“রাইট” শুরু করলেন আইবি স্পেশাল ডিরেক্টর, “টাস্ক ফোর্স তার ফাস্ট কেস পেয়েছে। থিংক ট্যাংক হিসেবে তাই তোমাদেরকে ব্রিফ করতে এসেছি। প্যাটারসনের সাথেও যোগাযোগ হয়েছে। সে তার ইউ এস টিম মেম্বারদেরকে জানাবে।”
খানিক বিরতি দিয়ে আবার বললেন, “সম্ভাব্য বায়োটেররিজমের কেস এসেছে হাতে। দুই রাত আগে, আমার শৈশবের বন্ধু আনোয়ার সাহায্যের অনুরোধ করে মেইল পাঠিয়েছিল। কিন্তু তখন আমি এটা জানতাম না; তবে এখন মনে হচ্ছে ও পাঁচ বছর আগে ইউ এস মাল্টিন্যাশনাল টাইটান ফার্মাসিউটিক্যালসের ভারতীয় রির্সাচ সেন্টারে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ভলান্টিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছে। আর্য ল্যাবরেটরিতে পাওয়া মৃতদেহসহ সে রাতে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন ইমরান।
“আইটি ল্যাবে পাওয়া মৃতদেহই আনোয়ার। পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ায় চেনার কোনো উপায় ছিল না। ডিএনএ অ্যানালাইসিস করে নিশ্চিত হয়েছি।” থেমে গেলেন ইমরান। বন্ধুর মৃত্যুর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। “পুরোটাই আমাদের অনুমান। তবে মনে হচ্ছে আনোয়ার কোনো এক ফাঁকে আইটি ল্যাবে ঢুকে মেইলটা পাঠিয়েছে। আর তারপর ওকে ধরে হত্যা করা হয়েছে। অটোপসি রিপোর্ট কনফার্ম করেছে যে মৃত্যুর কারণ হল মাথার ভেতর ঢুকে পড়া বুলেট।
একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ। আরো মনে হচ্ছে, ওরা যখন বুঝতে পেরেছে যে ইমেইলটা একজন আইবি অফিসারকে পাঠানো হয়েছে তখনই আর দেরি না করে সবাইকে খুন করে পুরো ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে; যেন কোনো প্রমাণই আর না থাকে।”
“তার মানে একটা নতুন বায়ো-উইপন তৈরির জন্যই এসব ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হচ্ছিল?” জানতে চাইল রাধা, “টাইটান কী বলছে?”
“আমরাও প্রথমে তাদেরকেই সন্দেহ করেছি। কিন্তু টাইটানের দাবি যে তাদের সমস্ত ট্রায়ালই বৈধ আর ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়াও স্বীকৃতি দিয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস রেজিস্ট্রিও চেক করে দেখেছি। টাইটান ওখানে অসংখ্য ট্রায়ালের রেজিস্ট্রেশন করেছে। প্যাটারসন আর তার দল ইউএসে টাইটানের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট আর বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মেজরিটি শেয়ারহোল্ডার কাট ওয়ালেসের সাথেও কথা বলেছে।”
নামটা শুনে সাথে সাথে নড়ে উঠল বাকিরা। “এই লোকটাই তো এলিসের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজে ফান্ড দিয়েছিল বিস্মিত হল বিজয়। “এলিস কে?” তৎক্ষণাৎ জানতে চাইলেন ইমরান, “এর সাথে ওর কিসের সম্পর্ক?”
“ও আমার ফ্রেন্ড। ইউএসে থাকে। হঠাৎ করেই আজ সকালে এখানে এসেছে।” খুব দ্রুত এলিসের কাহিনি বলে গেল বিজয়। ওয়ালেসের কথাও বাদ দিল না। :
শেষ হতেই ঠোঁট কামড়ে ধরলেন ইমরান। “তোমার বন্ধু তো আসলেই এক কঠিন সময় পার হয়ে এসেছে। শুনে ভাল লাগল যে অবশেষে সরে আসতে পেরেছে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে দুটো কেসেই কার্ট ওয়ালেস’কমন ফ্যাক্টর। আর তার চেয়েও কাকতালীয় হল এমন একটা সময়ে তোমার বন্ধু ভারতে এসেছে যখন আমরা সম্ভাব্য বায়োটেররিজমের কেস হাতে পেয়েছি।”
ইমরান কী ভাবছেন বুঝতে পারল বিজয়, “আমি ওর হয়ে নিশ্চয়তা দিচ্ছি” অভয় দেয়ার চেষ্টা করে বলল, “আমি ওকে চিনি…” রাধাকে না ক্ষেপিয়ে কিভাবে ওর আর এলিসের সম্পর্ক বর্ণনা করা যায় তা নিয়ে খানিক ভেবে জানাল, “আসলে বলা যায় ওর সম্পর্কে ভালোভাবে জানি।” . চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকালেন ইমরান, “হয়ত। কিন্তু এখানে আসার টাইমিং আর আমাদের কেসের কার্ট ওয়ালেসের সাথে ওর সম্পর্কটা আসলেই কৌতূহলোদ্দীপক। হতে পারে এটা কো-ইন্সিডেন্স ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না।”
চুপ করে গেল বিজয়। নিজের অসন্তোষ চাপার চেষ্টা করছে।
আবারো শুরু করলেন ইমরান, “ওয়ালেস আর টাইটানের পুরো সিনিয়র ম্যানেজমেন্টই আর্যর মালিক সুমন পাওয়ার উপর আঙুল তুলেছে। আগুন লাগার পর থেকে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজা হয়েছে। অথচ একেবারে যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে। তাই ফলাফল শূন্য। তবে আরো কিছু খবর আছে। আগুনে হার্ড-ড্রাইভের যথেষ্ট ক্ষতি হলেও আমাদের অত্যন্ত অত্যাধুনিক আইটি ল্যাবে বেশ কিছু ডাটা উদ্ধার করতে পেরেছি। যার মাঝে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সাবজেক্টদের উপর ফাইলও আছে। এসব মেডিকেল হিস্ট্রি থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত মৃতদেহগুলোর উপর অটোপসি রিপোর্ট আর স্যাম্পল নিউ দিল্লির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল আর পুনেতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতেও পাঠিয়েছি। এদের ফাইন্ডিংসের সাথে ওয়াশিংটনে অবস্থিত সি ডিসি-র রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হয়েছে; যা মাত্র আজ সকালেই হাতে এসেছে।”
আগের দিন সন্ধ্যায় প্যাটারসন আর ডা. রয়সনের সাথে আলোচনার কথাও সবিস্তারে জানালেন। “তো এখন আমাদের অনুমান হল যে এই পাওয়াই চুপিচুপি সেন্টারে গোপন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছিল। ইউএসের কারো জড়িত থাকার আশঙ্কাও বাদ দেয়া যাচ্ছেনা। বিশেষ করে ওয়ালেস নিজে। যদিও শক্ত কোনো প্রমাণও নেই।”
ইমরানের কথা শেষ হবার সাথে সাথে নিস্তব্ধ হয়ে গেল পুরো রুম।
“তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?” বরাবরের মতই সবার আগে মুখ খুলল কলিন।
