“আর তার কিছুদিন পরেই আবার খুন করে ফেলেছেন।” মিটিমিটি হাসছে কলিন। “মিডতে দেখি ক্ষণে ক্ষণে বদলাতো।”
“জার্নালে কি লেখা আছে যে ব্যাকট্রিয়াতে ক্যালিসথিনস আসলে কী খুঁজে পেয়েছিলেন?” মৃদু স্বরে জানতে চাইলেন ডা. শুক্লা। এতক্ষণ চুপচাপ বসে অন্যদের কথা শুনছিলেন আর আইভরি কিউবটা পরীক্ষা করেছেন।
নিজের নোটের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল বিজয়। “ফুলারের অনুবাদে এ সম্পর্কে কিছুই নেই। হয়ত অরিজিন্যাল প্যাপিরাস ডকুমেন্টে ছিল। তবে সে অংশটা তো ড্যামেজ হয়ে গেছে।”
“এটা সত্যি হলেও হতে পারে” মন্তব্য করল এলিস। “কারণ, আলেকজান্ডারের এশিয়া অভিযানের সময় ক্যালিসথিনস অনেক ধরনের সায়েন্টিফিক মিশনেও গিয়েছিলেন। তবে এ ব্যাপারে আর কিছু নেই কেন সেটাই বিস্ময়কর। কী মনে হয়, উনি ব্যাকট্রিয়ার জঙ্গলে কী করছিলেন?”
“ইউমিনেসের গল্পটা আরো মজার। শোনার জন্য সবাই তৈরি তো?” চকচক করে উঠল বিজয়ের চোখ। “ইউমিনেসের দাবি, আলেকজান্ডার তাকে তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ছয়টা পদ্যের একটা পার্চমেন্ট দিয়েছিলেন। যেটা নাকি “দেবতাদের সিক্রেট” খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। ইউমিনেস সিক্রেটের কথা বলে না গেলেও এটা লিখেছেন যে পার্চমেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী নাকি সিক্রেট অবস্থানে যেতে আলেকজান্ডারকে সাহায্য করেছে। দুজনে এক রাতে ছোট একটা চামড়ার পাউচ নিয়ে সেনাবাহিনিকে রেখে বের হয়ে পড়েন। তবে ব্যাগের ভেতরকার জিনিস ইউমিনেসকে দেখতে দেয়া হয়নি। পাঁচ মাথাঅলা সাপের মত দেখতে একটা পাথরের অভ্যন্তরে সিক্রেট লোকেশনটা খুঁজেও পান। তারপর ইউমিনেসকে রেখে আলেকজান্ডার কিছুক্ষণের জন্য ভেতরে যান। ফিরে আসার পর দেখা যায় তার দেহবর্ম আর ব্রেস্টপ্লেট ভেজা। যেন এতক্ষণ পুলে ভিজেছেন। সে রাতে কী ঘটেছে ইউমিনেস না জানলেও পরে বলতেন যে আলেকজান্ডার সত্যিই দেবতাদের সিক্রেট খুঁজে পেয়েছিলেন আর তারপর থেকে তিনি নিজেই এক দেবতা হয়ে যান।”
বিজয়ের কথা শেষ হবার সাথে সাথে নিশ্চুপ হয়ে গেল চারপাশ।
“এই কাহিনিটা” অবশেষে কথা বলল এলিস, “আলেকজান্ডার যে নিজেকে দেবতা দাবি করে উপাসনার ঘোষণা দিয়েছিলেন তার সাথে মিলে গেলেও কিছুটা আবার আলেকজান্ডার যে রোমান্স করেছেন সে গল্পের সাথেও খাপ খায়।”
“এগুলো সম্পর্কে আমিও শুনেছি।” বলে উঠল কলিন। “গ্রিক ইতিহাস যে একেবারে জানি না তা না। আলেকজান্ডারের গল্পগুলোর কালেকশনের একটা না?”
“ওয়েল, আমি এটাকে গ্রিক ইতিহাস বলব না, কলিন” হেসে ফেলল এলিস। “অজ্ঞাত একজন গ্রিক লেখক দ্য গ্রিক আলেকজান্ডার রোমান্স লিখে গেছেন। যাকে আজকাল ফুসিডো-ক্যালিসথিনস নামে ডাকা হয়। এর তিনটা ভার্সন আছে। প্রতিটাই অন্যদের চেয়ে আরো বেশি আকষর্ণীয় এবং একেবারে প্রথম পান্ডুলিপির তারিখ তৃতীয় শতকের। এখানে আলেকজান্ডার সম্পর্কে এত চমৎকার সব গল্প আছে যে কী বলব। তবে ইতিহাসের চেয়ে কল্পনাই বেশি।”
দাঁত বের করে হাসি দেখিয়ে দিল কলিন, “আরে বাবা আমিও তো তাই বলছি। সত্যিই।”
তবে বিজয়ের কথা শুনে চিন্তায় পড়ে গেছে এলিস। “আলেকজান্ডারের একটাই ইচ্ছে ছিল; দুনিয়া জয় করা। ইতিহাসে যে কথা বার বার লেখা হয়েছে। এখনো যেন মাথায় ঢুকছে না, “আর যদি এটা ধরেও নেই যে তিনি কোনো রহস্যময় এক ‘দেবতাদের সিক্রেট জানার অভিযানে গিয়েছিলেন কই ইউমিনেস তো মূল্যবান কিছু পাবার কথা লিখে যাননি। শুধু এটুকুই যে আলেকজান্ডার ফিরে আসার পর দেখা যায় তার দেহবর্ম ভেজা।”
“হয়ত দেবতাদের সুইমিং পুল পেয়ে গেছেন” কলিনের হাসি আর থামেই না, “সেটাও তো বেশ দামি তাই না?”
চোখ মুখ শক্ত করে তাকাল এলিস। “দ্যাটস ফানি, কলিন। কিন্তু সিরিয়াসলি এ কাহিনি তো আলেকজান্ডারের রোমান্সকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোমান্সের সব ক্ষেত্রেই আলেকজান্ডারকে ঈশ্বর হিসেবে আঁকা হয়েছে। এ কারণেই হয়ত ইউমিনেস অফিসিয়াল রেকর্ডে এ জাতীয় কিছু লিখে যাননি সত্যের চেয়ে কল্পনাই বেশি শোনাবে।”
খুক খুক করে কাশি দিয়ে বিজয়ের দিকে তাকালেন ডা. শুক্লা, “ইউমিনেস ছয়টা পদ্য সম্পর্কে কিছু বলে গেছেন?” নরম স্বরে জানতে চাইলেন প্রাজ্ঞ ভাষাবিদ।
“আমি তো ভেবেছি এ ব্যাপারে কারো আগ্রহই নেই।” এমনভাবে বলল বিজয় যেন মহার্ঘ্য কিছু উন্মোচন করতে যাচ্ছে। “উনি জার্নালে সবকটি পদ্য রেকর্ড করে গেছেন আর ফুলারও দয়াপরবশ হয়ে প্রতিটা অনুবাদ করেছেন। কয়েকটা শব্দ মিসিঙ হলেও সারমর্ম বুঝতে অসুবিধা হবে না। আমি বলছি।”
নোটবুকের পাতা উল্টে পড়তে শুরু করল বিজয়।
.
২৩. আবছায়া এক হুমকি
এক দৃষ্টে ক্রিশ্চিয়ান ভ্যান কুকের দিকে তাকিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল সুইটের বেডরুমে পার্সোনাল ওয়ার্কস্টেশনে বসে আছে কুপার। এইমাত্র মিশনের প্রগ্রেস সম্পর্কে সব জানিয়ে শেষ করেছে। ভ্যান কুক কেবল মাঝে মাঝে মাথা নেড়েছে। বোঝা গেল যে শেষ করার জন্য তাড়া দিচ্ছে।
তবে এলিসের সাথে আর কারা আছে শোনার সাথে সাথে বদলে গেল অস্ট্রিয়ান বিজনেসম্যানের চেহারা। স্থান-কাল ভুলে ঈগলের মত তীক্ষ্ণ চোখ জোড়া শ্যেন দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইল কুপারের দিকে।
“আমি ওই নামগুলো চিনি।” ধারালো কণ্ঠে জানাল ভ্যান ক্লক। গত বছর অর্ডারের সমস্ত প্ল্যান বানচাল করে দেয়া নামগুলো এত সহজে ভোলার কথা নয়। আরেকটু হলেই হাতে এসে যেত দুই হাজার বছর ধরে গোপনে থাকা মহাভারতের সিক্রেট। “একেকটা একেবারে বিষ ফোঁড়া। ওদের কারণেই অর্ডারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকেও হারিয়েছি।” দ্রুত কুপারকে সবকিছু খুলে বলল।
