তখন বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না যে ওর কথা কতটা ভুল প্রমাণিত হবে।
.
২৫. শয়তানের নকশা
“ওরা বাইরে যাচ্ছে” রিপোর্ট করল কৃষাণ।
স্ক্রিনে ফুটে উঠা একগাদা বিন্দুর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে কুপার। “ওরা দুর্গের বাইরে যাচ্ছে, গুড।” এটার জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল। দুর্গের বাইরে গেলেই হতচ্ছাড়াগুলো নাজুক হয়ে পড়বে।
“নজর রাখো আর আমাকে জানাবে সবকিছু।”
এরপর পাশে দাঁড়ানো ছয় ফুট লম্বা, ঢেউ খেলানো সোনালি চুল আর অত্যুজ্জ্বল নীল চোখের পেশিবহুল তরুণের দিকে তাকাল। মাত্র এক বছর আগেই তার কিলার গ্রুপে যোগ দিয়েছে রাইলি; কিন্তু ছেলেটার খুন করার দক্ষতা দেখে কুপার মুগ্ধ, ঠাণ্ডা মাথায় একেবারে সূক্ষ্ম কাজ। কুপারের মত নয়; রাইলি তার ছুরি, দড়ি আর শূন্য হাতদুটোই বেশি পছন্দ করে। “মারার সময় আমার টার্গেটদেরকে ফিল করতে পছন্দ করি; মৃত্যুর সাথে সাথে ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া শরীর, শেষ দীর্ঘশ্বাস-ওহ, আমার যে কেমন লাগে না।” অস্ত্রে কেন অভক্তি জিজ্ঞেস করায় একবার কুপারকে বলেছিল রাইলি।
এ কারণে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে শারীরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য কসরৎও অর্জন করতে হয়েছে। কেননা একেবারে কাছ থেকে খুন করার সময় ভিকটিমের চেয়ে তোমাকেই বেশি শক্তিশালী হতে হবে। নচেৎ তুমি সফল হবে না।
এই জিনিসটাই রাইলি অত্যন্ত ঘৃণা করে। অথচ মাত্র দু’রাত আগেই গ্রিসে তাকে একই রাতে দুবার অস্ত্র চালাতে হয়েছে। ওর উপর দায়িত্ব ছিল কুপার আর স্ট্যাভরসের খোঁড়া সমাধিটাকে বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়া। অথচ হঠাৎ করে যেন কোথা থেকে উদয় হয় সেই মেয়ে অ্যার্কিওলজিস্ট। তেমন বাধ্য হয়ে ওর পালানো ঠেকাতে গুলি ছুঁড়তে হয়। কিন্তু অস্ত্র হিসেবে বন্দুক তেমন পছন্দ না করাতে টার্গেট নিচ্ছিদ্র হয়নি। আবারো হাইওয়ের উপর সেই মেয়েটার সাথে এনকাউন্টারে যেতে হয়। আরো একবার জেদের বশে গুলি ছুঁড়তে হয়। কারণ মেয়েটা ওর ল্যান্ড করা হেলিকপ্টার সরিয়ে চলে গেছে, বেঁচে গেছে শয়তানিটা। আর, দেশ ছেড়ে এখানে এসে লুকিয়েছে। যাক এবারে হাতে পাওয়া গেছে।
“আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা হ্যাঁন্ডেল করতে চাই” রাইলিকে জানাল কুপার। খুঁজে বের করে যে তারা কী জানে। তারপর সবাইকে খতম করতে হবে। যদি ওরা দিল্লির দিকে যায়; তাহলে এক্ষুনি বেরিয়ে ওখানকার দলের সাথে যোগাযোগ করো।”
মাথা নাড়ল রাইলি, এবার সে রাতের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সুযোগ পাওয়া গেল। বহু হিসাব নিকাশ করা বাকি আছে। “শিওর। কোনো সমস্যাই হবে না। আপনি কি অন্য দুজনকে দেখবেন?” টেক্সাসে অনেক দিন কাটানোয় কণ্ঠস্বরে দক্ষিণি টান।
মাথা নেড়ে কুপার জানাল, “মেয়েটাকে জীবিত ধরে আনতে হবে। ওর ব্যবস্থা করার আকে কতটুকু কী জানে তাও দেখতে হবে।” আরেকটা স্ক্রিনের লাল ফুটকির দিকে ইশারা করে বলল, “তবে তার আগে অন্য টার্গেটকেও দেখতে হবে।” রাইলির দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল, “তোমাকেই পাঠাতাম তবে এক্ষেত্রে লং ডিসট্যান্স উইপন লাগবে।”
“চিয়ারস” খলবল করে উঠল রাইলি।
স্যুইট থেকে বেরিয়ে এলিভেটরে চড়ে বসল কুপার। সব প্ল্যান মত এগোলে মিশনের এই অংশ আজ রাতেই পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যেমনটা সব সময়েই ঘটে কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও থাকবে না।
.
২৬. নিউ দিল্লি
সন্ধ্যার ব্যস্ত ট্রাফিকের জন্য রাধা বেশ ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। টাইটান ফার্মাসিউটিক্যালসের অফিস থেকে বের হয়ে ইমরানকে কয়েকবার ফোন করার চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি। উনি টাইটানের সিইওর সাথে মিটিংয়ে ব্যস্ত ভেবে এরপর বিজয়কে ফোন করেছে।
জার্নালের কথা জানিয়ে ন্যাশনাল মিউজিয়ামে যাচ্ছে বলে রাধাকে ইনফর্ম করল বিজয়; এও জানাল যে, “তোমার বাবাকে কাজ শেষ হলে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসব।” তাই সোজা বাসায় গিয়ে অন্যদের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিল রাধা। সিক্রেট জার্নাল, ধাতব পাত আর আইভরি কিউবের সাথে এর সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা শুনে সে নিজেও বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে মিউজিয়ামে কী ঘটে জানার জন্য।
সাউথ দিল্লিতে সাদা দেয়াল ঘেরা একটা বাংলোর গেইটের বাইরে গাড়ি পার্ক করল। এখানেই থাকে পিতা-কন্যা। ঘরে ঢোকার সময় আরেকবার ইমরানকে চেষ্টা করতেই এবারে উনি ফোন ধরলেন।
“সরি” ইমরান জানালেন, “আমার মিটিং শুরুই হয়েছে দেরিতে আর তারপর বারে বারে সিইওর ফোন আসায় শেষ হতেও সময় লেগেছে। আমিও ভাবছিলাম যে এক্ষুনিই তোমাকে ফোন দেবো। মিটিং কেমন হল?”
সাক্সেনার সাথে কী কী কথা হল সব খুলে বলল রাধা।
“হুমমম। তুমি আরেকটু হলেই থলের বিড়াল বের করে দিচ্ছিলে। আমার মনে হয় তাহলে সাক্সেনাকে চোখে চোখে রাখতে হবে। আরো অনেক কিছুই জানা যাবে বোধহয়।” নিজের মিটিং সম্পর্কে এরপর জানিয়ে বললেন, “রিপোর্ট করার মতন বিশেষ কিছু না। সাক্সেনা যা বলেছে প্রায়ই সেই কথাগুলোই শুনেছি। শুধু এর গলাটা বেশ সংযত আর কম হুমকির মনে হয়েছে। আমাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রেকর্ডও দেখতে দেবে বলে জানিয়েছে। এ ব্যাপারটা অবশ্য বেশ মজার লেগেছে। যদি গোপন করার কিছু থাকত, তাহলে নিশ্চয় এত সহজে অভ্যন্তরীণ রেকর্ড নিয়ে কথা বলত না। প্যাটারসনকে বলে ইউএসে ওদের বাকি কাগজপত্র চেক করাতে হবে।” কেটে দিলেন ইমরান।
