“ঠিক কথা।” সম্মত হল এলিস। “কিউবটা তৈরির পেছনে নিশ্চয় কোনো একটা উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু কী উদ্দেশ্য সেটা জানারই কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। “ আবারো কন্টেইনারে ঢুকিয়ে রেখে দিল কিউবটা।
“ও.কে, তাহলে আজ এ পর্যন্তই থাক। এখন বাইরে গিয়ে কেল্লার চারপাশে একটু ঘুরে বেড়ালে হয় না? এত সুন্দর একটা দিন। তাছাড়া ধাঁধাগুলোর তো সমাধানও হচ্ছে না। ঈশ্বর জানেন যে এতে আমি কতটা খুশি হয়েছি। আর আমার জীবনটা হচ্ছে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার। তাই কোনো ধরনের দুঃসাহসিক অভিযানে গিয়ে তা খোয়াতে চাই না। এগুলো গ্রিক হিরোদেরকেই মানায়; হারকিউলিস আর ওর জ্ঞাতিভাইরা। আমার মত বিংশ শতকের কাউকে না।” উঠে দাঁড়িয়ে এলিসের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল কলিন। হাস্যমুখে সাড়া দিল মেয়েটা।
“ডোন্ট ওরি” হা হা করে অট্টহাসি দিল বিজয়। “এমনিতেও আমরা যে এগুলোর পিছনে ছুটব সেরকম মনে হচ্ছে না। গ্রিস এখান থেকে অনেক দূর। তাই উত্তরের আশায় অত দূর ছুটে যাবার কোনো মানে হয়না। আর তাছাড়া আমাদের তো কোনো গরজও নেই। অনর্থক এই বুদ্ধির খেলায় পা না বাড়ানোটাই সমীচিন।”।
“আমার মনে হয়, একটু তাজা বাতাসে ঘুরে আসলে ভালই লাগবে।” উঠে দাঁড়িয়ে এলিস আর কলিনকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন ডা. শুক্লা। রয়ে গেল বিজয় আর রাধা।
কৌতূহল নিয়ে তাকাল বিজয়।
“তো” শুরু করল রাধা, “মেয়েটা কে? হট, সোনালি কেশধারী, বার্বির মত চেহারার মেয়েটা মাঝরাতে পৌঁছেই তোমাদের বন্ধু হয়ে গেল? কেন এসেছে? বলো?”
রাধার কণ্ঠে মজা করার ভাব থাকলেও বিজয় বুঝতে পারল ওকে খুলে বলা দরকার। তাই এলিসের সাথে ওর অতীত সম্পর্কের কথা স্বীকার করল। “কিন্তু চিন্তা করো না” আশ্বস্ত করল রাধাকে, “এসবই এখন অতীত। বহুকাল আগেই চুকেবুকে গেছে। যখন তোমার সাথে দেখা হল তখন আমার সঙ্গী ছিল কেবল কাজ আর কাজ।”
মাথা নেড়ে হেসে ফেলল রাধা। কিন্তু মনের মাঝে কী যেন খচখচ করছে। বিজয়কে নিয়ে কোনো চিন্তা নেই; ওকে মন প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করে। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে যে এলিস আর বিজয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মেয়েটাই বেশি শক্ত ছিল। এলিস কেমন করে বিজয়ের দিকে তাকাচ্ছিল সেটাও সে দেখেছে। তাই সন্দেহ হচ্ছে যে এখনো হয়ত মন থেকে বিজয়কে ভুলতে পারেনি। ব্রেক আপ আর এত বছরের দূরত্ব সত্ত্বেও এলিস এখনো বিজয়ের কথা ভাবে।
ঠিক করল এখন এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সময়মতই সব সামলাবে। “ইমরান এখানে কখন আসবেন?” জানতে চাইল রাধা।
ঘড়ির দিকে তাকাল বিজয়, “বলেছিলেন যে দুপুর হবে। আমাদের হাতে এখনো অনেক সময় আছে।” হঠাৎ করেই আরেকটা কথা মনে এলো, “চলো, সময় যেহেতু পাওয়া গেছে তোমাকে অদ্ভুত একটা জিনিস দেখাবো। উপরের তলার একটা রুমে যেতে হবে।”
“ইমরান কেন দেখা করতে চাইছেন?” সিঁড়ি বেয়ে পাঁচ তলায় উঠতে গিয়ে জানতে চাইল রাধা।
“ঠিক করে কিছু বলেননি। শুধু এটুকু জানিয়েছেন যে টাস্ক ফোর্সের প্রথম কেস পেয়েছেন আর সে ব্যাপারেই ব্রিফ করবেন। কিন্তু কেন যেন তেমন হাসি-খুশি শোনায়নি উনার গলা।”
.
১৬. জোনগড় কেল্লা
“এটা তো আসলেই বেশ অদ্ভুত!” বিজয়কে হতবুদ্ধি করে দেয়া ফাইলটার পাতা ওল্টাতে গিয়ে বলল, “সবকিছুকে একত্রে ফাইলবন্দী করে যাবার পেছনে নিশ্চয়ই তোমার বাবার শক্ত কোনো যুক্তি আছে।”
কাধ ঝাঁকাল বিজয়, “সেটাই তো ভেবে বের করতে চাইছি। কিন্তু কারণটা যে কী হতে পারে সে সম্পর্কে মাথায় কোনো আইডিয়াই আসছে না।”
“এটা কী?” বিভিন্ন চিহ্ন আঁকা একটা এ-ফোর সাইজের পৃষ্ঠার দিকে ইশারা করল রাধা। সিম্বলগুলোকে খুব কাছ থেকে পরীক্ষা করে দেখল। “দেখে মনে হচ্ছে উত্তর-ইউরোপীয় প্রাচীন বর্ণমালা। আরে এগুলোতে হাতে লেখা হয়েছে। তোমার বাবার হ্যান্ডরাইটিং?”।
“জানিনা” স্বীকার করল বিজয়। “উনার হাতের লেখা কেমন ছিল তাও, খেয়াল নেই। আসলে বাবার সম্পর্কেও তেমন কিছু মনে পড়ে না।” মাথা নাড়িয়ে। জানাল, “একসাথে তো খুব বেশি সময় কাটানো হয়নি। এখন আফসোস হয়। আরেকটু যদি কাছে পেতাম। তখন মনে হত কোথায় আর যাবো। তাই বাড়ির পাশের পার্কে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট আর ফুটবল খেলা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতাম। অথচ দেখো এখন আর কিছু করার নেই।” নীরব হয়ে গেল বিজয়। আস্তে করে ওর হাত ধরল রাধা। মেয়েটা ওর কাছে আছে জেনে কৃতজ্ঞতায় ছেয়ে গেল মন।
“এখানে একটা লিস্টও আছে” আরেকটা কাগজ হাতে নিয়ে দেখছে রাধা, “মনে হচ্ছে কোনো সূচিপত্র।”
রাধার হাতের কাগজটা দেখল বিজয়, “একটা কাজ করলে কেমন হয়, চলো চেক করে দেখি, ফাইলের কাগজপত্র আর এই সূচিপত্রের মাঝে মিল আছে কিনা। হুম?”
একমত হল রাধা। মনে হচ্ছে সেটাই ভালো হবে। আর শেষমেশ কিছু পাওয়া না গেলেও সমস্যা নেই; বিজয় তো স্বস্তি পাবে! ইনডেক্স পাতাটা ফাইল থেকে বের করে নিল। তারপর একেকটা নাম ধরে ধরে আবার ফাইল গোছানো শুরু করল বিজয়।
এতটা সহজ হল না কাজটা। ঠিকঠাক নাম অনুযায়ী কেবল অল্প কয়েকটাই পাওয়া গেছে। তাই লিস্ট অনুসারে মেলাবার পর বাকিগুলোকে অনুমানে গোছাতে হল।
“তালিকার তিনটা আইটেম এই ফাইলে নেই।” সমস্ত কিছু জায়গামত রেখে দেবার পর ঘোষণা করল রাধা। হিসাব করে দেখাল, “কে এস-১, কে এস-২ আর তৃতীয়টা হল একটা মাত্র চিহ্নঅলা নামটা পড়তে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, “এটা কি একটা ডব্লিউ?”
