“সেসব ভূমিতে তুমি যা পাবে তা কোনো পার্থিব সম্পদ নয়।” চিকচিক করে জ্বলে উঠল অলিম্পিয়াসের চোখ। “দেবতা হিসেবে তোমার জন্ম। তুমি জিউসের পুত্র। তোমাকে আগেও বলেছি একথা। কিন্তু এখনো তুমি মরণশীল।” খানিক থেমে পুত্রের চোখের দিকে তাকালেন, “ইন্দাসের স্থানে স্থানে প্রচলিত আছে এ গাঁথা। মহান এক রহস্য সম্পর্কে প্রাচীন সেই পৌরাণিক সত্য তোমাকে দেবতায় রূপান্তরিত করবে। আর আমি চাই তুমি এই রহস্যেরই অন্বেষণ করো।”
পূর্বদেশ থেকে আসা দার্শনিকের সাথে আলোচনার কথা জানালেন অলিম্পিয়াস। পার্চমেন্ট আর ধাতব পাতটা আলেকজান্ডারকে দিয়ে খোদাইকৃত শব্দগুলোও ব্যাখ্যা করলেন। ঠিক যেমনটা জানিয়েছেন সেই পণ্ডিত।
“তবে এটা হবে একটা সিক্রেট মিশন। অনুসন্ধানের কথা তোমার সেনাবাহিনি জানতে পারলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেবে। আর বিশ্বাস না করায় তারা হয়ত তোমার সাথে যেতেও অস্বীকার করবে।”
অলিম্পিয়াসের কথা শেষ হবার পর পার্চমেন্টটা পরীক্ষা করে দেখলেন আলেকজান্ডার। অবশেষে জানালেন, “এটাই আমার নিয়তি; আমিই হয়ে উঠব দেবতা।”
.
৩৩. বর্তমান সময়
তৃতীয় দিন
জরুরি তলব
ডোরবেল শুনে তাড়াহুড়া করে দরজা খুলতে গেল রাধা। বিজয় এসেছে নাকি?
কিন্তু দোরগোড়াতে শোকার্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে সাফারি স্যুট পরিহিত এক লোক, নির্ঘাৎ কোনো দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে। ঘাবড়ে গেল রাধা।
“মিস রাধা শুক্লা?” জানতে চাইল লোকটা।
মাথা নাড়ল রাধা। ধুকপুক করছে বুক।
“আমি হোশিয়ার সিং। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো থেকে এসেছি।” আইডি কার্ড বের করেও দেখাল। কিন্তু রাধার শূন্য চোখে কিছুই ধরা পড়ল না। কেবল জানতে চাইছে যে এত রাতে লোকটা এখানে কী করতে এসেছে।
“মিঃ ইমরান কিরবাঈকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।” জানাল হোশিয়ার সিং। “কেউ একজন আজ সন্ধ্যায় তার অ্যাপার্টমেন্টে রকেট প্রপেলড বোমা ছুঁড়ে খুন করতে চেয়েছিল। অবস্থা বেশ সংকটজনক। আমাকে বলা হয়েছে। আপনাকে জানানোর জন্য, যদি হাসপাতালে আসতে চান তো।”
হতভম্ব হয়ে গেল রাধা। ইমরান হাসপাতালে? বোমা? যা শুনছে কেন যেন কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না। খানিকক্ষণ আগেই তো ইমরানের সাথে কথা হয়েছে।
“আমাকে একটু সময় দিন” ভেতর থেকে ফোন আনতে ছুটল রাধা। দ্রুত হাতে ইমরানের অবস্থা জানিয়ে বিজয়কে মেসেজ পাঠিয়ে হাসপাতালে দেখা করার কথা জানাল। “চলুন।” দরজায় তালা লাগিয়ে এস্তপায়ে বাগান ধরে অপেক্ষারত গাড়ির কাছে চলে এলো রাধা।
.
এক অদ্ভুত ত্রাণকর্তা
মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দেহবর্মের ডিসপ্লের পেছনে দাঁড়িয়ে এতক্ষণ সবকিছু দেখেছেন ডা. শুক্লা। এলিসকে টানতে টানতে ট্যাবলেটের রুমে নিয়ে গেল রাইলি। বিজয়ের মত তিনিও বুঝতে পারলেন যে সন্ত্রাসীরা তার অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না। জানেন না ঠিক হবে কিনা, তবে সিদ্ধান্ত নিলেন যে লুকিয়েই থাকবেন। অন্য কোনো কাজে না লাগলেও বাকিদেরকে বন্দী করার পর তিনি অন্তত ইমরানকে ফোন করে সাহায্য চাইতে পারবেন। এই ফাঁকে মনে মনে নিজেকে গালও দিলেন। জীবনে প্রথমবারের মত সাথে মোবাইল ফোন না রাখার জন্য অনুশোচনা করলেন। এত বছর ধরে রাধা অনেকবার চেষ্টা করলেও তিনি একথা কানেই তোলেন নি। “যখন মোবাইল ফোন ছিল না তখনো তো আমি দিব্যি ঘুরে ফিরে চলেছি”। মেয়েকে শান্ত করেছেন, “যদি কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করতে চায় তাহলে ঠিকই খুঁজে পাবে।”
আজ উপলব্ধি করেছেন যে এরকম পরিস্থিতিতে একটা মোবাইল ফোন কতটা দরকার। একটা টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েও সাহায্য চাওয়া যেত।
এরই ফাঁকে এলিসকে ধাক্কা দিয়ে একপাশে সরিয়ে দিল রাইলি। টলতে টলতে আরেকটু হলেই পড়েই যাচ্ছিল মেয়েটা। তৃতীয় গানম্যান এগিয়ে এসে ধরে ফেলল। লোকটা ঠিক ডা. শুক্লার ফুট খানেক দূরে।
লোকটা এলিসকে ধরলেও নিজের ভারসাম্য বাঁচাতেই হাবুডুবু খাচ্ছে।
হঠাৎ করেই ডা. শুক্লার মাথায় এলো একটা আইডিয়া।
লোকটা যেই না নিজেকে ধাতস্থ করতে যাবে সেই মুহূর্তে কুড়ালের মাথা দিয়ে গানম্যানের মাথায় ডা. শুক্লা দিলেন একটা বাড়ি একই সাথে এলিসকেও ধরে ফেললেন। বর্মের আড়াল থেকে বেরিয়ে মুহূর্তের মাঝে ঘটিয়ে ফেললেন সব কাণ্ড।
কুড়ালের আঘাতে মেঝেতে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে গেল গানম্যান। চুরমাড় হয়ে গেল ডিসপ্লের কাঁচ আর সাথে সাথে যেন চারপাশে নরক ভেঙে পড়ল।
ডা. শুক্লাকে কুড়াল ঘোরাতে দেখেছে বিজয় আর কলিন। প্রথমে অবাক হয়ে গেলেও সাথে সাথে যার যার পাশের গানম্যানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
বন্দীদের দিকে নজর থাকায় সহকর্মীর পতন দেখে বিস্মিত হয়ে গেল বাকি দুই গানম্যান। ফলে মুহূর্তের জন্য তারাও দিশেহারা হয়ে পড়ল।
সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করল বিজয় আর কলিন। নিচু হয়ে বসে এক হাঁটুর উপর ভর দিয়ে ঘুরে আরেক পা দিয়ে এক গানম্যানকে আঘাত করল কলিন। হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল লোকটা। হাত থেকে পড়ে গেল পিস্তল। ডাইভ দিয়ে অস্ত্রটা হাতে নিয়েই হাতল দিয়ে লোকটার মাথায় বাড়ি দিতেই জ্ঞান হারাল গানম্যান।
এলিসকে তুলে দরজার দিকে দৌড় দিলেন ডা. শুক্লা। অন্যদিকে মেঝেতে গড়িয়ে গিয়েই হাতের গদা ঘুরিয়ে পেছনের গানম্যানকে মারল বিজয়। যদি আবার নিজের গায়েই লাগে তাই গড়িয়ে সরে এলো একপাশে। গোলাকার রডের মাথায় লাগানো আটটা ফলা বিজয়কে নিরাশ করল না। গানম্যানের উরুতে লেগে কেটে দিল পেশি; অথর্ব হয়ে পড়ে গেল গানম্যান।
