চারপাশের শ্রোতাদের দিকে তাকাল এলিস। “বলে যাও” উৎসাহ দিলেন ডা. শুক্লা, “সত্যিই বেশ ইন্টারেস্টিং।”
“আমরা সমাধিটাকে খুঁজে পেয়েছি।” এত সহজে মাত্র চারটা শব্দে ঐতিহাসিক আবিষ্কারটার কথা বলে ফেলল দেখে এলিস নিজেই বিস্মিত হয়ে গেল।
“এটাই যে রানি অলিম্পিয়াসের সমাধি সেটা জানলে কিভাবে?” জানতে চাইল রাধা। একটু আগেই মেয়েটা এমনভাবে বিজয়ের দিকে তাকিয়ে হেসেছে যা ওর মোটেও ভালো লাগেনি। কে এই মেয়ে? বিজয় তো কখনো এ নাম বলেনি।
“ওয়েল এ ব্যাপারে শুরু করতে হলে অলিম্পিয়াস সম্পর্কে কিছু বলতে হবে। মারকিজিয়ালস গ্রামে বিংশ শতকের শুরুতে অলিম্পিয়াসের সমাধির কথা লেখা একটা শিলালিপি পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় যে, এখানেই ছিল প্রাচীন পিড়না। কার্টের রিসার্চ টিম একটা নিউজ আইটেম খুঁজে পেয়েছে যেটার বেশিরভাগই আবার মুছে গেছে। তারা এটাকে খুঁজে পেয়ে কিনে নেয়। এখানে সমাধির ব্যাপারে সরাসরি উল্লেখ করে লেখা হয়েছে এটা মারকিজিয়ালসের চেয়ে করিনোসের বেশি কাছে। তাই আমরাও স্যাটেলাইট রিমোর্ট সেন্সরের মাধ্যমে মাটির নিচে সমাধি সদৃশ কাঠামোর প্রমাণ পেয়ে সেখানেই খনন শুরু করি। যদিও একেবারে ভেতরে না ঢোকা পর্যন্ত এর বাসিন্দা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলাম না।” স্বীকার করল এলিস। “কিন্তু দেয়ালের ভাস্কর্যগুলো দেখার সাথে সাথে… চেম্বারের সর্বত্র দেখা সাপগুলোর কথা মনে পড়তেই থেমে গেল। তারপর আবার জানাল, “আপনারা হয়ত জানেন যে লোককাহিনি অনুযায়ী আলেকজান্ডারের জনক ফিলিপ নন। আলেকজান্ডারের মা তাকে জানিয়েছেন যে তিনি জিউসের পুত্র যে কিনা সাপের বেশে এসে রানির সাথে মিলন করেছেন। লোককাহিনি অনুযায়ী সাপের প্রতি অলিম্পিয়াসের এক অন্যরকম মুগ্ধতা কাজ করত। তিনি এমনকি এগুলোর সাথে ঘুমাতেই অভ্যস্ত ছিলেন। এই কারণেও হয়ত আলেকজান্ডারের জন্ম নিয়ে সে লোকজ কাহিনি তৈরি হয়েছে।” অ্যান্টি চেম্বারের দেয়ালে দেখা সেই রানির পেইন্টিং, সমাধির চেম্বারের দেয়ালের সাপ আর তৃতীয় আরেকটা চেম্বারে খুঁজে পাওয়া গোপন মূর্তি আর ট্যাবলেটগুলোর কথা খুলে বলল এলিস।
“আর সেই কিউব?”
নিজের কৌতূহল আর দমাতে পারল না বিজয়। “আমরা দেখতে পারি?”
.
১৪. আইভরির এক ধাঁধা
কিউবটা আনতে নিজের রুমে গেল এলিস। এই ফাঁকে রাধা আর ডা. শুক্লাকে মেয়েটার গ্রিসের অভিজ্ঞতা খুলে বলল বিজয়।
“এই কারণে ইউএস ফিরে না গিয়ে এখানে এসেছে।” মন্তব্য করল রাধী।
“পালানোর চেষ্টা করার সময় আমাকে ফোন করেছিল।” রাধার কণ্ঠস্বরে সন্দেহের আভাস পেয়ে তাড়াতাড়ি বলে উঠল কলিন, “হয়ত ভেবেছে যে এখানে আসলে কোনো সমস্যা হবে না।”
“আর তাই তো হয়েছে, না?” উত্তর দিল রাধা।
ঠিক তখনি আবার ফিরে এলো এলিস। কন্টেইনার খুলে কিউবটি কফি টেবিলের উপর রাখল যেন সবাই দেখতে পায়। চারটা মাথা একসাথে কিউবটার উপর উপুড় হয়ে পড়ল।
“এখানে কী লেখা আছে? তুমি পড়তে পেরেছ?” এলিসের দিকে তাকাল রাধা।
মাথা নাড়ল এলিস। “এই লেখা আমি কখনোই দেখিনি। তবে কেমন পদ্য টাইপের মনে হচ্ছে। আমার ভুলও হতে পারে।”
“এটা ব্রাহ্মী স্ক্রিপ্ট।” ঘোষণা করলেন ডা. শুক্লা, এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে কিউবটা দেখছিলেন। “আরো অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এটা সংস্কৃতে লেখা। অথচ সংকৃত লেখার জন্য ব্রাহ্মীকে তেমন একটা ব্যবহার করা হত না। এই কিউবটা নির্ঘাৎ ভারত থেকে নেয়া হয়েছে।”
পরস্পর দৃষ্টি বিনিময় করল এলিস, কলিন আর বিজয়। “ভারতীয় একটা কিউব প্রাচীন গ্রিক সমাধির মধ্যে কী করছিল?” আশ্চর্য হয়ে গেল এলিস। “ভ্রমণ করার জন্য দূরতুটা কম নয়। সবার আগে ভাবতে হবে যে এটা গ্রিসে গেল কী করে?”
এলিসের দিকে তাকালেন ডা. শুক্লা, “কন্টেইনার থেকে বের করে যদি আমি এটা আরেকটু কাছ থেকে দেখি তুমি কিছু মনে করবে?”
“শিওর” সম্মত হল এলিস। কী লেখা আছে জানার জন্য অন্যদের মত সে নিজেও বেশ আগ্রহী।
উল্টে-পাল্টে কিউবটার ছয়টা পাশই পড়লেন ডা. শুক্লা। “ইন্টারেস্টিং” বোঝা গেল অবাক হয়েছেন।
“বলো না পাপা” চাপ দিল রাধা, “পদ্যগুলো পড়ে শোনাও।”
পিটপিট করে তাকালেন ডা. শুক্লা, “কিউবের একটা পাশ একেবারে খালি। অন্যগুলোতে সব মিলিয়ে পাঁচটা পদ্য আছে। একটা হল :
ঢালের উপরের নদী
যেখানে একসাথে মেশে দিন আর রাত্রি
আর শুক্র দেখায় শিবের ইঙ্গিত
পাঁচ মুকুটঅলা সেই মহাশক্তিধর সাপ
তোমাকে জীবন দান করবে যে প্রবেশদ্ধার
তার চির প্রতিপালক।
গুঙ্গিয়ে উঠল কলিন, “ওহ, খোদা! সাংকেতিক মেসেজঅলা আরেকটা ধাঁধা। এক বছরও হয়নি এগুলোর হাত থেকে বেঁচে এসেছি।”
“ইয়েস; কিন্তু মর্মোদ্ধার করে অবশেষে সিক্রেট লোকেশন খুঁজে পাওয়াটাও কম মজার ছিল না, তাই না?” বন্ধুর দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসল বিজয়।
“শুধু আমরা যে কিডন্যাপ হয়েছি সে অংশটা বাদে।” মনে করিয়ে দিল রাধা। ওই অভিজ্ঞতার নগ্ন আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি ভুলতে পারেনি।
“আর শেষ পদ্যটার মর্মোদ্ধার করে লোকেশনটা তুমিই পেয়েছিলে কলিন।”
“ইয়াহু, জানি, জানি।” ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে উঠল কলিন। “কিন্তু ওরকম আরেকটা শিকারে যাবার কোনো ইচ্ছে নেই। মনে হচ্ছে যতবার ভারতে আসব ততবারই এসব ধাঁধা আর কবিতা এসে চেপে ধরবে।”
