নিজের অফিসে ঢুকেই আবার থেমে গেলেন সাহু। রুমে অজানা দুজন লোক। তবে যদি মেঝেতে গলা কাটা অবস্থায় রক্তের মধ্যে ডুবে থাকা মৃত গার্ডকে হিসাবে ধরেন তাহলে থ্রি।
সাহুর চেয়ারের পিছনে দাঁড়িয়ে সোনালি চুলের লম্বা এক তরুণ সাহুরই টিবক্স থেকে টিস্যু নিয়ে মুছছে বিশাল আর কুৎসিত দর্শন বোয়ি ছোরা। অন্যজন পিস্তল হাতে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সাহু খেয়াল করে দেখলেন যে গানম্যানের চোখ, মাথা, নাক, হাত মুখোশে ঢাকা থাকলেও বোঝা যাচ্ছে যে সে ককেশীয়।
সাথে সাথে দৌড়ানোর জন্য ঘুরলেও পালাতে পারলেন না সাহু। সাৎ করে দরজার সামনে চলে এলো গানম্যান। ফাঁদে আটকা পড়ে গেছেন।
কোমরে বাঁধা খাপের ভেতর ছুরি ঢুকিয়ে মোবাইল ফোনের দিকে তাকাল রাইলি, “রাজিব সাহু, কিউরেটর অব অ্যার্কিওলজিস্ট” ফোন দেখে লাইনগুলো পড়ে আবার রেখে দিয়ে জানাল, “তোমার ভিজিটররা কোথায়?”
একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন সাহু। এতটাই অবাক হয়ে গেছেন যে কথা বলাও ভুলে গেলেন। কে এই লোক? মিউজিয়ামে ঢুকে গার্ডকে খুন করে এখন। আবার ট্যাবলেট রুমে রেখে আসা লোকগুলোর কথা জানতে চাইছে।
অবশেষে গলায় স্বর ফুটিয়ে কোনো মতে বললেন, “উপর তলাতে তোতলাতে তোতলাতে বুড়ো আঙুল দিয়ে দেখালেন সেকেন্ড ফ্লোর।
মাথা নাড়ল রাইলি, “একটু বসা যাক, ঠিক আছে?” তোমার ভিজিটরদের খবর নেয়ার আগে তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই।”
কৃষাণ চারজন টার্গেটের গুড়গাঁও হয়ে দিল্লি আসার রিপোর্ট করার পরে হোটেল থেকে বেরিয়ে দিল্লির দলের সাথে দেখা করেছে রাইলি। এরপর ন্যাশনাল মিউজিয়ামের কথা শুনে বুঝতে পারল টার্গেট দল এমনি এমনিই এখানে বেড়াতে আসেনি। নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে। কুপারকে ফোন করতেই, টার্গেটদের পিছু নিয়ে খুন করার আগে সম্ভব হলে মিউজিয়ামে আসার উদ্দেশ্যও জেনে নিতে বললো।
আর এ কাজের জন্য কিউরেটরের চেয়ে যোগ্যতর আর কেউ নেই।
“তো” সাহু নিজের ডেস্কে বসতেই রাইলি বলল, “তোমার ভিজিটররা কী দেখতে চেয়েছে বলো।”
চোখ বড় বড় করে রাইলিকে দেখছেন সাহু; শরীরের প্রতিটি রোমকূপ থেকে ছিটকে বেরোচ্ছে আতঙ্ক। কিউরেটরের অবস্থা দেখে হেসে ফেলল রাইলি। ভয়ে লোকটার দিশেহারা অবস্থা। আর খতম করার আগে টার্গেটের এরকম গন্ধটাই রাইলির পছন্দ। অন্য কোনো আবেগীয় সম্পর্কই তাকে এতটা আনন্দ দিতে পারে না।
“তাদের একজন আর্কিওলজিস্ট” বিড়বিড় করে জানালেন সাহু।
“আমেরিকান মেয়েটা। এটা আমি আগে থেকেই জানি।” কঠোর হয়ে উঠল রাইলির গলা। ক্রমেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে। “যা জানি না এরকম কিছু বলল। ওরা কেন এসেছে?”
গানম্যানকে ইশারা করতেই সাহুর পাশে চলে এলো। কব্জি ধরে ডেস্কের উপর হাত নিয়ে তালু চেপে ধরতেই আঙুলগুলো ছড়িয়ে পড়ল। খাপ থেকে ছুরি বের করে কিউরেটরের হাতের উপর ঘোরাতে লাগল রাইলি। অবশেষে একটা জায়গা পছন্দ করে এক ফালি মাংস কেটে দিতেই ফিনকি দিয়ে ছুটল রক্ত।
সাহুর আর্তচিৎকার পৌঁছে গেল খালি করিডোর বেয়ে মিউজিয়ামের গ্যালারি অব্দি। সহ্যের অতীত সেই যন্ত্রণা। আরেকটা জায়গা বেছে নিয়ে আরেকটু মাংস কেটে ফেলল রাইলি।
কিউরেটরের গলা ভেঙে গেল চিৎকারের চোটে। “এবার, আরেকবার বলছি” নিচু কিন্তু ভয়ংকর স্বরে জানতে চাইল রাইলি, “অ্যার্কিওলজিস্ট তোমার কাছে কী চেয়েছে? সে কেন এসেছে এই মিউজিয়োমে?”
.
২৯. কী ঘটেছে বুঝে ফেলা
“এটা তো সাহুর গলা!” বলে উঠল বিজয়। “তোমরা তালা লাগাও ততক্ষণে আমি দেখে আসি কী হয়েছে।”
লাফিয়ে লাফিয়ে সিঁড়ি পার হয়ে করিডোর ধরে সাহুর অফিসের দিকে দৌড় দিল বিজয়। কিন্তু অফিসের কাছাকাছি যেতেই কিউরেটরের আর্তনাদ ছাপিয়ে শোনা গেল নিচু স্বরের ভয়ংকর সব শব্দ, “এবার, আরেকবার বলছি, অ্যার্কিওলজিস্ট তোমার কাছে কী চেয়েছে? সে কেন এসেছে এই মিউজিয়ামে?”
মাঝ পথেই থেমে গেল বিজয়। ভয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হবার জোগাড়। কেউ নিশ্চয় এলিসের কথা জানতে চাইছে। তার মানে এলিস যে এই মিউজিয়ামে এসেছে তাও জানে লোকটা। কুপার নাকি? সেটাই বা কিভাবে সম্ভব? ইমরানকে
জানিয়ে কুপারের তো ইমিগ্রেশনের চৌহদ্দি পেরোবারই কথা না।
মনের মাঝে টিকটিক করে উঠল দুঃশ্চিন্তার কাঁটা। অন্যদেরকে সাবধান করতে হবে।
.
সত্য উদঘাটন
বাইরের করিডোরে কারো দৌড়ানোর শব্দ শুনেই গানম্যানকে ইশারা করল রাইলি। ছুটে বের হয়ে গেল লোকটা। আবার কিউরেটরের দিকে মনোযোগ দিল রাইলি।
“আয়্যাম ওয়েটিং।” খালি হাত দিয়ে ধরে রেখেছে কিউরেটরের অক্ষত হাত। যেকোনো মুহূর্তেই ছুরি চালানোর জন্য প্রস্তুত। রক্তে ভেসে গেছে পুরো ডেস্ক।
“দ্য মেটাল প্লেট” কান্না মেশানো কণ্ঠে বিড়বিড় করে উঠলেন সাহু; প্রাণপণে চেষ্টা করছেন লোকটার হাত থেকে ভালো হাতটাকে ছাড়াতে। “আলেকজান্ডারের বেদির ফাউন্ডেশনের নিচে যেটা পাওয়া গিয়েছিল!”
খবরটা যেন রাইলির কানের মধ্যে হুল ফোঁটালো। অপছন্দের বলে ইতিহাস আর আর্কিওলজিস্ট সম্পর্কে তেমন কিছু না জানলেও, এটা জানে যে এই মিশন গ্রিক ইতিহাসের সাথে জড়িত। আর গ্রিসে তো সমাধিটা নিজের চোখেই দেখেছে। উড়িয়ে দেয়ার সময় ডিগিং হাটের ক্যাম্পে আর্টিফ্যাক্টগুলোও দেখেছে। তার মানে হচ্ছে যে এই ধাতব পাতটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
