“তাহলে সরিয়ে দিলেই তো হয়।” অর্ডার এদেরকে এত সহজে ছেড়ে দিয়েছে দেখে তো কুপার যারপরনাই বিস্মিত। ওদের জীবিত থাকাটা তো
অর্ডারের কাজের সাথে খাপ খায় না। “বেঁচে থাকবে না, মানে প্রত্যক্ষদর্শীও নেই।” এটাই তো অর্ডারের গাইডিং প্রিন্সিপ্যাল। অর্ডারের সাথে জড়িত সকলেই এই নীতি মেনে চলে। এর বাইরে যাবার সাধ্য কারো নেই। এই কেসের ক্ষেত্রে কেন উল্টোটা হল কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।
ভ্যান কুক বুঝতে পারলো যে কুপার ব্যাপারটা ধরতে পারেনি। লোকটা অর্ডারের সত্যিকারের কোনো সদস্য ছিল না; ছিল এক কর্মচারী মাত্র। “অর্ডারের জন্ম কখন, বয়স কত সেটাও বোধহয় কারো মনে নেই। সেই ইতিহাসের শুরু থেকেই আছে। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা মেটাবার কোনো স্থান নয় অর্ডার। অর্ডারের অস্তিত্বের কারণও সবার অজানা। কেবল এর সদস্যরাই জানে। তবে আমরা যে কী করতে পারি তাও একেবারে অজানা নয়। আর এটা সম্ভব হয়েছে আড়ালে থেকে অপারেশন চালানো; রাজনীতিকে ব্যবহার করা; একইভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য অর্থনীতি আর যুদ্ধকেও কাজে লাগানোর মাধ্যমে। যদি আমাদের গত বছরের মিশনটা সফল হত তাহলে দুনিয়াকে শাসন করার জন্য মারণাস্ত্র হাতে এসে যেত। কিন্তু তখনো বাইরের দুনিয়ায় আমাদের উদ্দেশ্য। সাধনের জন্য সন্ত্রাসীদের সাথে হাত মেলাতে হয়েছে। অন্তরালে থেকে গোপনে রশি টেনে ঘটনা ঘটানোই আমাদের কাজ। তাই, যদি এই লোকগুলোর পিছু নিতাম তাহলে ইউ এস আর ইন্ডিয়ার সরকার কানেকশনটা টের পেয়ে যেত। অথচ মিশনে আমাদের সদস্যদের মৃত্যুর সাথে সবাই ধরে নিল যে কেস। সেখানেই সমাধা হয়ে গেছে। ফলে আমরাও স্বাধীন হয়ে গেলাম। অন্যান্য মিশন নিয়ে মাথা ঘামাতেও কোনো কষ্ট হল না। এখন যেমন তুমি একটার দায়িত্ব পেয়েছ।”
“তবে সমস্যাটা মনে হচ্ছে শেষ হয়নি।” চিন্তিত ভঙ্গিতে চিবুক ঘষলো কুপার। “ইন্ডিয়ান গোয়েন্দাবাহিনি জড়িয়ে পড়ায় কাজ আদায় করাটা কঠিন হবে।”
“গত বছর আর এ বছরের মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে কুপার।” হালকাভাবে হাসল ভ্যান কুক, “এই বছর আমাদের মিশন সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। আর আমাদের সাথে এসবের কানেকশনও কেউ বের করতে পারবে না। বিশেষ করে তুমি যখন চার্জে আছো। আমি তোমাকে চিনি। নিজের ট্র্যাক তুমি কাভার করো। এদের কোনো গুরুত্বই নেই। আর কোপ দেয়ারও যথেষ্ট কারণ আছে। তাই তোমার পথে যেই আসুক না কেন তাকে নিয়ে কী করবে সেটা ভাবার অধিকারও তোমার। কেউ বেঁচে থাকবে না। মানে প্রত্যক্ষদর্শীও নেই। নিয়মটা তো তুমিও জানো।”
কুপার মাথা নাড়তেই লাইন কেটে গেল।
বেডরুমের দরজায় নক শুনে তাকাতেই দেখা গেল কৃষাণ। বেশ অস্থির। দেখাচ্ছে।
“কোনো সমস্যা?” জানতে চাইল কুপার।
“আইবি অফিসার আর রাধা শুক্লা দুজনেই টাইটান ফার্মাসিউটিক্যালসে গেছে।”
এক দৌড়ে স্যুইটের লিভিং রুমে চলে এলো কুপার, “নাহ, এটা কিছুতেই হতে পারে না।”
দুটা লাল আলো জ্বলছে নিভছে এরকম একটা মনিটরের দিকে ইশারা করল কৃষাণ, “এটা টাইটান, আর ওই যে দুটো টার্গেট।”
নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছে না কুপার। ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্স কী ওদের প্ল্যানটা ধরে ফেলল নাকি? সেটা কিভাবে সম্ভব? কেউইতো জানে না। এমনকি কুপার নিজেও পুরো ডিটেইলস জানে না। শুধু এটুকু জানে যে পঁচিশ বছর আগে শুরু হয়েছিল এ মিশন। তাকে ব্রিফ করা হয় স্ট্যাভরসকে নিয়ে অলিম্পিয়াসের সমাধি খোঁড়ার জন্য। এও জানানো হয় যে সমাধি থেকে কী আনতে হবে। একবার সেই নির্দিষ্ট বস্তুটা হাতে এলে কী করতে হবে তাও স্পষ্ট ছিল। এর বেশি আর কিছুই জানে না।
তাহলে আইবি এমন কী জানে যেটা সে জানেনা?
যাই হোক, ওকে ওর কাজ করতে হবে। সাথে সাথে তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। সবার আগে একটা ফোন করতে হবে। আর তারপর টার্গেটেরা খতম। এরা সত্যের বড় বেশি কাছে চলে গেছে।
এতটা তো সে হতে দিতে পারে না।
.
২৪. এ মিসিং লিঙ্ক
একে একে ছয়টা পদ্যই পড়ে ফেলল বিজয়। মাঝে মাঝে কেবল মিসিং শব্দগুলোর সময় একটু করে থামতে হল।
“নাম্বার ওয়ান” শুরু করল বিজয়’ “এটাই মনে হচ্ছে পুরোপুরি অক্ষত আছে।”
পদ্য-১
তারপর…ধোঁকাবাজির জন্মস্থান
প্রতিশোধের শপথ নিয়ে মৃত্যুর জন্ম
সর্বশক্তিমান এক রাজা
অভিযাত্রিগণ…গড়িয়ে দাও খুঁটি!
আর…ভাগ্য তোমায় পথ দেখবে!
“নাম্বার টু-তে অনেক শব্দই নেই” পড়ার আগে বলে নিল বিজয়।
পদ্য-২
“ওপারে…দ্রুতবহতা…চক্ষু
লবণহীন সমুদ্রের …পাশে
তিনজন ভ্রাতা…
তীরের ফলার ন্যায়…রাস্তা
পাতালের …প্রবেশপথ
সর্পের সিল…
আর পাবে…সন্ধান।
“নাম্বার-খ্রি:
আর…সেই…পাথর
তুলে ফেলো…আর…ছাল
প্রথমটি…আর ফল
গাঢ় রঙ্গা…সাদা…খোসা
আর…অথবা…মসৃণ পরবর্তী …
… সেই ফল
সাবধান…স্পর্শে…জ্বলবে।
“নাম্বার ফোর”:
তারপর প্রবেশ করো…সেই পথে…
উপত্যকায়…পূর্বে…
বেছে নাও…মনে রাখবে
তুমি…যেখানে ঘুমায় অ্যাপোলো।
“নাম্বার-ফাইভ”:
কিনারের…উপরে…
যেখানে…আর রাত্রি…মেশে
…পোসিডনের সম্পদ
…সর্পের কাছে…
পাঁচ…দেবদূত
সেই প্রবেশপথ…দেবে…জীবন।
“নাম্বার-সিক্স”:
মনে রাখবে…সাহস…আর
অবহেলায়…হবে ধ্বংস
একত্রে …সমস্ত কিছু
সুরক্ষা দেয়…স্থির দৃষ্টি
অবজ্ঞায়…
হারাবে…সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।
