“আর আমরাই বা কিভাবে সাহায্য করতে পারি?” যোগ করল বিজয়।
“আপাতত হাতে তেমন কোনো কাজ নেই সিদ্ধান্ত জানালেন ইমরান, “তাই আমি চাইছি, তোমরা সব অ্যাংগেল থেকে সমস্যাটাকে ভেবে দেখো। যদি কোনো নতুন আইডিয়া পাওয়া যায়। এই ফাঁকে ফিল্ড এজেন্টরা পাওয়া আর অন্য কোনো লিড পাওয়া যায় কিনা খুঁজে দেখুক। তারা চার থেকে পাঁচ বছর আগেকার নিউজপেপার ঘেঁটে কিনিক্যাল ট্রায়ালের বিজ্ঞপ্তি দেখছে আর সেই সাথে এই ইন্ডাস্ট্রির লোকজনের সাথেও কথা বলছে। আমি ভারতে টাইটানের সিইও ভা, স্বরূপ ভার্মার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। আর টাইটানের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. বরুণ সাক্সেনার সাথেও মিটিং করব।”
“এ ব্যাপারে আমরাও সাহায্য করতে পারি” প্রস্তাব দিল রাধা। “সি এম ও-র সাথে দেখা করতে আমার কোনো সমস্যা নেই; যদি আপনি বলেন
“থ্যাংকস।” হেসে ফেললেন ইমরান। কিন্তু এটা একটা ফিল্ড জব। জার্নি টাস্ক ফোর্স সেট আপের পর তোমরা ট্রেনিং নিয়েছ; কিন্তু কোনো অভিজ্ঞতা তো নেই। ব্যাপারটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে যদি সত্যিই বায়োটেররিজমের সাথে দেখা হয়ে যায়।” না চাইলেও গত বছর মহাভারতের সিক্রেট খোঁজার সময়ে টেররিস্টদের সাথে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা মনে পড়ে গেল।
.
১৮. গুড়গাঁও
গুড়গাঁওয়ে অবস্থিত দ্য ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইটের ফ্ল্যাট স্ক্রিন মনিটরের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বসে আছে পিটার কুপার। রুমের এক কোণায় যন্ত্রপাতি ভর্তি একটা তাক থেকে ঝুলছে একগাদা তার। আরেক সারি সার্ভারের সাথে গিয়ে মিশেছে।
কুপার এই কম্পিউটার জিনিসটাকে একটুও বোঝে না। বাহান্ন বছরের জীবনে টেকনোলজির সাথে কখনোই তেমন বন্ধুত্ব হয়নি। একুশ বছর বয়সে যখন অর্ডারে যোগ দিয়েছে, তখন সম্বল ছিল কেবল ভাড়া করা পিস্তলের টেলিস্কোপিক সাইট দিয়ে যে কোনো দূরত্বে দেখা চলন্ত টার্গেটে লাগাবার ক্ষমতা। এছাড়া সষ্টিকর্তা ওকে সত্যিই এক অত্যাশ্চর্য স্মৃতিশক্তি দিয়ে পাঠিয়েছেন। আর এই দুই দক্ষতা মিলে তাকে বানিয়ে তুলেছে এক ভয়ংকর গুপ্তঘাতক। দিনে দিনে যা আরো শাণিত হয়ে উঠছে।
এ পর্যন্ত যে কতজনকে খুন করেছে তার কোনো হিসাবও নেই: নারী, পুরুষ, ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে। আসলে কুপারের কাছে এরা কোনো সংখ্যা নয়। মানুষ হিসেবে ভাবা তো বহু দূরের কথা। কুপারের কাছে এরা কেবল সহজ-সাধারণ টার্গেট। যাদেরকে খতম করাটাই আনন্দের। নিজের কাজটা সে ভালোই বোঝে। নিয়মিত সাফল্য নিয়ে তাই যথেষ্ট গর্বিত। একটা টার্গেটও কখনো মিস হয়নি। এমনকি ট্রিগারের উপর হাত কপারও অভিজ্ঞতা হয়নি।
বছরের পর বছর ধরে অর্ডারে তাই প্রভাব প্রতিপত্তিও বেড়ে গেছে। এখন তার কাজগুলো কৌশলগতভাবে বেশি গুরুত্ব পায়। যার মানে হল আগের তুলনায় কম অ্যাসাইনমেন্ট। যদিও বয়সের ভারে চোখের দৃষ্টি এখনো একটুও মান হয়নি। অবশ্য তার সফলতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি একটা বিরাট ভূমিকা রাখলেও সেটা কখনো তেমনভাবে স্বীকার করে না। তার মতে এক স্ট্যাটেজিস্টের মারণাস্ত্র হল মাথা। সেখানেই থাকে সব প্রযুক্তিবিদ্যা। বাকি সবকিছু অনর্থক।
“বর্তমান স্ট্যাটাস কী?” কনসোলে বসে থাকা টাক মাথা লোকটার কাছে জানতে চাইল কুপার। মোচঅলা লোকটার নাম কৃষাণ। স্থানীয় টেকনোলজি
“যদি শুরুই না করি তো অভিজ্ঞতাই বা কিভাবে হবে?” জোর দিল রাধা, “আপনার সাথে যদি সিইও-র কাছে যাইও তো কী হবে? আপনি তো সাথেই থাকবেন।”
“রাজি হয়ে যান, ইমরান” অট্টহাসি দিল বিজয়, “ও একটা বুলডগ। এখন আর পিছু হটবে না।”
নিজের পিঠে চাপড় দিয়ে ভাব দেখাল রাধা। “আমার মনে হয় ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং হবে। কাম অন ইমরান; চলুন ঝাঁপিয়ে পড়ি।”
“ওহ, ওকে” হাত বাড়িয়ে দিলেন ইমরান। “ফাইন। একটা ইন্টারভিউতে আর এমন কিইবা ঘটতে পারে? বিকাল সাড়ে চারটায় ইন্টারভিউর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছি। একই সময়ে সিএমও-র সাথে মিটিং করবে আমার লোকেরা।”
ফোনের জন্য হাত বাড়াতেই বাজতে শুরু করল রিংটোন। মনোযোগ দিয়ে ওপাশের কথা শুনতেই কালো হয়ে গেল ইমরানের চেহারা।
“কোনো খারাপ সংবাদ?” অনুমান করতে চাইল বিজয়। “এই মাত্র পাওয়ার মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এক্সপ্রেস ওয়ের সাথে কার অ্যাক্সিডেন্ট। কেউ গাড়ির ব্রেক আগে থেকেই নষ্ট করে রেখেছিল। তাই কোনো সুযোগই পায়নি।” দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালেন, “শেষ জীবিত সূত্রটাও হারিয়ে গেল। তার মানে খেলার স্বার্থে তাকেও বলি দেয়া হয়েছে। টাইটানের কারো হাতেই আছে আসল নাটাই। সমস্যা হল, সে যে কে তা খুঁজে পাবারই কোনো উপায় নেই।”
.
১৮. গুড়গাঁও
গুড়গাঁওয়ে অবস্থিত দ্য ওয়েস্টিন হােটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইটের ফ্ল্যাট স্ক্রিন মনিটরের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বসে আছে পিটার কুপার। রুমের এক কোণায় যন্ত্রপাতি ভর্তি একটা তাক থেকে ঝুলছে একগাদা তার। আরেক সারি সার্ভারের সাথে গিয়ে মিশেছে।
কুপার এই কম্পিউটার জিনিসটাকে একটুও বােঝে না। বাহান্ন বছরের জীবনে টেকনােলজির সাথে কখনােই তেমন বন্ধুত্ব হয় নি। একুশ বছর বয়সে যখন অর্ডারে যােগ দিয়েছে, তখন সম্বল ছিল কেবল ভাড়া করা পিস্তলের টেলিস্কোপিক সাইট দিয়ে যে কোনাে দূরত্বে দেখা চলন্ত টার্গেটে লাগাবার ক্ষমতা। এছাড়া সৃষ্টিকর্তা ওকে সত্যিই এক অত্যাশ্চর্য স্মৃতিশক্তি দিয়ে পাঠিয়েছেন। আর এই দুই দক্ষতা মিলে তাকে বানিয়ে তুলেছে এক ভয়ংকর গুপ্তঘাতক। দিনে দিনে যা আরাে শাণিত হয়ে উঠছে।
