না হচ্ছে; কিন্তু রাধাকে বাঁচাবার এটাই শেষ আশা। যদি আইবি’ই এতক্ষণ পর্যন্ত ওকে খুঁজে বের করতে না পারে তাহলে আমরা কিভাবে পারব জানি না। তাই একটাই উপায় আছে যেন ওরাই রাধাকে ছেড়ে দেয়। আর এর জন্য সমাধানের তথ্য ছাড়া ভালো আর কোনো রাস্তা নেই।”
খানিকক্ষণ ব্যাপারটা নিয়ে গভীরভাবে ভাবলেন ডা. শুক্লা, “মনে হচ্ছে তোমার কথাই ঠিক। দেখা যাক কোনো অগ্রগতি হয় কিনা।”
সারা রাত ধরে জড়ো করা বিজয়ের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল সবাই। কুপার যা চাইছে সেই তথ্য আবিষ্কারে সহায়তা করবে এমন কোনো সূত্র কি তারা খুঁজে পাবে?
.
৪৫. পাল্টা আরেকটা প্রস্তাব
নিজের ঘড়ির দিকে তাকাল কুপার। দুপুর বারোটা। বিজয় সিংকে ফোন করার সময় হয়েছে। বিজয়ের নাম্বার ডায়াল করে শুনল যে ওপাশে রিং বেজেই চলেছে; কিন্তু ছেলেটার কোনো পাত্তা নেই। ভ্রু কুঁচকে ফেলল কুপার। ব্যাপারটা কী বোঝা যাচ্ছে না। ছেলেটার বাগদত্তা তার কাছে বন্দী। তাই প্রথম রিং বাজার সাথে সাথেই উত্তর আশা করেছিল।
কেটে দিয়ে আবার চেষ্টা করল কুপার। এইবার আকুল হয়ে ফোন তুলল ছেলেটা।
“কুপার?” বিজয়ের কণ্ঠের টানটান ভাবটা কুপারকে খুশি করে তুলল।
“তো?” সোজা আসল কথায় এলো কুপার, “কি সিদ্ধান্ত নিয়েছ? বাগদত্তা না প্রাক্তন প্রেমিকা? কে হবে?”
“আমার কাছে পাল্টা আরেকটা প্রস্তাব আছে।” এবার শক্ত হয়ে গেল ছেলেটার কণ্ঠস্বর; যদিও টেনশনের ভাবটা এখনো বজায় আছে।
