“গার্ড নয়। করিডোরে তেমন আলো না থাকায় চেহারাও ভালো করে দেখিনি।” কিউরেটর অফিস থেকে বাইরে গিয়ে রিপোর্ট করল গানম্যান। “উপরের দিকে উঠে গেছে। তাহলে টার্গেট গ্রুপই হবে। আমি অন্যদেরকে ডেকে পিছু নিচ্ছি।” রাইলির ইয়ারপিসে জানিয়ে দিল লোকটা।
“ঠিক আছে।” আবার কিউরেটরের দিকে তাকাল রাইলি, “ওরা এখন কোথায়? মেটাল প্লেটটা কোথায়?”
এতক্ষণে সাহুর সমস্ত শক্তি শেষ। রাইলিকে তাই গড়গড় করে সবকিছুই বলে দিলেন।
“সেকেন্ড ফ্লোর। আর্মস অ্যান্ড আর্মার রুম” নিজের লোকদেরকে আদেশ দিল রাইলি। “খেদিয়ে সোজা একজায়গায় জড়ো করবে। আমি মিনিটখানেকের ভেতরে উপরে আসছি। দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবার আগে কথা বলতে চাই।”
.
ডিফেন্স
একেকবারে দুটো করে সিঁড়ি পার হয়ে উপরে উঠে এলো বিজয়। অন্যরা ততক্ষণে অর্ধেক নেমে এসেছে। “ব্যাক-আপ!” হাঁপাতে হাঁপাতে কোনো মতে জানাল, “আমাদেরকে আবার উপরে যেতে হবে। এরপর এলিসের দিকে তাকিয়ে বলল, “ওরা জেনে গেছে যে তুমি এখানে।”
অন্য কোনো প্রশ্ন করারও সময় নেই। বিজয়েরর কণ্ঠস্বরের মরিয়াভাবেই সবাই যা বোঝার বুঝে নিয়ে আবার উপরে উঠে গেল।
এই ফাঁকে প্ল্যান করে ফেলল বিজয়। সেকেন্ড ফ্লোরের গ্যালারিতে ঢুকতেই সবাইকে দ্রুত বুঝিয়ে বলে দিল যে কী করতে হবে। “জানি না ওরা কতজন এসেছে।” ফিসফিসিয়ে জানাল, “এটাও জানি না যে নিচে নামার আর অন্য কোনো পথ আছে কিনা। মেইন সিঁড়ি দিয়ে তো নামাই যাবে না, ওরা পিছু নেবে। আর লোকগুলো যে সশস্ত্র তা তো বলাই বাহুল্য। তাই আমাদেরকে এটাই করতে হবে। ডিসপ্লে থেকে যার যেটা খুশি অস্ত্র তুলে নাও। নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য কিছু তো করতে হবে।”
“বেটা, ওদের সাথে কি আমরা পারব?” মোলায়েম স্বরে জানালেন ডা. শুক্লা, “ওদের হাতে পিস্তল আছে। এর বিরুদ্ধে তরবারি আর বর্শা কোনো কাজেই আসবে না।”
হাতে অস্ত্র নিয়ে গ্যালারিতে ঢুকে মাথা নাড়ল বিজয়। “বলছি না যে আমরা লড়ব। অস্ত্রগুলো কেবল সতর্কতাস্বরূপ এনেছি। জানি ওদের সাথে লড়তে যাওয়া কেবল বোকামিই হবে। তবে কিছু একটা অন্তত সাথে রাখা ভালো। এখন কী করতে হবে বলছি। এটাই একমাত্র সুযোগ।” প্ল্যানটা খুলে বলতেই অন্যরা সম্মতি দিয়ে মাথা নাড়ল।
করিডোরে লাইন করে রাখা মূর্তিগুলো থেকে ছোট্ট একটা পাথরের ভাস্কর্য তুলে নিল বিজয় আর কলিন। এটা দিয়েই বাড়ি মেরে কাঁচ ভেঙে ডিসপ্লে করা অস্ত্রগুলো থেকে যার যার পছন্দ মত তুলে নিল।
১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে তৈরি নাদির শাহের ব্যবহৃত খোদাইকৃত যুদ্ধ কুঠার তুলে নিলেন ডা. শুক্লা। চওড়া মাত্র ৫২ সেন্টিমিটার। তাছাড়া ওজনও খুব বেশি নয়। তাই ওনার পক্ষে হাতে নিতে কোনো সমস্যাই হল না।
কলিন পছন্দ করল টিপু সুলতানের তরবারি। আর বিজয় তুলে নিল আঠারো’শ শতকে কাশ্মির থেকে আসা গদা।
“নিজের মতই সবচেয়ে বড় আর ভারী অস্ত্রটা নিয়ে নিলে”, বন্ধুর দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসি দিল কলিন। এরকম কঠিন পরিস্থিতিতেও ওর ঠাট্টার কারণে হালকা হয়ে গেল পরিবেশ, “কিন্তু যখন প্রয়োজন হবে মাথার উপর নিয়ে ঘোরাতে পারবে তো?”
“আশা করো যেন তার দরকারই না হয়”, ধীর স্থিরভাবে উত্তর দিল বিজয়, “এলিস তুমি কী নেবে?”।
ভীত চোখে চারপাশে তাকাচ্ছে মেয়েটা; জানে হাতে সময় বেশি নেই। কোনটা যে হাতে নেবে সেটাও বুঝতে পারছে না। গ্রিসের কথা মনে পড়তেই আতঙ্কে হাত-পা অবশ হবার যোগাড়। ওর অবস্থা দেখে এগিয়ে এল বিজয়। তুলে নিল ষোড়শ শতকে রাজপুত কাঠ আর আইভরি দিয়ে তৈরি একটা বর্শা। ৩৮.৫ সেন্টিমিটার হওয়াতে বহন করতেও সুবিধা হবে। এলিসও মনে মনে আশা করল যেন ব্যবহার করতে না হয় এ বর্শা।
বিজয়ের প্ল্যান মোতাবেক সবাই যার যার অস্ত্র হাতে পজিশন নিয়ে নিল। এ অবস্থাতে হাতে খুব বেশি অপশন না থাকলেও এটুকুই আশা যে প্ল্যানটা কাজ করবে।
.
৩০. সব ঠিকঠাক মত হবে তো?
সেকেন্ড ফ্লোরে যাবার সিঁড়ির নিচে এসে একসাথে জড়ো হল তিনজন গানম্যান। গ্রাউন্ড ফ্লোরে মিউজিয়ামের মেইন লবির দুটো করিডোরে গার্ড দিচ্ছে দুজন; যেন কেউই ভেতরে কিংবা বাইরে যেতে না পারে।
কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ হতেই ঝট করে সবাই উপরের দিকে তাকাল।
প্রথম গানম্যান সিঁড়ির দিকে ইশারা করতেই নিঃশব্দে উঠে গেল তিনজন।
কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আবার নিশ্চুপ হয়ে গেল সেকেন্ড ফ্লোর। চারপাশে ঝাপসা আলো। করিডোরে বাতি নেভানো থাকলেও গ্যালারি থেকে খানিকটা আলো আসছে।
আশেপাশে তাকিয়ে মিউজিয়ামের সাইন খুঁজলো; যেন আর্মস আর আমার গ্যালারিটা চেনা সহজ হয়। এরপরই সিঁড়ির কাছে দেয়ালের গায়ে লাগানো ফ্লোর প্ল্যান দেখে ইশারা করল তিনজনের একজন। মাথা নেড়ে ফ্ল্যাশলাইট তুলে নিল প্রথম গানম্যান। আর কোনো উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়েই টার্গেটদের চোখে পড়ার রিস্কটা নিতে হল। তবে একটা ব্যাপার স্পষ্ট হয়ে গেছে, যাদের সাথে লড়তে এসেছে তারা বেশ স্মার্ট। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
ম্যাপে দেখা গ্যালারি খুঁজে বের করে বাকি দুজনকে ইশারা দিল। হঠাৎ করেই কী মনে হতে সশস্ত্র হবারও সিগন্যাল দিল। কিছুই বলা যায় না; যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। যদিও রাইলি বলেছে এরা নাকি সব সাধারণ মানুষ। অথচ এমন অনেকের কথা শুনেছে যারা শত্রুকে তুচ্ছ জ্ঞান করায় প্রাণ পর্যন্ত হারিয়েছে। নিজেও সেই দলে ভেড়ার কোনো ইচ্ছেই নেই তার।
