তার মানে পাওয়ার মৃতদেহের কথা এখনো জানেনা। থাক, রাধাও কিছু বলবে না বলেই ঠিক করল।
“কিন্তু সেন্টারে তো একমাত্র টাইটানের ট্রায়ালই চলছিল।” রাধা এখনো হাল ছাড়েনি।
“ওহ, ইয়েস। অবশ্যই। সেটা তো আমি অস্বীকার করছি না।”
“ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে এরকম একটা ফ্যাসিলিটিতে আপনার সেলের কি দরকার ছিল?”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাক্সেনা জানাল, “আপনি শুধু শুধু নোংরা খোঁজার চেষ্টা করছেন। যেমনটা আমি বলেছি এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোও অন্য সব ট্রায়ালের মতই। ল্যাবে আর্য তার রিসার্চ করছিল। তারা এই ফ্যাসিলিটির মালিক। যখন আমরা প্রতিনিধি পাঠিয়ে এই রিসার্চের স্পন্সর হবার জন্যে সম্মতি দিতে ফ্যাসিলিটি চেক করেছিলাম, তখন তো গোপন বেজমেন্ট সম্পর্কে জানতামই না। কেউ সাইট ইন্সপেকশনে গেলে নিশ্চয়ই গুপ্ত রুম খুঁজে বেড়ায় না। আপনি তাই ভুল লোকটাকে ভুল প্রশ্ন করছেন। আমি আবারো বলছি পাওয়াকে জিজ্ঞেস করুন। সেই এসব কাদা ঘাটছিল, টাইটান নয়। ফ্যাসিলিটিতে যা আবিষ্কার করেছেন তা দেখে আপনার মত আমরাও স্তম্ভিত।”
“আরেকটা অদ্ভুত ব্যাপার হল” রাধা যেন সাক্সেনার কথা শুনতেই পায়নি, “ফ্যাসিলিটির কেবল তিনটা তুলাই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কাকতালীয়ভাবে এসব তলাতে কেবল ফ্যাসিলিটির সমস্ত মেডিকেল রেকর্ডস আর আইটি সেন্টার ছিল। শুধু এ ফ্লোরগুলোই পুড়ে গেল, ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত না? নিশ্চিতভাবেই কেউ ইচ্ছে করে ফ্যাসিলিটির ট্রায়ালের সমস্ত রেকর্ড আর ডাটা নষ্ট করার চেষ্টা করেছে।”
“আমার উত্তর এবারও একই।” খানিকটা কাট কাট স্বরে জানাল সাক্সেনা, “এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কে কিংবা কী দায়ী সে সম্পর্কে আমাদের কোনো আইডিয়াই নেই। তদন্ত শুরু হয়েছে। তাই সন্দেহাতীতভাবেই শেষ হলে আরো অনেক কিছু জানা যাবে। যা করার আছে তা হল অপেক্ষা। আর আমাদের অপিনিওন হল এর জন্য মি. পাওয়াই দায়ী।”
মাথা নাড়ল রাধা। সময় হয়েছে কান ধরে টানার “আমি তো এও শুনেছি যে ফ্যাসিলিটিতে প্রাপ্ত মৃতদেহগুলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াম আর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। যদি এর জন্য মি. পাওয়াকেই দায়ী করা হয় তাহলে তিনি আপনার অজ্ঞাতে কিভাবে আপনারই মেডিকেল সেন্টারে একশরও বেশি লোকের উপর দুটো নতুন ধরনের মাইক্রোবস প্রয়োগ করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছিল?”
এবার সাক্সেনার চেহারা কঠোর হয়ে গেল, বোঝা গেল যে আঘাতটা জায়গামত, লেগেছে। আপনার সোর্স সম্পর্কে আমার সত্যিই জানতে ইচ্ছে করছে। এবারে আর কষ্ট করে হাসার কোনো চেষ্টাই করল না। আপনি অনেক কিছুই জানেন দেখছি। টাইটানের বিরুদ্ধে এতসব জটিল অভিযোগ করছেন যার কোনো প্রমাণই নেই। দুভার্গ্য হল এই বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণহীনতাকেই তুলে ধরেছে। সেন্টারের স্টাফেরা কেবল তাদের দায়িত্ব পালন করছিল। বিভিন্ন টেস্ট করা, স্যাম্পল নেয়া এসবের মাধ্যমে বিশ্বাস করেছিল যে তারা বৈধ। আমরা আমাদের ইন্টারনাল সিস্টেম চেক করব। আর এটাও চেষ্টা থাকবে যেন এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে। এ ব্যাপারে আমি নিজে আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
খানিকটা ঝুঁকে সামনে আসতেই দেখা গেল পাথরের মত চেহারা ক্রোধে কালো হয়ে গেছে। “আর আমি এটাও জানি যে আপনি এই গল্প লিখবেন না সীমা। কেন জানেন?”
রাধা কিছুই বলল না। লোকটার গলার স্বরে কিছু একটা আছে। ও কী একটু বেশিই বলে ফেলেছে নাকি?
“কারণ” সাক্সেনা আবার শুরু করল, “আপনার হাতে কোনো প্রমাণই নেই। টাইটানকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে যদি এসব যথেচ্ছাচার লিখেন তাহলে আপনার সংবাদপত্রের ভরাডুবির ব্যবস্থা আমরাই করব। আর আমি শিওর আপনার এডিটর এতটা রিস্ক নেবেন না।”
এবারে রাধা জানাল, “আর যদি আমরা প্রমাণ খুঁজে পাই তো?” ভয়ে বুক দুরু দুরু কাঁপতে থাকলেও একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল সি এম ওর দিকে।
মুখ বাঁকা করে হেসে ফেলল সাক্সেনা, “আপনি পাবেন না। আর আমি তো বলব যে সে চেষ্টাও করবেন না। কেননা তাতে সমূহ বিপদ হতে পারে।”
“মনে হচ্ছে আপনি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন ডা. সাক্সেনা?” নিজেকে সামলাতে যুদ্ধ করছে রাধা। হালকাভাবে কেঁপে উঠল নিচের ঠোঁট।
সাথে সাথে বদলে গেল সাক্সেনার গলা। আবারো পরে নিল হাসি-খুশি থাকার মুখোশ। “ওহ, না, আরে কি বলেন।” জোর করে হেসে জানাল, “আমি তো শুধু বলতে চাইছি যে, আমাদের প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে যদি কেউ অবৈধ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়ে থাকে আর এতদিন ধরে, সেটা লুকিয়ে রাখতেও সমর্থ হয় তাহলে নিশ্চয় নিজেদের প্ল্যান বাঁচাতে যে কোনো কিছু করতেও পিছপা হবে না। তাদের সিক্রেট খোঁজার জন্য আশপাশে ছোঁক ছোঁক করা রিপোর্টারকেও নিশ্চয়ই ছেড়ে কথা কইবে না।” উঠে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিল যে মিটিং খতম হয়ে গেছে। “আপনি একজন নাইস ইয়াং লেডি। তাই আপনার কিছু থোক তা চাইছি না। সো, প্লিজ সাবধানে থাকবেন।”
বোবার মত করে মাথা নাড়ল রাধা। যা শুনেছে সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। তাড়াতাড়ি সাক্সেনার সাথে হাত মিলিয়ে বাইরে চলে এলো।
মেয়েটা চলে যাবার পর নিজের চেয়ারে বসে খানিক সিলিঙের লাইট পরীক্ষা করল সাক্সেনা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মোবাইল ফোনে একটা নাম্বার ডায়াল করে জানাল, “সাক্সেনা বলছি। কয়েকটা ব্যাপার জানানোর আছে।”
