মাথা নাড়ল এলিস। এর চেয়ে বেশি কিছু আশাও করেনি। তারপরও কেন যেন এখানে নিজেকে নিরাপদ মনে হচ্ছে। কখনো ভারতে না এলেও চারপাশে বন্ধুরা তো আছে!
“দুর্গের নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিজস্ব সিকিউরিটি সিস্টেম আছে।” জানাল বিজয়, “বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত এখানে যতক্ষণ থাকবে কেউ তোমার গায়ে হাত দিতে পারবে না।” বললেও মনে পড়ে গেল গত বছর আঙ্কেলের ভাগ্যে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো। যাই হোক জোর করে তা মন থেকে তাড়িয়েও দিল। তারপর তো সিস্টেম আরো আপগ্রেড করা হয়েছে।
“থ্যাংক ইউ বিজয়” উত্তরে জানাল এলিস, “তুমি যে আমাকে সাহায্য, করতে রাজি হয়েছ সে কারণে অসংখ্য ধন্যবাদ।”
জোর করে হাসল বিজয়। নিজের আবেগ লুকোতে পুরোপুরি সচেতন। “শিওর। সাহায্য করতে পারলে সব সময় ভাল লাগে।
“কলিন, তুমি গিয়ে এলিসকে গেস্ট রুম দেখিয়ে দাও। যেটা ইচ্ছে খুলে দিও। ওকে গাইজ, আমি এখন ঘুমাতে যাচ্ছি। রাধা কাল আসছে। তাই ওর সামনেও ঘুমন্ত থাকতে চাই না।” এরপর কলিনের দিকে তাকিয়ে বলল, “আর কাল সকালে ইমরানের সাথে আমাদের মিটিং আছে।”
কলিন মাথা নাড়তেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল বিজয়।
এরপর এলিসের দিকে তাকাল, “ওয়েল, একেবারে খারাপ কিছু হয়নি, কী বলো?”
“আমাকে রাধা সম্পর্কে আরো কিছু বলো তো?” জিজ্ঞেস করল এলিস, “ও দেখতে কেমন?”
ভ্রু-কুঁচকে ফেলল কলিন। যতটা সহজ ভেবেছিল মনে হচ্ছে ভবিষ্যৎ ততটা সহজ হবে না।
.
১৩. জোনগড় কেল্লা
“মর্নিং” ডাইনিং রুমে ঢুকতেই বিজয়ের মেজাজ খিঁচড়ে গেল। কলিন আর এলিসের ব্রেকফাস্ট এখনো শেষ হয়নি। ব্যাড টাইমিং। যে কোনো মুহূর্তে রাধা এসে পড়বে।
চেশায়ার বিড়ালের মত দাঁত বের করে হাসল কলিন। এতদিনে এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে বিজয়। কিন্তু ব্রেকফাস্ট টেবিল থেকে এলিসের হাসি দেখেই নিজেকে শান্ত করতে বেগ পেতে হল।
“তোমার ঘুম ভালো হয়েছে? উদ্বেগ নয় বরঞ্চ ভদ্রতা রক্ষায় জানতে চাইল এলিসের কাছে। যদিও গতরাতের আলোচনার পর থেকে মাথার মাঝে কয়েকটা ব্যাপার ঘুরছে।
মাথা নাড়ল এলিস। “উমম হুমম। থ্যাংকস। তোমার?”
উত্তর দিল না বিজয়। গতরাতের কথাগুলো ভাবছে। “আচ্ছা তুমি বলেছিলে যে সমাধিতে একটা আইভরী কিউব পেয়েছ?” মুখ ভর্তি মাসালা ওমলেট আর পরোটা নিয়ে জিজ্ঞেস করে উঠল।
হা হয়ে মুখ তুলে তাকাল এলিস। গত রাতের আলোচনার পর তো মনে হয়েছিল যে গ্রিসে ওর অভিজ্ঞতা নিয়ে বিজয়ের কোনোই আগ্রহ নেই।
“ইয়েস” তারপরও উত্তর দিল। “খোদাইকৃত শিলালিপিও আছে।”
“আর মারকো ফিরে এসে বলেছিল যে ড্যামন সেটা হোটেলে নিয়ে যেতে বলেছে?”
“দ্যাটস রাইট।” বিজয় কেন এতটা চিন্তা করছে ভেবে অবাক হয়ে গেল এলিস।
“তারপর তুমি কিউবটাকে নিয়ে কী করেছ?”
“আমার ব্যাকপ্যাকে রেখে দিয়েছি।” কী বলেছে ভাবতেই শক্ত হয়ে গেল এলিস। আতঙ্ক আর অস্থির হয়ে ছোটাছুটির মধ্যে ভুলেই গিয়েছিল যে কিউবটা এখনো ওর সাথেই আছে। কন্টেইনারের ভেতর ভরে ব্যাকপ্যাকে করে ভারতেও নিয়ে এসেছে।
“তার মানে ওরা এটাই চায়।” বিড়বিড় করে উঠল বিজয়, “দ্য কিউব।”
মাথা ঝাঁকাল এলিস। তপ্ত গনগনে ইস্ত্রির ছ্যাকা খাওয়ার মত করে মনে পড়ে গেল দুই রাত আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো। “ওরা আমার পিছনে লেগেছে কারণ আমি সমাধিটা দেখেছি। মারকোর অন্য কোনো দোষ ছিল না। কেবল আমাদের সাথে থাকা ছাড়া। তাই ওকেও মেরে ফেলল। সেই সন্ধ্যায় ওখানে যারাই ছিল তাদের সবাইকে খুন করে ফেলেছে।”
এবারে চিন্তিত ভঙ্গিতে বিজয় জিজ্ঞেস করল, “আর তোমার ল্যাপটপ আর ক্যামেরা?”
“হোটেলের রুমে ফেলে এসেছি।”
“তাহলে তো তারা সমস্ত আর্টিফ্যাক্টের ছবি পেয়ে যাবে।” দ্বিধায় পড়ে গেল বিজয়, “কিছুই তো বুঝতে পারছি না।”
বড় বড় হয়ে গেল এলিসের চোখ। “না, পাবে না। ল্যাপটপে ছবিগুলো আপলোড করার টাইমও পাইনি। ভেবেছিলাম পরে করব তাই মেমোরি স্টিক বের করে কোমরের পাউচে রেখেছি। এখনো সাথেই আছে।”
ঊরুতে চাপড় মারল বিজয়, “এইতো পাওয়া গেছে। কিউবটাই হল যত নষ্টের গোড়া।” জোর দিয়ে বলল, “এখানে দুটো কারণ আছে। প্রথমত, পুরো কালেকশন থেকে একমাত্র কিউবটাই মিসিং। ওদের কাছে ছবিও নেই। তার মানে অরিজিন্যালটাই দরকার। ঠিক?”
“রাইট” বিড়বিড় করে উঠল এলিস। এখনো সন্দেহে দুলছে মন।
“দ্বিতীয়ত, তুমি বলেছ যে একেবারে সবার শেষে ট্যাবলেট আর মূর্তিগুলোর পেছনে কিউবটাকে পেয়েছ। ততক্ষণে ড্যামনও চলে গেছে।”
“দ্যাটস রাইট।” বিজয় কোন দিকে যাচ্ছে বুঝতে পারল এলিস। “তুমি অবাক হচ্ছ যে না দেখেও ড্যামন এটার কথা কিভাবে জানলেন? হতে পারে হয়ত গোপন চেম্বারে অন্যান্য আর্টিফ্যাক্ট গুলো পরীক্ষা করার সময় দেখেছেন।”
মাথা নাড়ল বিজয়। “না, তা না। আমি ভাবছি কো-ডিরেক্টরেরা সমস্ত কিছু সরিয়ে ডিগ হাটে নিয়ে যেতে বলেছিল। তাই তো?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে ড্যামন কেন শুধু কিউবটাকে নিয়ে হোটেলে যাবার কথা বলল? এটার বিশেষত্বই বা কী? আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল মারকো বলেছিল যে ড্যামনের তোমাকে কিউবটা হোটেলে নিয়ে আসার কথায় বেজায় রেগে গিয়েছিল স্ট্যাভরস। তার কথানুযায়ী ড্যামনেরই নিয়ে আসা উচিত ছিল। তার মানে ড্যামনকে কিউবের গুরুতু জানিয়ে হোটেলে নিয়ে আসার আদেশ দেয়া হয়েছিল। এখান থেকে উদয় হচ্ছে আরো কয়েকটা প্রশ্ন না দেখেও কিভাবে পিটার, স্ট্যাভরস কিংবা অন্য কেউ জানল যে সমাধিতে কিউবটা আছে?”
