.
২২. দ্য সিক্রেট জার্নাল
“শিওর” গলা পরিষ্কার করে বলল বিজয়, “দেখা যাক কী হয়। বেশ রহস্যময় একটা ব্যাপার। ইউমিনেস সম্পর্কে একেকটা সোর্স একেকটা কথা বলছে। তবে সবকিছু মিলিয়ে আমি যেটা বুঝতে পারছি তা হল তিনি ছিলেন আলেকজান্ডারের একজন জেনারেল আর তার মৃত্যুর পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ইউমিনেসকেও বন্দী করা হয়। এছাড়া পৌত্রের জন্য মেসিডোনিয়ান সিংহাসন পুনরুদ্ধারের কাজে অলিম্পিয়াসকেও সাহায্য করেছিলেন; যদিও এই কারণেই জীবন হারিয়েছেন। আরেকটা ব্যাপার স্পষ্ট যে তিনি বেশ জ্ঞানী ছিলেন আর এশিয়া অভিযানের সময় আলেকজান্ডারের রয়্যাল ডায়েরিও লিখে গেছেন।”
“রিসার্চ করার তেমন একটা সময় না পেলেও ক্যালিসথিনস আর ইউমিনেস সম্পর্কে এতকিছু জেনেছ সেটাই তো কত?” খুশি হল এলিস। “আলেকজান্ডারের পিতা দ্বিতীয় ফিলিপের সেক্রেটারি হিসেবেও কাজ করেছেন ইউমিনেস। আর ফিলিপের মৃত্যুর পর হয়ে উঠেন আলেকজান্ডারের চিফ সেক্রেটারি। এছাড়া অন্যতম জেনারেল তো ছিলেনই। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয় তার জেনারেলরা। বেশির ভাগ সোর্স ইউমিনেসকে স্বীকৃতি দিলেও ভাগ্য তার সহায় হয়নি। কাহিনিটা বেশ বড় হলেও খুব দ্রুত যতটা পারি সংক্ষেপে বলছি। আলেকজান্ডারের পর নির্বাচিত উত্তরাধিকার পারডিকাসের বিরুদ্ধে যেসব জেনারেল বিদ্রোহ করেছিল তাদের সাথে মৃত্যুবরণ করার কথা থাকলেও একবার ফাঁকি দিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন ইউমিনেস। কিন্তু মৃত্যু তাকে আলেকজান্ডারের আরেক জেনারেল অ্যান্টিগোনাসের কাছে তাড়া করে নিয়ে যায়। তবে অ্যান্টিগোনাসকে হারিয়ে দিলেও ইউমিনেসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তারই কিছু প্রাদেশিক কর্মকর্তা। এরপর অ্যান্টিগোনাসের হাতে খুন হন। সময় ৩১৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। তবে কথিত আছে যে, অ্যান্টিগোনাসের সাথে যুদ্ধের আগেই নিজের সমস্ত ডকুমেন্টস আর জার্নালস নষ্ট করে গেছেন। তাই কোনো ঐতিহাসিক রেকর্ডেই এই সিক্রেট জার্নালের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।”
“তোমার ধারণা এটা নকল?” খানিকটা উন্মা নিয়ে জানতে চাইল বিজয়। বন্ধুর গলার স্বরে রাগের আভাস পেয়ে ভ্রু তুলে তাকাল কলিন।
জার্নালটা হাতে নিয়ে মন দিয়ে পড়ছে এলিস। মনে হয় বাকি দুজনের কাণ্ড খেয়ালই করেনি। “হুম, সে রকমত মনে হচ্ছে না। অনেকটা যেন নিজেকেই শোনাল। তারপর বলল, “অনুবাদকের সূচনা অনুযায়ী, লরেন্স ফুলার ১৯৫৪ সালে মিসরীয় এক অ্যান্টিক ডিলারের কাছে খুব ভালো অবস্থায় আছে এমন এক সেট প্যাপিরাস ডকুমেন্টস পেয়ে যান। সে সময়ে তার দল কায়রোর কাছাকাছি এক প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজের সাথে জড়িত ছিল। এর সাথে ফুলার আরো কিছু নোটস আর টীকা যোগ করে গেছেন। কিন্তু এই জার্নাল মিশরে কেন আর কিভাবে গেল সেটাই তো বুঝতে পারছি না। ইউমিনেস তো আজকের দিনের ইরানে মারা গেছেন।” চোখ তুলে বিজয়ের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল, “তুমি এটা কোথায় পেয়েছ?”।
বিজয় খুলে বলল কেমন করে মাত্র গতকালকেই সে আর রাধা মিলে জার্নালটাকে খুঁজে বের করেছে। আমার বাবা-মা দুজনেই ইতিহাসবিদ ছিলেন, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াতে কাজ করতেন।”
“চমৎকার” বিড়বিড় করে আবার জার্নালে মনোযোগ দিল এলিস, “মনে হচ্ছে প্যাপিরাস ডকুমেন্টসগুলো ঠিকঠাক থাকলেও কিছু কিছু অংশ মিসিং হয়েছে। ফুলার যেই হোক না কেন যথাসাধ্য চেষ্টা করে হারানো অর্থ বসিয়ে অনুবাদ করে গেলেও মিসিং শব্দগুলো ছাড়া পড়তে একটু কষ্টই হচ্ছে।”
“তোমার বাবা-মা কিভাবে এই জার্নাল পেলেন সেটাই তো আমার মাথায় আসছে না” উচ্চস্বরে জানাল কলিন, “উনারা নিশ্চয়ই এই ফুলার লোকটাকে চিনতেন।”
কাঁধ ঝাঁকাল বিজয়, “আমি আসলে অনেক ছোট ছিলাম” স্বীকার করে জানাল, “আর দুভার্গ্যক্রমে সে সময় তাদের কাজের প্রতি এতটা আগ্রহীও ছিলাম না। তাই ওদের বন্ধু কারা কিংবা তাদের মাঝে ফুলারও ছিলেন কিনা সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণাই নেই। ইস, কোনোভাবে যদি জানতাম। উনার সাথে তাহলে যোগাযোগ করে বাবা-মা সম্পর্কেও কথা বলা যেত।” ধরে এলো ছেলেটার গলা।
“ওকে, এক্ষুনি আমি পুরো জার্নালটা পড়ে দেখতে চাই” ঘোষণা করল এলিস। উত্তেজনা লুকিয়ে রাখতে পারছে না। আমাকে শুধু সারাংশটা বলো।”
“ফুলারের লেখানুযায়ী জার্নালটা দুভাগে বিভক্ত আর সাথে একটা চিঠিও আছে।” শুরু করল বিজয়। “ক্যালিসথিনসের অংশটা মনে হচ্ছে ক্যালিসথিনস নিজেই লিখে গেছেন। আর তারপর ইউমিনেস তার দ্য ডিডস অব আলেকজান্ডারের সাথে এটাকে জুড়ে দিয়েছেন। ক্যালিসথিনসের দাবি সগডিয়ান পাথর অভিযানের সময় আলেকজান্ডার তাকে একটা সিক্রেট মিশনে পাঠিয়েছিলেন। এর কাহিনির অনেকটুকুই হারিয়ে গেছে। কারণ জার্নালের ওই অংশটার বেশ ক্ষতি হয়েছিল। তাই মিশনের উদ্দেশ্যটা তেমন স্পষ্ট না। তবে অবাক ব্যাপার হচ্ছে তিনি ব্যাকট্রিয়ার জঙ্গলে ঘুরে গাছ আর পাতা পরীক্ষা করতেন; যেটার কোনো ব্যাখ্যাই পাওয়া যায়নি।”
“তাই নাকি?” এলিসেরও খটকা লাগছে ব্যাপারটা নিয়ে।
“এই গল্পে এটুকুই আছে। এরপর মিশন সম্পন্ন করে ক্যালিসথিনস ফিরে এলে পর আলেকজান্ডার তাকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন।”
