তখন থেকেই প্রতিদিন এ ঘরে এক থেকে দু’ঘণ্টা করে কাটায়। কার্টন হাতড়ে বের করে পড়ে পেপারস আর জার্নাল। বুঝতে চায় বাবা-মায়ের দর্শন যা টিনএজ থাকাকালীন মোটেও পাত্তা দেয় নি।
এ উদ্দেশ্যে লাগানো ল্যাম্পের সুইচ অন করে একগাদা কাগজপত্র নিয়ে এসে বসল ডেস্কে। আজ রাতে কি এমন কিছু পাবে যা গত কয়েক রাতে পায় নি?
২. দ্বিতীয় দিন
ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো হেডকোয়ার্টার, নিউ দিল্পি
ভিডিও ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অ্যাংগেল অ্যাডজাস্ট করে নিলেন ইমরান। অপেক্ষা করছেন প্যাটারসনের জন্য। কয়েক ঘণ্টা আগে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের লিডারকে ফোন করার পর ভদ্রলোক বেশ বিরক্ত হয়েছেন। কারণ ওয়াশিংটনে এখন ভোর। ইমরান তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেছেন। কিন্তু আইবি অফিসারের মনে হয়েছে যে অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। হাতে আসা সূত্র ধরে এগোবার জন্য প্রস্তুত। আর যদি এর জন্য ইন্দো-ইউএস টাস্ক ফোর্সের লিডারকে মাঝ রাতেও ঘুম থেকে জাগাতে হয়, তিনি তাই করবেন।
ইমরানের পাঠানো ইমেইল দেখেই মন বদলে ফেললেন প্যাটারসন। এক ঘণ্টার ভেতরে ভিডিও কনফারেন্স করার জন্য রাজি হয়ে গেলেন।
কেঁপে কেঁপে জীবন্ত হয়ে উঠল টেলিভিশনের পর্দা। বাক্সের অর্ধেক পর্দা জুড়ে দেখা গেল প্যাটারসনের কঠোর চেহারা। বাকি অর্ধেকে এক পাড়ুর মুখাবয়ব। হালকা গড়নের লোকটার মাথার পাতলা চুলগুলোও ধূসর রঙা। ইমরান জানেন ইনি কে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল আর প্রিভেনশনের ওয়াশিংটন অফিস থেকে ডা. হ্যাংক রয়সন। কনফারেন্স নিশ্চিত করে ইমেইলে রয়সন আসার সম্ভাবনাও জানিয়েছিলেন প্যাটারসন।
“মর্নিং” আমেরিকান দুজনকে অভিবাদন জানালেন ইমরান।
“মর্নিংএকযোগে উত্তর দিলেন অপর প্রান্তের দুইজন।
“ডা, রয়সন, এতটা শর্ট নোটিসে কনফারেন্সে যোগ দেবার জন্য ধন্যবাদ। সোজা পয়েন্টে চলে এলেন প্যাটারসন, “কিরবাঈ যেটা পাঠিয়েছে প্লিজ সেই রিপোর্টের উপর আপনার মন্তব্য বলুন।”
“ওয়েল” খুকখুক করে গলা পরিষ্কার করে শুরু করলেন রয়সন, “প্রথমত, আপনাদেরকে বুঝতে হবে যে রিপোের্টগুলো বেশ প্রাথমিক পর্যায়ের আর তাই কোনো সিদ্ধান্তেই পৌঁছানো যায়নি। তবে টক্সিকোলজী রিপোর্টস আর ডিএনএ সিকোয়েন্স করাটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আমাদের কাছে যা আছে তা হল প্রাথমিক টক্সিকোলজী রিপোর্ট আর পলিমেরাজ চেইন রিঅ্যাকশন টেস্টিং অর্থাৎ পিসিআর টেস্টিং এর ফলাফল। যার মাধ্যমে ডিএনএ টার্গেট সিকোয়েন্স পূর্ণতা পায়।”
“পিসিআর টেস্টিং কী তা আমরা জানি” বাধা দিলেন প্যাটারসন, “রিপোর্টস সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানাটাই বেশি জরুরি।”
অসন্তুষ্ট হয়ে ক্যামেরার দিকে তাকালেন রয়সন, “মিঃ কিরাবাঈ এর সাথে পরিচিত কিনা আমি জানি না।”
“ওয়েল, রিপোর্টগুলো দেখে আর গুগলে সময় কাটিয়ে আমি খানিকটা জেনে নিয়েছি” হেসে ফেললেন ইমরান, “কিন্তু আপনি এতটা ভেবেছেন তাই ধন্যবাদ।” ভাবলেন যাক, প্যাটারসনের তিক্ত ব্যবহারের খানিকটা ভরসাই করা গেল।
নাক সিটকালেন রয়সন, “তো তাহলে ব্যাপারটা হল কি যদিও বেশ জটিল। আমাদের কাছে অনুমানের ভিত্তিতে বলছি-পূর্ব থেকেই এক ধরনের আনআইডেন্টিফায়েড ব্যাকটেরিয়াম আর অজানা একটা রেট্রোভাইরাস আছে। প্রতিটা স্যাম্পলেই এ দুটোর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।” আবারো একদৃষ্টে ক্যামেরার দিকে তাকালেন, “আপনার পাঠানো স্যাম্পলগুলো নিয়ে সিডিসি আমাদের নিজস্ব কিছু পরীক্ষা করার পরেই এই ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে খুব বড় কোনো ভুল হয়নি।” চোখ নামিয়ে রিপোর্টগুলো চেক করে আবার ক্যামেরার দিকে তাকালেন,
“ব্যাপারটা সত্যিই বেশ অদ্ভুত। ব্যাকটেরিয়া স্বাস্থ্যবান সব বায়োফিল্ম তৈরি করেছে, যেখানে সেলগুলোর চারপাশে বিপুল পরিমাণে ম্যাট্রিক্স ম্যাটেরিয়াল থাকায় ইমিউন রেসপন্স থেকে সুরক্ষা পাচ্ছে। প্রাথমিক টক্সিকোলজী রিপোর্ট নির্দেশ করছে যে, ব্যাকটেরিয়া প্রচুর টক্সিন বমি করছে ফলে মৃত্যু অনিবার্য।” এবারে ইমরানকে বললেন, “মিঃ কিরবাঈ, আপনি এই স্যাম্পলগুলো কোথা থেকে পেয়েছেন?”
গত রাতের ঘটনা খুলে বললেন ইমরান, “ফ্যাসিলিটিতে পাওয়া কয়েকটা র্যানডমলি সিলেক্টেড মৃতদেহ থেকে। আর হার্ডডিস্ক থেকে যেটুকু ডাটা উদ্ধার করতে পেরেছি, আপনারা হয়ত দেখেছেন, সেই মেডিকেল হিস্ট্রিতেও রিপোর্টের মতই একই ইনফরমেশন লেখা আছে।”
মাথা নাড়লেন রয়সন, “হ্যাঁ। আপনার পাঠানো মেডিকেল হিস্ট্রি আর এ রিপোর্টগুলোর উপসংহার প্রায় একই। আর ইনফেকশনের কারণে মৃত্যুবরণ করা লোকগুলোও কয়েকটা ফাইলের মালিক। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, মেডিকেল ফাইল অনুযায়ী প্রাথমিক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের চার থেকে পাঁচ বছর পরে তারা মারা গেছেন। তার মানে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হবার পরপরই এ রোগীদেরকে ডরমিটরিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন কোনো সেল যেখানে ইনফেকশনটা আবদ্ধ ছিল কিন্তু পুরোপুরি খতম হয়নি। তাই এটা স্পষ্ট যে মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি প্রোটিনকে নতুন করে বানাবার ক্ষমতা আছে এই ব্যাকটেরিয়ার ক্রমানুযায়ী পুনঃপুন বেড়ে উঠলেও ক্লিনিক্যাল কিংবা লক্ষণাত্বক কোনো প্রভাব দেখা যায় না।”
