এ পর্যন্ত যে কতজনকে খুন করেছে তার কোনাে হিসাবও নেই নারী, পুরুষ, ছােট ছােট ছেলে-মেয়ে। আসলে কুপারের কাছে এরা কোনাে সংখ্যা নয়। মানুষ হিসেবে ভাবা তাে বহু দূরের কথা। কুপারের কাছে এরা কেবল সহজ-সাধারণ টার্গেট। যাদেরকে খতম করাটাই আনন্দের। নিজের কাজটা সে ভালােই বােঝে । নিয়মিত সাফল্য নিয়ে তাই যথেষ্ট গর্বিত। একট! টার্গেট ও কখনাে মিস হয়নি। এমনকি ট্রিগারের উপর হাত কাঁপারও অভিজ্ঞতা হয় নি।
বছরের পর বছর ধরে অর্ডারে তাই প্রভাব প্রতিপত্তিও বেড়ে গেছে। এখন তার কাজগুলাে কৌশলগতভাবে বেশি গুরুত্ব পায় যার মানে হল আগের তুলনায় কম অ্যাসাইনমেন্ট। যদিও বয়সের ভারেন্সেখের দৃষ্টি এখনাে একটুও মান হয় নি। অবশ্য তার সফলতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি একটা বিরাট ভূমিকা রাখলেও সেটা কখনাে তেমনভাবে স্বীকার করে না। তার মতে এক স্ট্যাটেজিস্টের মারণাস্ত্র হল মাথা। সেখানেই থাকে, সব প্রযুক্তিবিদ্যা। বাকি সবকিছু অনর্থক।
“বর্তমান স্ট্যাটাস কী?” কনসােলে বসে থাকা টাক মাথা লােকটার কাছে জানতে চাইল কুপার। মোচঅলা লােকটার নাম কৃষাণ। স্থানীয় টেকনােলজি টিম চালায়। গাত্রবর্ণ কালো হলেও আইটিতে একটা জিনিয়াস। কুপারের তাই ধারণা।
থেসালোনিকিতে পুলিশ জড়িয়ে পড়ার পর এলিসের পিছু না নিয়ে ট্রাক করার সিদ্ধান্ত নেয় কুপার। গোপন এই মিশন লোকচক্ষুর অন্তরালেই সারতে চেয়েছিল। অন্যদিকে মিডিয়ার কাছে খনন সাইটের ঘটনাটা যাতে লিক না হয় সেদিকটা সামলেছে স্ট্যাভরস। সত্যি ব্যাপারটা তাই কেউ জানতেই পারবে না। আর মিশনটাও সিক্রেট থাকবে।
কেবল বিষফোঁড়া হল এলিস। মেয়েটা যে কেবল চাক্ষুষ প্রত্যক্ষদর্শী তা নয়, ওর কাছে মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদটাও রয়ে গেছে। যেমন করেই হোক তা এবার পেতেই হবে। তবে এতে করে তার কিংবা মিশনের প্রতি যেন কারো দৃষ্টি না পড়ে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
থেসালোনিকিতে মেয়েটা উধাও হবার পর থেকেই বিস্তর খোঁজাখুঁজি করেছে। তারপর টের পেয়েছে যে এলিস সে দেশ ছেড়েই চলেছে। কিন্তু কুপারও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয়। বিশেষ করে যখন জানত যে ওর পাসপোর্ট সাইট হোটেলেই রয়ে গেছে। নিজের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কুপার থেসালোনিকিতে আমেরিকান কনস্যুলেটেও যোগাযোগ করেছে। সেই গ্রিক সিংগেল মাদার প্রথমে সাহায্য করতে রাজি না হওয়ায় তার পাঁচ বছরের মেয়েটাকেও তুলে আনতে হয়। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এরপরই কুপারকে গড়গড় করে সবকিছু বলে দিয়েছে শোকার্ত মা। ওয়াশিংটন থেকে স্পেশ্যাল অর্ডারসহ দ্রুত গতিতে এলিসের পাসপোর্ট ইস্যুর কথাও তার কাছ থেকেই জানতে পেরেছে। পরের দিন সকালবেলার নিউজপেপারে সবাই মাতা কন্যার গলা কাটা মৃতদেহের ছবি দেখেছে। এটা অবশ্য কুপারের স্টাইল নয়। এসব তার নতুন ডেপুটির কর্ম। ছোকরা আবার অস্ত্রের চেয়ে ছুরিতেই বেশি পটু।
পরের স্টপ হল গ্রিক ইমিগ্রেশন। যেখানে তার বেতনভুক্ত কন্ট্যাক্ট নেটওয়ার্ক আছে। তাদের কাছেই শুনেছে যে এলিস ভারতের নিউ দিল্লির উদ্দেশ্যে প্রাইভেট জেটে চড়ে বসেছে।
স্ট্যাভরসকে গ্রিসের দেখভালের জন্য রেখে অর্ডারের দেয়া প্রাইভেট জেটে করে কুপার নিজেও উড়ে এসেছে একই জায়গায়। ভারতে নেমে লোকাল মেলের সাথে যোগাযোগ করে গুড়গাঁওতে হেডকোয়ার্টার সাজিয়েছে। এখন শুধু জানার বাকি যে এলিস কোথায় আর কার কাছে উঠেছে। ব্যাপারটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। নিজের মিশন পুরো করার জন্য কেউ আর তাকে আটকাতে পারবে না। এলিস তো একটা উটকো ঝামেলা। একটা পিপড়া, যেটা কিনা পিকনিকের বারোটা বাজাতে এসেছে। এখন এটাকে পিষে মারার সময় হয়েছে।
নিজের চেয়ার ঘুরিয়ে কুপারের দিকে তাকাল কৃষাণ। “মেয়েটা জোনগড়ের একটা দুর্গে উঠেছে। নিউ দিল্লি থেকে দূরত্ব ১৩০ কি. মি. ওর সাথের লোকজনদেরকে আইডেন্টিফাই করেছি।” থেমে গেল কৃষাণ। “খবর বেশি ভালো না।”
ভ্রু তুলে তাকাল কুপার। “সাথে দুজন আমেরিকান নাগরিকও আছে। একজন আবার জন্মসূত্রে ভারতীয়। বিজয় সিং। অন্যজন হল কলিন বেকার। আরেকজন মেয়ে আছে যে কিনা ইন্ডিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাটোমিক এনাজিতে কাজ করে, নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট রাধা শুক্লা। আরো আছে ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর স্পেশাল ডিরেক্টর ইমরান কিরবাঈ।”
ভ্রুকুটি করল পিটার। মেয়েটা তত মনে হচ্ছে ভালই সেয়ানা। এরই মাঝে ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্স এজেন্সিকেও জড়িয়ে ফেলেছে। কৃষাণ ঠিকই বলেছে। খবর মোটেও ভালো না। “আইবি’র লোকটা এখানে কী করছে? তাদের আলোচনা সম্পর্কে কিছু জানা যায় না?”
“আমাদের টিম জায়গামতই আছে। কিন্তু ওরা এমন একটা রুমে আছে যেখানে কোনো সারভেইল্যান্স কাজ করে না। অডিও কন্ট্রাক্টও নেই। আর এমন কোনো ফাঁক নেই যেখান দিয়ে ভিজুয়াল কন্ট্রাক্ট করা যাবে। ফলে কোনো উপায়ই দেখছি না।” স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কুপার। “আসলে আমাদের স্টিগ্রে থাকলে ভাল হত। তাহলে তাদের কলগুলোও ট্র্যাক করে সব বের করে ফেলা কোনো ব্যাপারই ছিল না।”
এবার ভ্রুকুটি করল কুপার, “এই মিশনকে এমনিতেই যতটা সম্ভব লো প্রোফাইল রাখতে চাইছি। একটা দেশে স্টিনগ্রে নিয়ে আসার মানে তুমি জানো? সম্ভাবনার পাশাপাশি আমাদের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেবে। তুমি না একটা জিনিয়াস? তো হাতের কাছে যা আছে তাই নিয়েই কাজ করো না।”
