“আচ্ছা আমাকে একটু বুঝতে দিন” ধীরে ধীরে বললেন ইমরান, “আপনি বলছেন যে, এই লোকগুলো চার থেকে পাঁচ বছর আগে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। কোনো একভাবে মানব প্রোটিনের মাধ্যমেই এ ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘকাল ব্যাপী টিকে থাকতে পারে। আবার একই সময়ে এগুলো এমন কিছু বায়োফিল্ম তৈরি করে যার মাধ্যমে সেল মিডিয়েটেড ইমিউন রেসপন্স কিংবা সিএমআই থেকে সুরক্ষা পায়। তাই লক্ষ করার মত ইনফেকশনের কোনো চিহ্নই দেখা যায় না।”
“কারেক্ট।” প্রথমবারের মত হাসলেন রয়সন। দেখা গেল নিয়মিত ধূমপানের ফলে কালো হয়ে যাওয়া দাঁতের সারি। “আর কখনই হঠাৎ করে কিছু একটা, হয়ত সি এম আই’র দুর্বলতা কিংবা অন্য কোনো ট্রিগার ফ্যাক্টরের কারণে ব্যাকটেরিয়ার রস সক্রিয় হয়ে বিষ ছড়াতে থাকে। যার ফলে হাই ফিবার, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, প্রচণ্ড পেটের ব্যথা, চরম অবসন্নতা, চিত্তবৈকল্য, শারীরিক শিথিলতাজনিত প্যারালাইসিস দেখা দেয়। সাধারণত এসব চিহ্ন ফুটে উঠার কয়েকদিনের মাঝেই আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে।”
কথাগুলো হজম করার জন্য কয়েক সেকেন্ড নিলেন ইমরান।
কিন্তু প্যাটারসন এতটা সময় নিলেন না, “মনে হচ্ছে আপনার কথাই ঠিক কিরবাঈ। এই বেচারাদের উপর ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব আর কতদিনে তা প্রকাশ পায় তার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আর টেস্ট চালানো হচ্ছিল।”
“বায়োটেররিজম” বড় একটা নিশ্বাস ফেলে জানালেন ইমরান; বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে কেউ হিউম্যান সাবজেক্ট নিয়ে এরকম বীভৎস খেলা খেলতে পারে।
‘আ…ফট করে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসাটা বোধহয় ঠিক হবে না, তাই না?” এক আঙুল তুলে বাধা দিলেন রয়সন। “DNA-সিকোয়েন্সি আর হাতে থাকা প্যাথোজেনের জিন ব্যাংক চেক করার পরেই কেবল বলা যাবে যে এগুলো কি সত্যিকার অর্থেই কোনো নতুন ব্যাকটেরিয়া নাকি বর্তমান কোনো প্রজাতির সাথেও সম্পর্ক আছে। এছাড়াও ইনফেকশন ছড়ানোর জন্য দায়ী কারণটাকে চিহ্নিত করার জন্যও আরো অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।”
খারিজ করে দেয়ার ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন প্যাটারসন, “শিউর, শিউর। কিন্তু টাস্ক ফোর্সের প্রায়োরিটি হিসেবে একে গ্রহণ করা যায়। এই কারণে এই দলটাকে একত্র করা হয়েছে।”
“আর ভাইরাস?” হঠাৎ করেই মনে পড়ল যে রয়সন একটা ভাইরাসের কথাও বলেছিলেন।
মাথা চুলকালেন রয়সন, “আসলে এটা আরেকটা অদ্ভুত জিনিস।” আরো একবার চোখ নামিয়ে পেপারসগুলো পড়ে দেখলেন, “রেট্রোভাইরাস সম্পর্কে আমরা বেশি কিছু জানি না। বিস্ময়কর হল যে, কোনো ধরনের তীব্র ভাইরাস ইনফেকশনও দেখা যায়নি। হার্ড ড্রাইভের মেডিকেল ফাইলেও এ সম্পর্কে কিছু লেখা নেই। সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সবকটি টেস্টের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”
“ও.কে” নিজের কাগজপত্রগুলো একসাথে করে সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখলেন ইমরান। যতটুকু মনে হচ্ছে কনফারেন্স শেষ। তার আরো কিছু কাজ আছে। “গাইজ, যত দ্রুত সম্ভব সিডিসি’র উপসংহারমূলক মন্তব্য পেলে ভালো হয়। এরই মাঝে সিয়াটলের টাইটানের সাথেও কথা বলেছি। কিন্তু নতুন মলিকিউল সম্পর্কিত তাদের গবেষণার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সাহায্য করা ব্যতীত আর কিছু জানে না বলেই দাবি করছে। অন্যদিকে বিল্ডিংয়ের মালিকপক্ষ বলছে তারা শুধু টাইটানকে লিজ দিয়েছে। এর ভেতরকার অপারেশন সম্পর্কে তারা কিছু জানে না। তার মানে কেউ ব্যক্তিগতভাবে এ অপারেশন চালাচ্ছিল।”
প্যাটারসনকে চিন্তিত দেখাল। রয়সনও অবাক হয়ে গেলেন। “সিয়াটল নিয়ে কাজ করার ব্যবস্থা আমি করছি।” প্রমিজ করলেন প্যাটারসন, “যদি কোনো কানেকশন থাকে তাহলে তা অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে।”
নিজের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলেন ইমরান। মনে মনে সাজিয়ে ফেললেন নিজের প্ল্যান। এর আগে এ ধরনের কঠিন কেস তেমন একটা পাননি। তবে
একটা ব্যাপার একেবারেই পরিষ্কার।
চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে বায়োটেররিস্টের দল।
ভারতে।
তার নাকের ডগায়।
অথচ কোথায় খুঁজতে হবে সেটাই জানেন না।
.
জোনগড় কেল্লা
দশ মিনিট আগে খুঁজে পাওয়া ফাইলটাকে নিয়ে বসে আছে বিজয়। লেবেলটাই বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। কোনো লেখা নেই। কেবল “…”
তাই স্বভাবতই কার্টনের অন্য ফাইলগুলো থেকে এ ফাইলটাকে আলাদা করে নিয়ে পাতা ওল্টাতে বসেছে। বেশিরভাগ কাগজই বাবার হাতে লেখা নোট কিংবা নিউজপেপার আর্টিকেলের ক্লিপিংস। লেখা আছে সারা দেশ ব্যাপী খনন করা বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটের নোটস আর ডায়াগ্রামস। রেকর্ডের কোনো লিপিবদ্ধ তথ্য। কেবল বিভিন্ন ডাটা। মনে হচ্ছে যেন বাবা এ সমস্ত খননকাজের ডাটা একসাথে করে এখানে রেখে দিয়েছেন; গুগল কিংবা উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহ করেছেন। তবে যখন এই ফাইল তৈরি হয়েছে তখন তো উইকিপিডিয়ার জনুই হয়নি। পেজ আর ব্রিনও ক্যালিফোর্নিয়ার গ্যারাজেই সীমাবদ্ধ ছিল।
তাহলে এই পাতাগুলোকে ফাইলবন্দী করার সময় বাবার মাথায় কোনো চিন্তা ঘুরছিল? এতগুলো তথ্য জড়ো করার জন্য যে অসম্ভব খাটতে হয়েছে সেটা তো বলাবাহুল্য।
বিজয় কিছুই বুঝতে পারছে না। তাই পেপারসগুলো পড়তে শুরু করল। দেখা যাক বাবার চিন্তা-ভাবনার ধাচ বোঝা যায় কিনা। আর এতটা গুরুত্ব দিয়ে কেন এগুলোকে জড়ো করা হয়েছে সেটাও জানা যাবে।
