বুঝতে পেরে মাথা নাড়ল বিজয়। ও নিজেও বেশ দুশ্চিন্তায় আছে; কিন্তু একটু আগেই যা আবিষ্কার করল, তাতে মনে হচ্ছে লড়াই করার মত অন্তত হাতে কিছু আছে। কী কিংবা কিভাবে করবে। কতটুকু লাভ হবে না জানলেও নিজের অনুভব শক্তির উপর তার পূর্ণ আস্থা আছে। “আচ্ছা তোমরাও গিয়ে একটু রেস্ট নাও না?” কলিন আর এলিসকে জানাল বিজয়। “আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে আরেকটু ভাবতে চাই। দেখা যাক নতুন কোনো আইডিয়া পাই কিনা।”
বন্ধুকে ভালোই চেনে কলিন। তাই কোনো দ্বিমত না করে এলিসের কাঁধে টোকা দিয়ে উঠে দাঁড়াল, “ঠিকই বলেছ। এখন তাহলে উঠি; সকালে দেখা হবে।”
অন্যেরা স্টাডি থেকে বেরিয়ে যেতেই বিশালাকৃতির জানালার কাছে। দাঁড়িয়ে রাতের আকাশের দিকে তাকাল বিজয়।
দুর্গের চারপাশের অন্ধকারের মতই আঁধারে চেয়ে আছে ওর অন্তর। কিন্তু গভীর গহীন থেকে আস্তে আস্তে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে এক বিদ্রোহী মনোভাব। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে সাহায্য করেছে এ প্রবৃত্তি। হার না মানা এ জেদই তাকে টিকে থাকতে শিখিয়েছে। তবে হ্যাঁ, কখনো কখনো দুঃখ বয়ে আনলেও বেশিরভাগ সময়েই লক্ষ্য অর্জনে অটুট থাকতে পেরেছে।
আশা করছে এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। রাধাই এখন ওর একমাত্র সম্পদ। বলতে দ্বিধা নেই যে কলিনের মত মহৎ হৃদয় বন্ধুও আছে; যে কিনা প্রায় ভাই বলা যায়। কিন্তু বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে যা পায়নি, রাধা তাকে সে ভালোবাসা দিয়েছে। এমনকি এখন বুঝতে পারে যে এলিসের কাছ থেকেও তা পায়নি। রাধার কাছ থেকে নিঃস্বার্থ আর শর্তহীন ভালোবাসা পেয়েছে বিজয়। সম্ভব বলে যা কখনো ভাবতেই পারেনি।
অথচ এখন তাকে হারাতে বসেছে।
.
৪০. বিনিময়ের প্রস্তাব
বসে বসে পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দেখল কুপার। পরিকল্পনা মত সবকিছু এগোলেও জাদুঘরে কেবল খানিকটা গড়বড় হয়ে গেছে। একটু আগেই সবকিছু জানিয়েছে রাইলি। শিকার হারিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আছে স্বর্ণকেশি ছেলেটা।
“এটা নিয়ে এত ভেবো না”, প্রবোধ দিয়েছে কুপার। “এসব টুকটাক ঝামেলা তো হয়ই। যাই হোক, মেয়েটা এখনো আমাদের হাতে আছে। ওরা বাধ্য হবে ধরা দিতে। সাথে আরেকটা বোনাসও আছে। মেটাল প্লেটটা তত আমাদের কাছে। এটা ছাড়া কিউবটা কোনো কাজেই দেবে না।” ফোন তুলে। নিল কুপার। সময় হয়েছে আগে বাড়ার। একটা ফোন করতে হবে।
বিজয়ের নাম্বারে ডায়াল করল। আর প্রায় সাথে সাথেই উত্তর এলো।
“ইয়েস। কে বলছেন?”
“আমার নাম পিটার কুপার। বোধ হয় তোমার বন্ধু এলিসের কাছে আমার কথা শুনেছ।”
নীরবতা নেমে এলো অপর প্রান্তে। কল্পনার চোখে কুপার স্পষ্ট দেখছে যে এত রাতে ওর ফোন পেয়ে বিজয় কতটা চমকে উঠেছে। এটাও বুঝতে পারছে যে রাধার সংবাদের আশায় জেগে উঠেছে বিজয়ের সাহস। কুপারও ঠিক এটাই চায়। পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করছে তার দাবি মেনে নেয়ার জন্য বিজয় কতটা মরিয়া হয়ে আছে সেটার উপর।
তাই চুপচাপ অপেক্ষা করছে কুপার। ভারী হয়ে উঠেছে ওপাশের নীরবতা।
“রাধা কোথায়?” নিজেকে আর সামলাতে না পেরে অবশেষে জানতে চাইল বিজয়, “যদি ওর এতটুকু ক্ষতি করে থাকো…” যুৎসই কোনো শব্দ খুঁজে
পেয়ে বাক্যটাকে অসমাপ্তই রেখে দিল। অজানা অচেনা এক শত্রুর বিরুদ্ধে কী করতে পারবে যখন তারা কোথায় লুকিয়ে আছে সে সেটাও জানে না?
“এমন কোনো বোকামি করো না যার জন্যে তোমাকে পস্তাতে হবে।” উপদেশ দিল কুপার। “তোমার বাগদত্তা আমাদের কাছে। নিরাপদেই আছে। তবে আপাতত। তুমি আমাদের সাথে কতটা সহযোগিতা করবে তার উপর নির্ভর করছে ওর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।”
আবার নীরব হয়ে গেল বিজয়। এবারে আর অপেক্ষা করল না কুপার। বরঞ্চ জোর দিয়ে বলল, “আমার একটা প্রস্তাব শোন, এক ধরনের বিনিময় বলতে পারো, তোমার কাছে এমন একটা জিনিস আছে যা আমরা চাই। আর আমাদের কাছে আছে তোমার জিনিস তাহলে কেন পরস্পরের সাথে বদলে নেই না? সবাই খুশি হবে আর শেষ ভালো তো সব ভালো।”
“কিউবটা চাও?”
“ইয়েস। আর এলিস টার্নার। আমাকে দুটোই দিতে হবে; তাহলে তুমি তোমার বাগদত্তাকে ফিরে পাবে।”
আবার নিশ্চুপ ওপ্রান্ত। কুপার বেশ বুঝতে পারছে যে বিজয় কতটা কষ্টে নিজের আবেগ সংযত করছে। এটা সত্যিই একটা কঠিন সিদ্ধান্ত। বাগদত্তার বিনিময়ে প্রাক্তন বান্ধবী। দুজনের ভাগ্যই এখন বিজয়ের হাতে।
“আমি একেবারে নির্বোধ নই।” বলে চলল কুপার, “তোমাকে আগামী কাল দুপুর বারোটা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি ব্যাপারটা নিয়ে ভাবার জন্য। তারপর আমাকে জানিয়ে দিও। ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চয়তা দিচ্ছি তোমার বাগদত্তার মাথার একটা চুলও কেউ স্পর্শ করবে না। কিন্তু এর মাঝে একটা সিদ্ধান্তও আশা করছি।”
ফোন কেটে দিয়ে আড়মোড়া ভাঙল কুপার। সময় হয়েছে বিছানাতে গড়িয়ে পড়ার। দিনটা বেশ দীর্ঘ ছিল। তাছাড়া বয়সও হচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন মাঠপর্যায়ের কাজই বেশি উপভোগ করত। টার্গেটের পিছু ধাওয়া
করা, কখনো কখনো হারিয়ে ফেলা আবার নাগালে পাওয়া এক শক্তিশালী নেশার মত লাগত। কিন্তু এখন শারীরিক পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তবে হাতের কাজটা তো করতেই হবে। আর তার অভ্যাসই হল খুঁটিনাটি ব্যাপারে নজর দেয়া। কাল আবার বিজয় সিংকে কল করবে। তখনই নির্ধারিত হয়ে যাবে দুই নারীর ভাগ্য।
৫. চতুর্থ দিন
খানিকটা আশা
