বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বেডরুমে ঢুকে গেলেন ইমরান। প্রচন্ড শব্দে লিভিং রুমের ফ্লোরে বিস্ফোরিত হল রকেট বোমা। থরথর করে কেঁপে উঠল পুরো অ্যাপার্টমেন্ট।
বেডরুমের দেয়াল বেশিরভাগ ধাক্কা সামলে নিলেও ব্লাস্টের সাথে সাথে মেঝেতে শুয়ে পড়ায় বুকে তীব্র ব্যথা পেলেন ইমরান। মেঝেতেও ছড়িয়ে পড়ল রক্ত।
রক্ত! তার মানে উনি আঘাত পেয়েছেন। কী দিয়ে কিছুই বুঝতে পারছেন না। এ্যাপনেল, ফ্লাইং গ্লাস? যাই হোক না কেন ক্ষতটা গুরুতর। মারাত্মকভাবেই জখম হয়েছে।
চোখের সামনে মুছে গেল সবকিছু।
প্রাণহীন অসাড় হাত থেকে মাত্র তিন ফুট দূরেই পড়ে আছে ব্ল্যাকবেরি ফোন। স্ক্রিনের মেসেজটা এখনো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে: “কুপার আজই ইমিগ্রেশন পার হয়ে এসেছে।”
.
২৭. জাদুঘরে কাটানো রাত
ফোন কেটে দিয়ে বাকিদের দিকে তাকাল বিজয়। “ইমরান ফোন করেছিলেন।” এলিসের পাঠানো ছবিগুলো চেক করে দেখেছেন। ম্যাচ পাওয়া গেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিন্যাল ডাটাবেজে পিটারও আছে। “দ্য রিপার” নামে ডাকে সবাই। আসল নাম পিটার কুপার আর গত ত্রিশ বছর ধরে অসংখ্য খুন করেছে। স্নাইপার আর টেলিস্কোপিক সাইট লাগানো বন্দুকে পারদর্শী পিটার এ পর্যন্ত একটাও টার্গেট মিস করেনি। একুশটা দেশ ওকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। তোমার খনন কাজের সাথে তাহলে কিভাবে জড়ালো?”
“আমি জানি না” কেঁপে উঠল এলিসের গলা, “সে তো…শুধু…ওখানে। স্ট্যাভরসের সাথে ছিল। দুজনেই এ প্রোগ্রামের কো-ডিরেক্টর। ওয়ালেস ট্রাস্ট ওদেরকে নিয়োগ দিয়েছে। স্ট্যাভস অ্যার্কিওলজিস্ট। আর পিটার ফিনান্সিয়াল ও লিয়াজো কর্মকর্তা। আর্কিওলজিস্ট কিংবা খনন কাজ সম্পর্কে কিছুই জানত না। ওর সম্পর্কে কেবল এটুকুই শুনেছি। আর কোনো প্রশ্নও করিনি। অলিম্পিয়াসের সম্ভাব্য সমাধি নিয়ে এতটাই উত্তেজিত ছিলাম যে অন্য কোনো কিছু ভাবিও নি। আর স্ট্যাভরস সম্পর্কে কিছু বলেন নি?”
মাথা নাড়ল বিজয়। “না। কোনো ডাটাবেজ লিস্টেই নেই। তার মানে অবশ্য এই না যে সে সুবোধ। ইন্টারপোল কিংবা অন্য কোনো এজেন্সিতে নেই এই যা।”
“চিন্তা করোনা।” মেয়েটা ভয় পাচ্ছে বুঝতে পেরে সাহস দিতে চাইল কলিন, “তুমি তো কুপারকে গ্রিসেই ছেড়ে এসেছ। ভারত পর্যন্ত তোমাকে ট্রেস করার কোনো উপায় নেই। তুমি যে এখানে আসবে সেটা সে কিভাবে জানবে? আর যদি জানেও তাহলেও জোনগড় মানচিত্রে এতটা দূরে যে স্থানীয়রাই ঠিকমত চেনে না।”
“কিন্তু আমরা তো এখন জোনগড়ে নেই।” হঠাৎ করেই কেল্লার আরাম আয়েশ আর নিরাপত্তার কথা মনে করল এলিস। বিশেষ করে স্পেশাল সিকিউরিটি সিস্টেম আছে। এখানে ওর কাছে মরতে এসেছি।”
“কলিন যেভাবে বলল কুপার তোমাকে ইন্ডিয়া আর জোনগড়ে ট্রাক করলেও আজই যে দিল্লি এসেছ সেটাই বা কিভাবে জানবে?” হেসে ফেলল বিজয়। “জানি গ্রিসে তোমার সাথে কী কী হয়েছে। তবে সে সবই অতীত। আর ইমরান ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অথরিটিকেও অ্যালার্ট করে দিয়েছেন। কুপারের সত্যিকারের পরিচয় জানার পরপরই ব্যবস্থা নিয়েছেন। যদি কুপার ইন্ডিয়াতে আসেও আমরা ঠিকই জানতে পারব। যদি প্রয়োজন পড়ে ইমরান তোমাকে আইবির সেফ হাউজে নিয়ে যাবেন বলেছেন। সুতরাং তোমার কোনো ভয় নেই। ঠিক আছে? আর আমরা তো সাথে আছি।”
সকলে মিলে মিউজিয়ামে পৌঁছে গেল। ভিজিটরস আওয়ার শেষ হওয়াতে মেইন গেইট লকড। তাড়াতাড়ি কিউরেটরকে ফোন করে দিল বিজয়। ভদ্রলোক ওদের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। তাই ফোনের সাথে সাথে গার্ড পাঠিয়ে দিলেন। গাড়ি ভেতরে ঢোকার পর আবার তালা লাগিয়ে দিল গার্ড।
“ওয়াও, দেখো দেখো!” চত্বরের বিশাল মূর্তিটা দেখে অবাক হয়ে গেল কলিন, “বেশ প্রাচীন, তাই না!”
বিজয় গাড়ি পার্ক করতেই সবাই নেমে এলো। গার্ড এসে জানাল যে সে ই তাদেরকে কিউরেটরের কাছে নিয়ে যাবে।
বিল্ডিংয়ের ভেতরের দিকের দেয়ালের সাথে হেলান দেয়া গার্নার থেকে আনা দ্য গ্রেট অশোকের ঈডিক্টের রেপ্লিকা পার হয়ে মূল দালানে ঢুকতে হয়। চারপাশে বেশ খোলামেলা আবহাওয়া।
ফার্স্ট ফ্লোরে কিউরেটরের অফিস। ঢুকতেই উঠে দাঁড়ালেন ভদ্রলোক।
“ডা. শুক্লা” এগিয়ে এসে শুক্লার সাথে করমর্দন করলেন। “আমি রাজিব সাহু, আর্কিওলজির কিউরেটর এবং কালেকশন কীপার। আপনি আসাতে সত্যিই বেশ ভাল লাগছে।” এরপর এলিসের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আর আপনি নিশ্চয় মিস টার্নার?” হাত মিলিয়ে জানাল, “দেখা হয়ে ভাল লাগল। বলুন আমি আপনার জন্য কী করতে পারি?”
বিজয়ের দিকে তাকিয়ে ঘোঁৎ করে উঠল কলিন, “তার মানে আমরা বডিগার্ডস?”
দাঁত বের করে অট্টহাসি দিল বিজয়। তারপর সাহুর কাছে দুজনের পরিচয়। দিল।
“ওহ্, হ্যাঁ, আমাদের তো কথা হয়েছে ফোনে।” বিজয়ের দিকে তাকিয়ে হাসলেও কলিনের সাথে কোনো কথা বললেন না।
দ্বিধায় পড়ে গেল এলিস। “মানে…আমি ১৯৮৫ সালে দোশুয়ার কাছে। আবিষ্কৃত পাতটা দেখতে চাই। যেটাকে মনে করা হয় গ্রিসে ফেরার আগে বীজ নদীর তীরে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট বেদি নির্মাণ করে সমাধিস্থ করে গেছেন।”
“অবশ্যই, অবশ্যই।” মুখে বললেও একটুও নড়ল না সাহু। “এটা সম্পর্কে আপনার এত আগ্রহ কেন তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। জানেন নিশ্চয়ই পাবলিকের জন্য এটা উন্মুক্ত নয়।”
