যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে গ্যালারির প্রবেশ দ্বার পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। খোলা দরজার ওপাশে নিকষ কালো রাত।
করিডোরের সুইচ খোঁজার জন্য ইশারা দিল প্রথম গানম্যান। তিনজন মিলে ছড়িয়ে দেয়াল ধরে খোঁজা শুরু করল।
“পেয়ে গেছি”, গলার সাথে লাগানো মাইক্রোফোন সামান্য কম্পন থেকেই বুঝতে পারে; তাই নিশ্চুপ মিউজিয়ামে তার ফিসফিসানি একটুও শোনা গেল না।
সুইচ টিপতেই আলোয় ভেসে গেল পুরো করিডোের। খানিকক্ষণের জন্য অন্ধ হয়ে গেল তিনজন।
স্কি-মাস্কের নিচে কঠোর হয়ে গেল লিড গানম্যানের চেহারা। করিডোরের আলো অন্ধকার গ্যালারিতে পৌঁছালেও এরকম উজ্জ্বল আলো থেকে নিকষ কালো গ্যালারিতে ঢোকাটা তাদের জন্য সুখকর হবে না। কিন্তু তারা নিরুপায়।
তাই আস্তে আস্তে আগে বাড়লো তিনজন।
.
কুকুর-বিড়াল খেলা
বাইরের বাতি জ্বলতে দেখেই শক্ত হয়ে গেল বিজয়। ভেবেছিল বুঝি ভেতরে এত অন্ধকার দেখে গানম্যানেরা ঢুকবে না। তার মানে যতক্ষণ সুইচ খুঁজবে সে সময়ের ভেতরেই যা করার করতে হবে।
নিঃশব্দে দরজার কাছে এসে পড়ল একটা ছায়া। একেবারে ট্রেইনড় কিলারস, মনে মনে ভাবল বিজয়। এদের দক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
একের পর এক এসে পড়ল তিনটা ছায়া। পরস্পরের সাথে একেবারে মিশে গেল; তবে তাদের মালিকদেরকে এখনো চোখে পড়ছে না।
এবার কী তাহলে? অন্যদের কী অবস্থা তা চেক করার কোনো উপায় নেই। কেবল সেকেন্ড গোনা ছাড়া! আশা করছে যেভাবে প্ল্যান করেছে সব সেভাবেই এগোবে।
.
প্রায় কাছে…
ইয়ারপিসে গানম্যানের কণ্ঠস্বর শুনে মাথা নাড়ল রাইলি। সাহুর পায়ে জোর একটা লাথি দিয়ে বলল, “আমার সাথে চললা; উপরে কাজ আছে।”
রক্তাক্ত কিউরেটরকে প্রায় টেনে-হিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে তুলে চেষ্টা করল গ্যালারিতে যেতে। যেন পালানোর আগেই টার্গেটদের ঘাড় চেপে ধরা যায়।
.
ভণ্ডুল হয়ে গেল সবকিছু!
দেয়ালের গায়ে পড়া ছায়াদের দেখে তিক্ত হয়ে গেল বিজয়ের চেহারা। এতক্ষণে প্ল্যান মোতাবেক তার দলের সবাই বাইরে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু গানম্যানদেরকেও যে বাইরে বেরোতে দেখা যাবে সেটা তার মাথায় ছিল না। বাইরে কিংবা সিঁড়িতে আরো কেউ আছে কিনা সেটাও জানে না। কিন্তু এটাই একমাত্র সুযোগ।
১২৮
অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই। কিন্তু দরজায় তো আর কোনো ছায়া পড়ছে না। আরেকটা ব্যাপার হল তার দলের দুজন বের হয়ে গেলেও গানম্যান কিন্তু পিছু নেয়নি। কোথাও কোনো গন্ডগোল হচ্ছে। আর তখনই জ্বলে উঠল গ্যালারির লাইট। উজ্জ্বল আলোতে চোখ পিটপিট করল বিজয়। না জানি কী হচ্ছে বাইরে।
৪. ফাঁদ
পরিকল্পনামাফিক চোরের মত গ্যালারিতে সটকে পড়ল এলিস। রুমের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ডিসপ্লের পেছনে যার যার পজিশন নিয়ে নিল। লম্বা লম্বা ডিসপ্লেগুলোতে রাজ-রাজড়াদের বর্ম পরিহিত ম্যানিকুইন এখন অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
করিডোরের লাইট অন হবার সাথে সাথে গুণে দেখল কজন এসেছে। প্ল্যান হল একেবারে শেষ জন ঢোকার পর আরো বিশ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে যেন আরো কেউ থাকলে বোঝা যায়। আর তারপর দশ সেকেন্ডের ব্যবধানে একের পর এক তারাও বের হয়ে যাবে।
কয়েক মুহূর্ত পর বেরিয়ে এলো কলিন। তারপর সেখানেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করল ডা. শুক্লার জন্য। সবার শেষে আসবে বিজয়। একটু আগেই সিরিয়াস ভঙ্গিতে এর কারণও জানিয়েছে, কারণ আমার কাছেই তো সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।” সময় তেমন না থাকায় কেউ আর কোনো তর্ক করেনি।
কিন্তু এতক্ষণ পার হয়ে গেলেও ডা. শুক্লার দেখা নেই। চিন্তিত ভঙ্গিতে এলিসের দিকে তাকাল কলিন। ডা. শুক্লা কিংবা বিজয় কাউকেই রেখে যাবার কোনো ইচ্ছেই তাদের নেই। কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। ভেতরে ঢোকাটাও ঠিক হবে না। গানম্যানেরা যখন পিছু নেয়নি তখন নিশ্চয়ই ভেতরে ওঁৎ পেতে থাকবে।
হঠাৎ মাথায় এলো কথাটা: যদি ডা. শুক্লাকে ইতোমধ্যে বন্দী করে ফেলে?
কিন্তু অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবার আগেই সেকেন্ড ফ্লোরের ল্যান্ডিংয়ে রক্তাক্ত সাহুকে নিয়ে উদয় হল রাইলি। “গ্যালারির লাইট জ্বালাও”, অন্ধকারেও এলিস আর কলিনকে ঠিকই দেখেছে। গা জ্বলানো হাসি দিয়ে সাহুকে আদেশ করতেই পালন করলেন কিউরেটর।
নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে বরফের মত জমে গেল এলিস আর কলিন। এই লোকটা কে তা না জানলেও সাহুর ডান হাতের রক্ত আর রাইলির হাতের বোয়ি ছুরি দেখে বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না যে অবস্থা সুবিধের না। তারা ফাঁদে পড়ে গেছে।
.
কিউরেটরের দুর্ভাগ্য
আতঙ্ক নিয়ে তাকিয়ে আছে বিজয়। রক্তে ভেজা সাহুর সাথে এলিস আর কলিনকেও বাইরে নিয়ে গেল সোনালি চুলের লম্বা আর পেশিবহুল এক তরুণ। হাতে আবার বিশাল বোয়ি ছোরা। গ্যালারির বাইরে যে অ্যামবুশ পাতা ছিল সেটা টেরই পায়নি এলিস আর কলিন। কিন্তু সাহুর সাথে এ কী করেছে? এবার বোঝা গেল সাহু কেন আর্তচিৎকার করছিলেন। কিউরেটরের অবসন্ন চেহারা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ব্যথার চোটে বোধ-বুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে।
রুমের ওপাশে কালো স্কি-মাস্ক পরিহিত গানম্যানেরা তিন বন্দীকে ধরে দাঁড়াল।
ফোনে সব শুনে নিল রাইলি, “এলিস টার্নার। চেক। কলিন বেকার।” কলিনের দিকে তাকাল, “তুমিই সেই। রুমে তো আর কোনো শ্বেতাঙ্গ দেখছি না। তারপর চারপাশে তাকিয়ে বলল, “দুর্গে তো তোমরা তিনজন ছিলে। সব কাজে নাক গলানো বাকি দুজনকে ধরা হয়েছে। তার মানে আরো একজন আছে।” গলা তুলে ডাকল, “বিজয় সিং! আমি ভালোভাবেই জানি যে তুমি এখানে। আর লুকাতে পারবে না। যদি চাও যে ওদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করি তাহলে এখনি বেরিয়ে এসো।”
