নিজের অপশনগুলোও খতিয়ে দেখল। যদি টার্গেট সত্যিই একটা দুর্গে গিয়ে লুকিয়ে থাকে তাহলে তো হেভি গোলাবারুদ ছাড়া কাজ হবে না। কিন্তু তাতে করে আবার মানুষের নজর কাড়ার ঝামেলাও আছে।
এর পরিবর্তে তাই নির্দেশে জানাল, “আমাদের সবকয়টা টিমকে সজাগ থাকতে বলল। ওই দুর্গের প্রতিটা মানুষের গতিবিধি আমাকে জানাবে। ওরা কোথায় যায়, কী করে কিছু বাদ দেবে না।”
হেলান দিয়ে বসে চোখ বন্ধ করে ফেলল কুপার। বছরের পর বছর ধরে ট্রিগার টেপার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা তাকে ধৈর্যশীল হতে শিখিয়েছে। তাই আজও এর ব্যত্যয় হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই সঠিক মুহূর্ত নিজে থেকে এসে ধরা দেয়।
আর এর যে বেশি দেরি নেই সেটাও ভালোভাবেই জানেন। সব সময় তাই হয়েছে।
.
১৯. কৌতূহলোদ্দীপক এক আবিষ্কার
কেল্লার দোতলায় গবেষণা কক্ষে বসে নিজের ল্যাপটপের স্ক্রিন দেখছে বিজয়। ইমরান আর রাধা টাইটান ফার্মাসিউটিক্যালসের সাথে মিটিংয়ের জন্য বের হয়ে যাবার পর থেকেই চোখ দুটো আঠার মত জার্নালের পাতায় সেটে আছে। মাঝে মাঝে আবার নোটপ্যাডে নোটও নিচ্ছে।
রাধার খুঁজে পাওয়া জার্নালটা পড়ার পর গত আধঘণ্টা ধরে নিজের নোট রেফার করে ইন্টারনেট সার্চ করছে। এই ফাঁকে মাত্র একবারই কিছুক্ষণের জন্য ব্রেক নিয়ে ঘুরে এসেছে পাঁচতলার সেই বিশেষ রম থেকে, যেখানে বাবা মায়ের জিনিস ভর্তি কার্টনগুলো পেয়েছিল। তবে কাঙ্ক্ষিত ফাইলটা খুঁজে পেতেই আবার দৌড়ে গবেষণা কক্ষে চলে এসেছে।
হঠাৎ করে দরজায় নক শুনে চোখ তুলে তাকাল বিজয়।
“ওই, তোমার কি শেকড় গজিয়ে গেল নাকি?” ভেতরে এলো কলিন।
বন্ধুকে দেখে দেঁতো হাসি দিল বিজয়। জানে কৌতূহলে কলিনের পেট ফেটে যাচ্ছে। এতক্ষণ যে অপেক্ষা করেছে সেটাই বেশি।
ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল কলিন, “ইমরানের সাথে ওর মিটিং কেমন হয়েছে তুমি জানতে না চাওয়ায় এলিস খানিকটা রুষ্ট হয়েছে। বাকিদেরকে ব্রিফ করার পর স্টাডিতে বসে এলিসের সাথেও আধাঘণ্টা কথা বলে গেছেন ইমরান। কিন্তু বিজয়ের মাথায় কেবল জার্নালের কথাই ঘুরপাক খাচ্ছিল। তাই রাধা আর ইমরান চলে যেতেই ল্যাপটপ নিয়ে বসে গেছে।
“ওতো আর ছোট খুকী নয়” পাল্টা আবারো একবার হাসল বিজয়, “তাহলে জিজ্ঞেস করার কী আছে? আর ইমরানও বেশ সজ্জন মানুষ। যদিও বুদ্ধিমানও বটে। তাই জানি সব ভালোই হয়েছে।”
মাথা নাড়ল কলিন, “উনি এলিসকে একগাদা প্রশ্ন করে ওর খনন সাইট, ওয়ালেস আর তার স্ট্রাস্ট, ওই রাতে ওর সাথে কী কী ঘটেছে স জেনে নিয়েছে। এমনকি হোয়াটস অ্যাপে স্ট্যাভরস আর পিটারের ছবিও পাঠাতে বলেছেন উনার নাম্বারে। দেখতে চাইছেন ওই দুজন সম্পর্কে কিছু বের করা যায় কিনা।”
এরপর কৌতূহল নিয়ে বিজয়ের জার্নাল আর নোটপ্যাডের দিকে তাকাল, “আচ্ছা তুমি কী নিয়ে এত ব্যস্ত?”
“আমি একটু পরেই তোমাদেরকে জানাতাম। এত আকর্ষণীয় একটা জিনিস পেয়েছি না! আর এলিস দেখলে তো হা হয়ে যাবে। আমাদের হাত ধরেই সমাধা হবে এক প্রাচীন রহস্য।”
ঘোৎ ঘোৎ করে উঠল কলিন, “জানতাম যে এরকমই একটা কিছু ঘটবে। আসলে তোমাকে একা রেখে যাওয়াটাই ভুল হয়েছে।” কিন্তু বন্ধুর কথা শুনে আবার আগ্রহও হচ্ছে, “একটু থামো; এলিস আর ডা. শুক্লাকে নিয়ে আসি।”
অন্যেরা আসতে আসতে সেন্টার টেবিলের উপর সব গুছিয়ে রাখল বিজয়; জার্নাল, ল্যাপটপ আর পাঁচতলা থেকে নিয়ে আসা ফাইল।
কলিন আর ডা. শুক্লার সাথে রুমে ঢুকেই উৎসাহ নিয়ে ওর দিকে তাকাল মেয়েটা।
“এলিস” শুরু করল বিজয়, “এটা তোমার বিশ্বাস না হলেও আশা করছি ভালো লাগবে। আজ সকালে তুমি যখন অলিম্পিয়াসের কথা বললে তখনি কেন যেন মনে হয়েছিল যে এই নামটা আগেও কোথাও যেন শুনেছি। পড়ে মনে পড়ল যে কোথাও পড়েছি। এখানে, দেখো।” জার্নালটাকে তুলে নিল হাতে, “মেসিডোনিয়ার ইউমেনিসের একটা সিক্রেট জার্নাল।” আগ্রহ নিয়ে তাকাল বিজয়।
একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে এলিস। বুঝতে পারছে না বিজয় ওর সাথে তামাশা করছে কিনা। একটা সিক্রেট জার্নালং ইউমেনিসের?” কণ্ঠস্বরেই বোঝা গেল যে কতটা ধাঁধায় পড়ে গেছে। “সত্যি বলছ তো?”
হেসে ফেলল বিজয়। জার্নালটা পড়ার পর ইন্টারনেটের রেফারেন্স থেকে গ্রিক ইতিহাস সম্পর্কে এত কিছু জেনে গেছে যে এলিসের কাছ থেকে ঠিক এই প্রতিক্রিয়াই আশা করেছে।
“ফাইন” নিজের নোটগুলোতে একবার চোখ বুলিয়ে নিল। এখানে এমন কিছু তথ্য আছে যা বললে বুঝে যাবে যে আমি কতটা সিরিয়াস: আলেকজান্ডারের হয়ে সগডিয়ান পাথরের কাছাকাছি ব্যাকট্রিয়াতে ক্যালিসথিনস একটা সিক্রেট অভিযানে গিয়েছিলেন। এছাড়াও ভারত আক্রমণের সময়ও আলেকজান্ডার আর ইউমিনেস, দুজনে মিলে আরেকটা গোপন মিশনে অংশ নিয়েছিলেন।”
একেবারে হা হয়ে গেল এলিস। বিজয় যা যা বলছে সব সত্যি হলেও ইউমিনেসের যে একটা সিক্রেট জার্নাল আছে তা কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না। অথচ এখানে একেবারে তার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে।
“আমাকে একটু দেখতে দেবে?” হাত বাড়াতেই ওকে জার্নালটা দিল বিজয়।
“দাঁড়াও দাঁড়াও” বন্ধুর হাত ধরে ফেলল কলিন, “ইউমিনেস কে? ক্যালিসথিনসই বা কে? ক্যালিসথেনিকস এর আবিষ্কারক?”
“ক্যালিসথিনস, দ্য গ্রেট আলেকজান্ডারের সময়কার গ্রিক ইতিহাসবিদ” খানিকক্ষণের জন্য জার্নাল থেকে মনোযোগ সরিয়ে
