“আমি…ওমম…উনার বন্ধু” অবশেষে বলল বিজয়, “বিজয় সিং।”
“হোল্ড অন।” আদেশ দিয়েই কয়েক মুহূর্তের জন্য নিশ্চুপ হয়ে গেল অজানা কণ্ঠস্বরের মালিক। খানিক বাদেই অবশ্য জানাল, “ওকে, ইউ চেক আউট। ইউএস-ইন্ডিয়া টাস্ক ফোর্সে তুমিও আছো। সরি, বিজয়। নিশ্চিত হওয়া দরকার ছিল যে সত্যিই তুমি ফোন করেছ কিনা। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
ক্রমেই বাড়ছে বিজয়ের বিস্ময়। আবার খানিকটা উদ্বেগও আছে। এরকম পরিস্থিতি মানে কী? ইমরান কোথায়?
তার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিল লোকটা।
“তোমাকে জানানো হয়নি?” মনে হল উনিও অবাক হয়েছেন। “আজ তো ইমরানকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। একেবারে ক্লোজ রেঞ্জে ওর অ্যাপার্টমেন্টে ছোঁড়া হয়েছে একটা রকেট প্রপেলড বোমা। ধুলায় মিশে গেছে পুরো অ্যাপার্টমেন্ট। ইমরানের অবস্থাও বেশ সংকটপূর্ণ। সার্জারি চলছে। জানি
কতটুকু কী হবে।” বিজয়ের মনে হল মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। তার মানে ইমরানের উপর অ্যাটাকের খবরটা সত্য! খুব দ্রুত সবকটা ইনফরমেশনকে একসুতোয় জোড়া লাগাল। এখন ইমরানের সার্জারি চলছে আর তারাও ভুল হাসপাতালে এসেছে যার মানে রাধাকে অপহরণ করা হয়েছে। আর যারা ওকে গায়েব করেছে তারা আইবি এজেন্টের বেশ ধরে এসেছে মানে পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল। লোকগুলো মেয়েটার জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর। বাজি ধরে বলতে পারে যে এই নকল আইবি এজেন্টেরাই ইমরানকেও মারতে চেয়েছিল।
“বিজয়” জানতে চাইল ওপাশের কণ্ঠ, “তুমি এখনো লাইনে আছো?”
কী বলবে কিছুই মাথায় আসছে না। কোনোমতে জানতে চাইল, “আপনি কে?”
কঠোর স্বরে জানাল সে কণ্ঠ, “আমি অর্জুন বৈদ্য, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর, আগেও দেখা হয়েছে তোমার সাথে।”
নিজের উপরই ক্ষেপে গেল বিজয়। সে তো বৈদ্যকে চেনে। ইমরানের বস। গত বছর পুরো অ্যাডভেঞ্চার শেষ হবার পর দেখাও হয়েছে। কিন্তু উনিই যে ফোন ধরবেন সেটাই বা বিজয় কিভাবে জানবে।
“আয়্যাম সরি, মিঃ বৈদ্য, তোতলাতে লাগল বিজয়, “আসলে আপনার কণ্ঠস্বর চিনতে পারিনি। কিন্তু এটাও আশা করিনি যে…”
“দ্যাটস ফাইন”, জানালেন বৈদ্য, “তুমি এখন কোথায়? রাধাও কি তোমার সাথে আছে? আজ যে ওরা টাইটান ফার্মাতে গিয়ে ছিল সেটার সাথে এই ঘটনার যোগসাজস থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।”
ভয়ে বিজয়ের হাত-পা হিম হয়ে গেল। আগেও বহুবার সে আর রাধা এসবের মাঝে দিয়ে গিয়েছে। প্রথম যখন ইমরান ট্রাস্ক ফোর্সে জয়েনের জন্য অনুরোধ করেছিলেন, তখন বিজয় মানা করেছিল। গত বছরের স্মৃতি এখনো মন থেকে মুছেনি, তাছাড়া একটা সিক্রেট রক্ষার গুরুভারও আছে কাঁধে। শেষমেশ রাধার পীড়াপীড়িতে রাজি হতে হল।
“তোমার চেয়ে টাস্ক ফোর্সের জন্য বেশি উপযুক্ত আর কে আছে”, বলেছিল মেয়েটা; বিজয়ের সিক্রেট সম্পর্কে কলিন আর রাধাও জানে। নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুজন ব্যক্তির কাছে একথা লুকাতে মন সায় দেয়নি। আর তাই রাধা বুঝিয়েছিল, “তোমার দেশ শুধু নয় বরঞ্চ গোটা পৃথিবীর জন্য কাজ করার সুযোগ পাবে। এ ধরনের সুযোগ জীবনে কেবল একবারই আসে।”
অগত্যা মানতেই হল। এরপর রাধা জয়েন করার সময়েও আপত্তি করেছিল; কিন্তু মেয়েটা ওর কথা কানেই তোলেনি।
“ব্যাপারটা কিন্তু বেশ বিপজ্জনক” অনেক বোঝাতে চেয়েছে বিজয়। “ওহ, আমার জন্য বিপজ্জনক আর তোমার জন্য নয়, তাই না?” স্বভাবসুলভ জ্বলজ্বলে চোখে উত্তর দিয়েছিল কঠোর রাধা, কারণ তুমি পুরুষ আর আমি নারী বলে?”
“না, সেটা না” আমতা আমতা করে উত্তর দিয়েছিল বিজয়। মনে মনে অবশ্য স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল। রাধাই তো ওকে রাজি করিয়েছে আর ও কিনা ওর সাথে! কিন্তু নিজের কথা খুলে বলার সাধ্য ছিল না।
এখন আবার নাড়া দিল সে স্মৃতি। বিজয়ের ভয়ই অবশেষে সত্যে পরিণত হল। জীবনে প্রথমবারের মত, তাও ইমরানের অসন্তুষ্টি নিয়েই ফিল্ড মিশনে গিয়েছিল রাধা। আর এখন এমনকি বৈদ্য পর্যন্ত জানে না যে ও কোথায়।
যা যা ঘটেছে সব খুলে বলল বিজয়। ইমরানের অ্যাপার্টমেন্টে যারা বোমা ফাটিয়েছে তারা যে নকল আইবি এজেন্টদের সাথেও জড়িত সে ব্যাপারে অর্জুন বৈদ্যও একমত হলেন।
“ডোন্ট ওরি” বিজয়কে আশ্বস্ত করে বললেন, “আমি এক্ষুনি রাধার ফোন ট্রেস করার ব্যবস্থা করছি। যদি জিপিএস অন থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে। আর ইমরানের সম্পর্কে তোমাকে জানাব। ঈশ্বর জানেন যে আমরা সকলেই ওর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এখন যেখানে আছে সেখানেই থাকো। আমি কয়েকজন এজেন্টকে পাঠাচ্ছি। মনে হচ্ছে তোমরা কেউই নিরাপদ নও।”
“থ্যাংকস” ফোন কেটে দিয়ে অন্যদেরকে সবকিছু জানাল বিজয়। তবে কথা বলার সময় কেন যেন আরেকটা চিন্তা খেলে গেল মাথায়। বৈদ্যর একটা মন্তব্যে কেন যেন খটকা লেগেছে। হঠাৎ করেই বুঝতে পারল যে সোনালি চুলের তরুণ কিভাবে দুর্গে তাদের একত্রে থাকার কথা জানতে পেরেছে। ডা.
শুক্লার কথা কেন টের পায়নি সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে।
.
৩৬. ৩২৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, সেপ্টেম্বর
সমরকন্দ, বর্তমান সময়ের উজবেকিস্তান
ল্যাম্প আর মশালের আলোয় আলোকিত হয়ে আছে পুরো সগডিয়ান রাজপ্রাসাদ, কর্মব্যস্ত চারপাশে সকলেই আনন্দ-উল্লাসে মত্ত। ভোজনের আয়োজন করেছেন সম্রাট স্বয়ং। অপ্রত্যাশিত এক পরাজয়ের পর বাল্ক পর্যন্ত পশ্চাদপসরণ করে নতুন করে শৃঙ্খলিত করেছেন তার সেনাবাহিনি। এরপর চারটা মোবাইল ইউনিটকে নদী উপত্যকা পেরিয়ে বর্তমানকালের তাজিকিস্তান আর আরেকটা ইউনিট উজবেকিস্তানে পাঠিয়েছেন সমরকন্দে একত্রিত হবার জন্য। পরিবার পরিজনসহ বিদ্রোহী গোত্র প্রধানেরা পিছিয়ে চলে এসেছে আলেকজান্ডারের পরবর্তী স্টপেজ সগডিয়ান রক পর্যন্ত। এর পেছনে অবশ্য অনেক কারণও আছে।
